» ছেলেধরা গুজবে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ২৪. জুলাই. ২০১৯ | বুধবার

রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা গুজবে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেপ্তার হয়েছে ।এই তরুণকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছেন।

এই ঘটনার মূল আসামি হিসেবে হৃদয়কে খোঁজার কথা জানিয়ে আসছিল পুলিশ।

হৃদয় উত্তর বাড্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দোকানে সবজি বিক্রি করেন বলে স্থানীয়রা জানায়। তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

গত শনিবার সকালে ওই স্কুলেই পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাসলিমা বেগম রেনুকে (৪২)।
একজন মা কেন মাঝ বছরে বাচ্চাকে ভর্তি করার তথ্য নিতে স্কুলে আসবেন- সেই সন্দেহ করেছিলেন কয়েকজন অভিভাবক।

সন্দেহ থেকে ডানা মেলে গুজব । বাইরে থেকে দল বেঁধে ঢোকে কয়েকজন কিশোর-তরুণ। উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচ তলার কলাপসিবল গেইটের তালা ভেঙে টেনে হিঁচড়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের করে আনা হয় দুই সন্তানের মা তাসলিমা বেগম রেনুকে।

স্কুলের গেইটে এনে মাটিতে ফেলে ‘ছেলেধরা’ আখ্যা দিয়ে যখন তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হল । চারপাশ ঘিরে ছিল শতাধিক মানুষ । তাদের অনেকেরই হাতে ছিল মোবাইল ফোন, সবাই ভিডিও করতে ব্যস্ত।

ওই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এর আগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হৃদয়কে নিয়ে সাতজন গ্রেপ্তার হলেন।

ওই ঘটনার ভিডিওতে হৃদয়কে রড হাতে নির্দয়ভাবে মধ্যবয়সী ওই নারীকে পেটাতে দেখা গিয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছিলেন, ভিডিও দেখে দেখে এই ধরনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে ‘মানুষের মাথা লাগবে’ বলে সম্প্রতি ফেইসবুকে গুজব ছড়ানো হয়, যাতে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সরকার। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) নেত্রকোণা শহরে এক যুবকের ব্যাগ তল্লাশি করে ‘শিশুর মাথা’ পাওয়ার পর তাকে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকাবাসী। এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে আক্রমণের ঘটনা ঘটছে।

এর মধ্যেই শনিবার তসলিমাকে পিটিয়ে মারা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তার মেয়েকে ভর্তির খবর নিতে ওই বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন।

তসলিমার বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন টিটো বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের ৪০০/৫০০ জনকে আসামি করে ইতোমধ্যে মামলা করেছেন।

ওই মামলায় হৃদয়ের আগে গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে জাফর নামে একজন সোমবার বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এছাড়া শাহীন (৩১), বাচ্চু মিয়া (২৮) ও বাপ্পী (২১) নামে তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই সোহরাব হোসেন জানান।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন আবুল কালাম আজাদ (৫০) ও কামাল হোসেন (৪০)।

গ্রেপ্তার সবাই উত্তর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬০ বার

Share Button

Calendar

February 2020
S M T W T F S
« Jan    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829