শিরোনামঃ-


» ছেলেবেলার ঈদ ও আজকের ঈদ

প্রকাশিত: ০৬. জুন. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার


শাহাদত বখ্ত শাহেদ
রোজা ঈদেই বেড়ানোটা একটু বেশী হয়। ঈদ এলে ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে। যখন স্কুলে পড়তাম তখন ঈদের আনন্দটা উপভোগ করতে পারতাম। যত বড় হতে থাকি আনন্দ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এখন এ বয়সে মনে আনন্দ থাকলেও তা আগেরমত উপভোগ করা যায়না। আনন্দ উপভোগের সাথে বয়সের সম্পর্ক রয়েছে। ছোটবেলার আনন্দের সাথে এ বয়সের আনন্দ মেলানো কোন ভাবে সম্ভব নয়। তার পরও মনে ঈদের আনন্দ লালন করি।
ছোটবেলায় বন্ধু বান্ধব নিয়ে আনন্দ করতাম। বিশেষ করে ঈদের নামাজ পড়ে নতুন কাপড়, জুতো পড়ে বাড়ির বড়দের সালাম করা দিয়ে আনন্দের কর্মসূচি শুরু করতাম। সালাম করার সাথে সাথে সালামির টাকা জমিয়ে পকেট ভরতাম। তার পর রিস্কায় চড়ে নানা বাড়ি, খালা,ফুফুদের বাড়ি বেড়াতে যেতাম সেখানেও খাবার, সালামি। তখনকার সময়ে যা সালামি পেতাম তা বর্তমানে নগন্য হলেও তখনকার সময়ে অনেক বেশি মূল্যমান ছিল।
আমরা বন্ধু বান্ধবরা সিলেটের জিন্দাবাজার বিচিত্রায় গিয়ে সেভেন আপ খেতাম। তখন সেভেন আপের বোতলের দাম ছিল ৬|= টাকা। আমরা একটি বোতল দু তিনজন মিলে ভাগ করে খেতাম। তখনকার সময় এই পানীয় ছিল সেরা। তার পর সিনেমা দেখা। ঈদের নতুন ছবি আসামি, মিন্টু আমার নাম, যে সিনেমার কথা এখনো মনে পড়ে।
লালকুঠি, দিলশাদ সিনেমা হল অনেক স্মৃতি বিজরিত। রংমহলে চাইনিজ ফাইটিং ছবি বিশেষ করে ব্রুসলির ছবি দেখতাম। তার পর দলবেধে পাড়ার মোড়ে আড্ডা। কেসেট প্লেয়ারে গান শোনা।
সন্ধ্যার পর থেকে বিটিভি খোলে মধ্যরাত পর্যন্ত ঈদ আনন্দ মেলা,সংগীতানুষ্ঠান, বাংলা সিনেমা দেখা। যে সিনেমাগুলো এখনো মনে দাগ কাটে,কাজল রেখা,সাত ভাই চম্পা, আলোর মিছিল সহ অনেক সিনেমা।
আজ ঈদুল ফিতর, মনে পড়ে যায় সেই সব দিনের কথা, আজ চোখে ভাসে সেইসব প্রিয়জনদের মুখ যারা এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন চিরকালের জন্য। আমার প্রিয় মা,বাবা,চাচা,চাচি,মামা,মামি,খালা,খালু,ফুফু,ফুফা,,বড় ভাই,ছোট ভাই,
পাড়ার অনেক স্বজনরা যারা আমাদের স্নেহ করতেন,ভাল কাজে আদেশ,মন্দ কাজে নিষেধ করতেন। আল্লাহ তা আলা তাদের যেন বেহেশ্ ত নসীব করেন। আমিন।
