» চুঙ্গাপিঠার বাঁশ

প্রকাশিত: ১৮. জানুয়ারি. ২০১৯ | শুক্রবার

মৌলভীবাজার তথা সিলেট বিভাগের এক ঐতিহ্য শীতের পিঠা-সন্দেশ চুঙ্গাপিঠা । ছিঁটে-ফোঁটা এখনও আছে। এখনও দূর্গম পল্লী গাঁয়ের বাজারে শীতের আগমনে মানুষকে চুঙ্গাপিঠার পসরা নিয়ে বসতে দেখা যায়। হয়তো দু’এক বাড়ীতে এখনও রুটজ্বালানো হয়ে থাকে। সেই গহীন দূরের গাঁয়ে কোন কোন পল্লীবধু এখনও শীতের আগমনে চুঙ্গাপিঠা বা রুটের আয়োজন করে থাকেন। এক সময় ছিল, শীতের সময় বাড়ীতে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব এলে রুটপিঠা বা চুঙ্গাপিঠা তৈরীর আয়োজন করা হতো। শীতের রাতে রুট আর চুঙ্গাপিঠা জ্বালিয়ে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে বাড়ীর সকলে মিলে হৈহুল্লোড় এখন আর দেখাই যায় না।

চুঙ্গাপিঠার মূল উপাদান ডলুবাঁশ ও চালের গুড়ি। বাঁশকে তার জোড়ায় জোড়ায় খাড়ি করে কাটা হয়। প্রতি খাড়িতে সাধারণতঃ চালের গুড়ির সাথে নারিকেল, গুড় মিশিয়ে বাঁশ খণ্ডকে আগুনে পোড়াতে হয়। আগুনের তাপে ভেতরের উপাদান সুস্বাধু পিঠায় পরিণত হয়। বিভিন্ন মানুষ চালের গুড়ার সাথে বহু কিছু মিশিয়ে হরেক স্বাদের পিঠা বানিয়ে থাকেন। অনেকেই চাল ধুয়ে আস্ত চাল বাঁশে দিয়ে পিঠা তৈরী করেন। বিন্নিচাল দিয়ে বানানো রুট বা চুঙ্গাপিঠা সবচেয়ে মজাদার হয়ে থাকে। রুট সাধারণতঃ চালের গুড়ি দিয়েই বানানো হয়। চালের গুড়ির সাথে ঘি, এলাচি, লংমরিচ, সুলতানা এসব মিশিয়ে কলাপাথায় বেঁধে রুট পুড়ানো হয়। রুটের সুগন্ধ চারিদিকে মৌ মৌ গন্ধ ছড়ায়। পেটে ক্ষিধে বাড়িয়ে দেয়। রুটের সেই স্বাদ আধুনিক কোন খাদ্যেই পাওয়া যায় না।
মাছ বিরানের সাথে চুঙ্গাপিঠার স্বাধ সে অতুলনীয়।
মৌলভীবাজার তথা বৃহত্তর সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্য পিঠে-সন্দেশ এর অন্যতম এই রুটপিঠা ও চুঙ্গাপুড়া পিঠার চল দিন দিন কমে গিয়ে এখন প্রায় উঠে যাবার পথে। কয়েক দশক আগেও শীতের জন্মের সূচনা থেকেই বাঁশ সংগ্রহ শুরু হয়ে যেতো গাঁয়ে গাঁয়ে। এখন আর গাঁয়ের বাড়িতে বাড়িতে রুট বা চুঙ্গাপুড়ানোর আয়োজন চোখে পড়ে না। এই রুট আর চুঙ্গাপিঠার চল উঠে যাওয়ার মূল কারণের একটি হলো বাঁশ ও বিরইণ(বিন্নিচাল) চালের সরবরাহ একেবারে কমে যাওয়া। ডলু বাঁশতো এখন বলতে গেলে দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। মৌলভীবাজার তথা সিলেটের পাহাড় অঞ্চলে বন ও ভুমিখেকোদের দাপটে বনাঞ্চল দিন দিনই উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এখনও খোঁজাখুজি করে দেখলে কোন কোন পাহাড়ে ডলুবাঁশ ছিটেফোঁটা পাওয়া যায়। এখন থেকে এই বাঁশ সংরক্ষনের ব্যবস্থা নেয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় এ বাঁশটিও হয়তো চিরতরে পাহাড় থেকে হারিয়ে যাবে।

সূত্র . Muktokotha
M

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৯ বার

Share Button

Calendar

February 2019
S M T W T F S
« Jan    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728