» চাই বিকেন্দ্রিকরণ

প্রকাশিত: ২৯. মে. ২০১৯ | বুধবার

মাশরুরা লাকি

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে একটি অন্যতম সম্ভাবময়ী দেশ। এদেশে এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো কট্টরপন্থীর বসবাস নাই। এদেশে বড় কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা অথবা বড় কোন জঙ্গি হামলাও হয় নাই। যা হয়েছে তা কেবলমাত্র দু’একটা পরিকল্পিত বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সেটা অবশ্যই দুঃখজনক ! বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ, শান্তির দেশ এবং সোনার বাংলাদেশ।।

পদ্মাসেতুঃ পদ্মাসেতু যখন বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ হবে তখন ঢাকার সাথে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার এক অভিনব অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে। এটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। এ তো গেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরের বিষয়টাতে থাকছে, পদ্মাসেতু পাশেই তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঔষধ কোম্পানি। ভেবে দেখুন সেখানে কত লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে পারে। এছাড়া কৃষিখাতেও বিরাট বিপ্লব ঘটবে। কেননা কৃষক ওই এলাকাতেই বিশাল একটা বাজার দখল করতে পারবে। এছাড়া যারা ঢাকায় থেকে পরিবার সহ চাকরি করে তাদের বাড়িভাড়া গুনতে ২৫–৩০হাজার টাকা। ছেলেমেয়ের স্কুল-কলেজে পড়ালেখার খরচ, খাওয়ার খরচ। আর যদি বাবা/মা থাকেন তাহলে তো তাদের চিকিৎসার খরচ আছে। সবমিলিয়ে দেখা যায় ৫০-৬০ হাজার টাকা খুব টেনেটুনে চালিয়ে নিতে হয়। আমি বলতে চাচ্ছি, পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের পর অনেকেই গ্রামে চলে যাবেন। তারা নিশ্চয়ই গ্রাম থেকে প্রতিদিন ঢাকায় এসে অফিস করবেন। আর এতে করে অবশ্যই তাদের অন্ততঃ ২৫ হাজার টাকা বেঁচে যাবে।

শিক্ষাব্যবস্থাঃ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা/ শিক্ষানীতি একটাই হওয়া উচিত। গ্রামাঞ্চলে শিক্ষাব্যবস্থা একরকম, জেলাশহরে আরেকরকম এবং বিভাগীয় শহরের শিক্ষাব্যবস্থা একেবারেই অন্যরকম । যার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা অগ্রসরমান/উন্নতশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি প্রতিযোগিতায় তারা টিকে থাকতে পারছেনা। এছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জেলা পর্যায়ে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। তাহলেই মেধাবী ও উচ্চশিক্ষার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে এবং ঢাকামুখী হওয়া থেকে হ্রাস পাবে। আরো যেকাজটি করতে হবে সেটা হলো, প্রমিত বাংলা ভাষায় কথা বলতে হবে এবং বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাহলে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেকোন দেশে তাদের মত বিনিময় সহজ হবে। একই ভাবে চিকিৎসা সেবার মানও বাড়াতে হবে।যাতে করে সাধারণ চিকিৎসা নেয়ার জন্য কোন রোগীকে যেন ঢাকামুখী হতে না হয়।

বাড়িভাড়াঃ বাড়িভাড়ার সরকারিভাবে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যখন তখন ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালারা বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। এতে করে ভাড়াটিয়াদের উপর যে মানসিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতন করা হয় তা সত্যিই অমানবেতর। যখন থেকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে তখন থেকে উভয় পক্ষই এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

দ্রব্যমূল্য সহনশীলঃ বহুজাতিক কোম্পানিগুলি যখন তখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বাড়িয়ে থাকে। এগুলো দেখার মত কী কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে? আমার আসলেই জানা নেই। তার উপর ভেজাল পণ্যসামগ্রী, ফরমালিন যুক্ত মাছ-মাংস, শাক-সবজি, ফল-মূল ইত্যাদি। আর কত এভাবে চলতে পারে? শুধু রমজান মাসেই কেনো এই অভিযান হয়, সারা বছরব্যাপি এই অভিযান অব্যাহত থাকুক। সরকারি কর্মচারীদের অলস সময় না দিয়ে সারাবছর ব্যস্ত রাখুন। এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ঘনঘন ক্যাম্পেইন করুন। টেলিভিশন এবং স্যোসাল মিডিয়াতে প্রচারের ব্যবস্থা করুন। এমনকি কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর উপরও নজর রাখা উচিত। কীভাবে সাধারণ জনগনকে জিম্মি করে এদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এগুলো দেখার জন্যে নিশ্চয়ই গুটিকয়েক লোকেরই শুধু পকেট ভারি হচ্ছে। এদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার বাস্তবায়ন হোক এবং সাধারণ জনগণ মুক্তি পাক।

আইনের সুষ্ঠব্যবহারঃ আমাদের দেশে ক্রমশ যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে তা হলো ধর্ষণ। এর একমাত্র কারণ আইনের সুষ্ঠব্যবহার না থাকায়। একটা সময় নারীরা খুব বেশি পরিমাণে এসিড দগ্ধ হতো। সেটা বন্ধ হয়ে একমাত্র ফাঁসি কার্যকর করায়। আমি মনেকরি, ধর্ষণের জন্যও একই আইন কার্যকর করা হোক। এটা আমাদের সাধারণ মানুষের দাবি।

ঢাকার আসে পাশে যেসব জেলা আছে সেইসব জেলাগুলোর সাথে ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নত করা গেলে সারা ঢাকা শহর অর্ধেক ফাঁকা হয়ে যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার ক্ষুদ্রজ্ঞান থেকে আমি আসলে আপনাকেই এসব কথাগুলো বলেছি। আপনি আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার হিসাবে ডক্টর মাহাথির মুহম্মদকেও ছাড়িয়ে যাবেন, এটাই আশাকরি।( সমস্যা থেকেই সমাধান মিলবে। বাংলাদেশ আরো শক্তিশালী হোক, সমৃদ্ধ হোক এবং অর্থনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটুক।)

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৯ বার

Share Button

Calendar

October 2019
S M T W T F S
« Sep    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031