২. আজ মধ্য বয়সে এসে ঈদের দিন উপভোগ করছি বাচ্চাদের নিয়ে তাও বন্দী ফ্ল্যাটের জীবন। আমি বসে বসে বাচ্চাদের মাঝে ঈদের আনন্দ খুজছি।বাচ্চারা নতুন কাপড় জুতো পড়ে বেড়িয়ে পড়ছে এ বাসা ও বাসা। বাচ্চারা দুই ভাগে ভাগ হয়েছে একটি মেয়েদের গ্রুপ অন্যটি ছেলেদের। আমার ছেলে ছেলেদের গ্রুপে। দুই গ্রুপই ঘুরে ঘুরে এসেছে আমার ঘরে আমিও সালাম পেয়েছি সালামিও দিয়েছি বাচ্চাদের। সালামি পেয়ে তাদের মধ্য কি যে আনন্দ সেটা আমি আমার ছোট বেলার সাথে মিলিয়ে নিয়েছি।
দুপুরে খেয়ে ধেয়ে বেড়িয়ে পড়ি বেড়াতে। প্রথমে আমার নানাবাড়ি। সিলেট শহরের মধুশহীদ মাজারের আগে বিশাল এলাকা জুড়ে বাড়ি। শহরে এত জায়গা নিয়ে বাড়ি খুব কমই চোখে পড়ে। এক মামা মামি তাদের বিশাল সংসার ১৫ জন ছেলে মেয়ে। অথচ আজ বাড়ি প্রায় খালি। মামা মামি প্রয়াত হয়েছেন অনেক দিন হলো। ভাই বোন ১১ জনই দেশের বাইরে ইউরোপ আমেরিকায় শুধু দুই ভাই আছেন দেশে একজন ফরহাদ ব্যবসায়ি অন্যজন ডাঃ আব্দুর রকিব (ডেন্টিস্ট) তার স্স্ত্রী নিগাত সীমা। তিনি ডেন্টিস ৷ দুইবোন, সোহেলি আপা,আসমা তার পরিবার নিয়ে দেশে থাকেন।
নানা বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখাই আমার বাচ্চাদের। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি নানা বাড়ি নিয়ে। নানা বাড়ির যেখানটায় কামরাংগা,শরিফা,গোলাপজাম গাছ ছিল যেখানে আজ কিছু নেই। যেখানে পুকুর ছিল পাশে ছিল বাতাবি লেবু গাছ সেখানে উঠেছে ঘর। যেখানে আম গাছ সেখানে উঁচু দালান। সব আজ স্মৃতি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে রকিব নিয়ে গেল তার ডুপ্লেক্সে। কি কারুকাজময় সাজগোজ করা বাসা। রকিবের ছেলে অনিন্দ্য, মেয়ে মালিহা। তাদের ছোট সংসার। তারপর ঈদের আপ্যায়ন।
জম্পেশ আড্ডা। স্মৃতি রোমন্হন। কিছুক্ষণ পরে বড় বোনের ছেলে রাজু আসলো জমলো আবার আড্ডা। রাজু আইনজীবী। তার যৌক্তিক কথায় রসে ভরা। রাত নটা ডিনারের রিকুয়েষ্ট। অনেক কাকুতিমিনতি করে বেড়িয়ে পড়লাম।
তার পর সোজা অামার অস্হায়ি শ্বশুর বাড়ি মিরের ময়দানে। বড় শ্যালক নুরুল ইসলাম (ব্যবসায়ি,,) বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য ফেঞ্চুগঞ্জ ছেড়ে চলে আসেন সিলেটে। বড় মেয়ে অনুষা কলেজে, ছেলে অয়ন স্কুলে,ছোট মেয়ে অর্থনা নার্সারিতে ব্লুবার্ডে পড়ে।
সেখানে আড্ডা মেরে হালকা নাস্তা খেয়ে সোজা বাসায়।
আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন। বাসায় মেহেমানদের আপ্যায়ন,বিকেলে বেড়ানো এভাবে কাটবে ঈদের বাকি কটা দিন। তারপর কর্মস্থল, কর্মময় জীবনের পথ চলতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া।
৬ জুন ২০১৯
সিলেট।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৪৫ বার

Share Button