» চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় পদ্ধতি

প্রকাশিত: ২৪. জুন. ২০১৯ | সোমবার


মো. আবু নাছের

দেশে প্রথমবারের মত যানবাহনের টোল আদায়ে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হল। ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মেঘনা ও গোমতি সেতু ব্যবহারকারী যাত্রী ও পণ্য পরিবহণকারী যানবাহন এখন থেকে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন বা ইটিসি পদ্ধতিতে টোল দিতে পারবে। সম্প্রতি মেঘনা ও গোমতি টোলপ্লাজার আটটি লেনের একটি করে লেইনে ইটিসি চালু করা হয়েছে। 
এতে উন্নত বিশ্বের মত যানবাহনকে টোলপ্লাজায় থামতে হবেনা, প্রয়োজন হবেনা নগদ অর্থ প্রদানের। গাড়ি চলমান অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কর্তন করা হবে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে যেমনি সময় কমবে তেমনি হবে ব্যয়ের সাশ্রয়।

ইটিসি পদ্ধতিতে গাড়ির সামনের আয়নার উপরিভাগে সংযুক্ত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা আরএফআইডি ট্যাগের সাথে টোলগেটের এন্টেনার সংকেতের মাধ্যমে টোল আদায় হবে। যানবাহন টোলপ্লাজা পার হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত টোল কর্তন হবে ব্যাংক হিসাব হতে। টোল আদায়ের পরপরই ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে গ্রাহককে জানিয়ে দেওয়া হবে টোল আদায় এবং ব্যাংক হিসাব থেকে কর্তনের সর্বশেষ তথ্য। এ প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সর্বোচ্চ দশ সেকেন্ড সময় প্রয়োজন হবে। তবে ইটিসি সেবা গ্রহণের জন্য যানবাহনকে এর আগে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। আর এ কাজে প্রাথমিক পর্যায়ে সহযোগিতা দিচ্ছে ডাচ বাংলা ব্যাংক লি.।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের প্রায়শ টোলপ্লাজায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে টোল আদায় করা হয় বলে যানবাহনকে টোলপ্লাজায় থামতে হয়। একটি গাড়ি পার হলে অপরটি এগিয়ে আসে। এভাবে তৈরি হয় যানজট। তার ওপর নগদ টাকা দিতে হয় বলে অনেক সময় খুচরা টাকা থাকেনা। এতে সময়ও অপচয় হয়। এ সমস্যা উত্তরণে এবং মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকল্পে প্রাথমিক পর্যায়ে মেঘনা ও গোমতি সেতুর টোলপ্লাজায় একটি করে লেইনে এ পদ্ধতি চালু করা হল। জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে লেইন সংখ্যা বাড়ানো হবে। পরিবহণ মালিক, শ্রমিক এবং মহাসড়ক ব্যবহারকারীগণ দেশে এ পদ্ধতি’কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং নিজ নিজ পরিবহণের অনুকূলে টোল হিসাব খুলছেন।

ইটিসি সেবা গ্রহণের জন্য যানবাহনকে এর আগে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এ কাজে প্রাথমিক পর্যায়ে সহযোগিতা দিচ্ছে ডাচ বাংলা ব্যাংক লি.। এতে যানজট হ্রাসের পাশাপাশি যানবাহনের দীর্ঘলাইন কমার কারণে এভারেজ ওয়েটিং টাইম কমবে। যানবাহন পরিচালনা ব্যয় ও ভ্রমণ সময় হ্রাস পাবে। অধিক যানবাহন সংকুলানের কারণে লেন ক্যাপাসিটি তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে। যানবাহনের রিয়েল টাইম ডাটা সড়ক যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধনে সাহায্য করবে।

এ পদ্ধতিতে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড এর রকেট একাউন্টের মাধ্যমে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর একাউন্ট কার্যকর হলে টোল পরিশোধ করা যাবে। ট্যাগ একাউন্টে সম্পাদনকৃত প্রতিটি লেনদেনের পর গ্রাহকের সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএস আসবে। অনলাইনের মাধ্যমে এই একাউন্ট রিফিল করারও সুযোগ রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত করা হলেও মেঘনা এবং গোমতি সেতু দুটি দুলেনের। এতে সেতুমুখে গাড়ির চাপ তৈরি হওয়ায় অনিবার্যভাবে তৈরি হয় যানজট। ফলে চারলেনের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছিল না। এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে সরকার বিদ্যমান কাঁচপুর, মেঘনা এবং গোমতির সেতুর পাশে চারলেন বিশিষ্ট আরও তিনটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুটি ইতোমধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কাঁচপুর সেতু পার হয়ে সিলেট এবং চট্টগ্রামগামী যানবাহনের জন্য থাকছে আলাদা ব্যবস্থাপনা। সেতুর নীচ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ইউলুপ সড়ক। তৈরি করা হচ্ছে ফ্লাইওভার। এতে কাঁচপুর সেতু প্রান্তে কোনো যানজট তৈরি হবেনা।  

এদিকে শীঘ্রই মেঘনা নদীর উপর নবনির্মিত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় মেঘনা সেতু এবং মেঘনা সেতু ও গোমতী নদীর উপর নবনির্মিত প্রায় দেড়কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় গোমতী সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মেঘনা ও গোমতি সেতুদ্বয়ে ইটিসি’র এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু, চরসিন্দুর সেতু, কর্ণফুলী সেতু ও লালনশাহ সেতুসহ অন্যান্য সেতুতে পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা করেছে সড়ক পরিবহণ ও সেতু বিভাগ।

দেশের অর্থনীতির প্রধান আর্টারি ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক। এ মহাসড়ক দিয়ে সংযুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। যাত্রী ছাড়াও আমদানি রপ্তানি পণ্যের সিংহভাগ এ মহাসড়ক দিয়ে পরিবহণ হয়। এ মহাসড়কের গুরুত্ব এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে এ মহাসড়কের দাউদকান্দি হতে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একশ নব্বই কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীতে সাবলীল ও নির্বিঘ্নে যানবাহন প্রবেশ ও বের হতে এ মহাসড়কের যাত্রাবাড়ি-কাঁচপুর অংশ আটলেনে উন্নীত করা হয়েছে। 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৮ বার

Share Button

Calendar

November 2019
S M T W T F S
« Oct    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930