শিরোনামঃ-


» গ্রেনেড হামলা মামলার পেপারবুক আনা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে

প্রকাশিত: ১৬. আগস্ট. ২০২০ | রবিবার

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার পেপারবুক আনা হয়েছে ।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানিয়েছেন
বিজি প্রেসে থেকে তা রোববার সুপ্রিম কোর্টে আনা হয় ।

১৬ বছর আগে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার মামলায় বিচারিক আদালতে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স (মৃতুধণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) শুনানির জন্য রয়েছে।

এ শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তত করতে হয়। ডেথ রেফারেন্স, আপিল, জেল আপিল, মামলার রায় ও যাবতীয় নথি পাঠানো হয় সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসে। সেখানেই পেপারবুকটি প্রস্তুত করা হয়।

ছাপা শেষে পেপারবুক সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট শাখা সেটি যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) করে চূড়ান্ত করে। এরপর প্রধান বিচারপতি তা শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এখন দ্রুত শুনানির জন্য মাননীয় প্রধান বিচারপতি পেপারবুক শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলে কার্যতালিকায় আসার পর তা দ্রুত শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে মেনশন করব। তার আগে প্রধান বিচারপতি যাতে অবিলম্বে বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন, এ ব্যপারে চেষ্টা করব।

বেঞ্চ নির্ধারণ হলে এই মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না- জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, “বেঞ্চে পাঠানোর পর এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়।

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়।

রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, খালেদার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

এছাড়া ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জল, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ।

পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।

তাদের দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহিদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, আরেক সাবেক উপ-কমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মো. রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরেকটি ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।

নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন লাগে।

সেই অনুমোদনের জন্য যে আবেদনটি (রায় ও মামলার নথিসহ) করা হয় সেটি ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত।

বিচারিক আদালতে রায়ের দেড় মাসের মাথায় ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার নথি হাই কোর্টে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র হাই কোর্টে দাখিল করা হয়।

হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় রায়ের কপিসহ মোট ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্ঠার এ নথি হাই কোর্টের রেকর্ড রুমে সংরক্ষণ করা হয়।

এর মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার রায় ৩৬৯ পৃষ্ঠার এবং হত্যা মামলার রায় ৩৫৬ পৃষ্ঠার।

এদিকে রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্তরা জেল আপিলের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিরা জেল আপিল করেন।

গত বছর ১৩ জানুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চে ৪৪ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে অর্থদণ্ড স্থগিত করে দেয়।

সেদিন উচ্চ আদালতের এই বেঞ্চ মামলার বিচারিক আদালতের নথিও তলব করে।

এরপর রোববার পেপারবুক এসে পৌঁছালো সুপ্রিম কোর্টে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৮ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031