» জঙ্গিদের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে ঃস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২৮. জুলাই. ২০২০ | মঙ্গলবার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, জঙ্গিদের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে ।

কোরবানির ঈদ ঘিরে জঙ্গি হামলার আশংকা নেই । পুলিশ সতর্ক আছে ।

তিনি ঈদের তিন দিন আগে সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমি সব সময়ই বলেছি, জঙ্গি আমরা কন্ট্রোলে এনেছি, কিন্তু একদম সমূলে উৎপাটন করতে পারিনি।

ছোট ছোট ‘স্লিপিং সেল’ এখনও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। সেগুলোর কার্যকারিতা তেমন কিছু নেই। আমি মনে করি তাদের (জঙ্গি) সেই সক্ষমতা, দক্ষতা নেই। মাঝে মাঝে তাদের উপস্থিতি বোঝাবার জন্য কিছু কিছু ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম জঙ্গি হামলা হয়েছিল ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে। ওই হামলার কয়েকদিন পরই ৭ জুলাই শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল জঙ্গিরা।

এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে জঙ্গিনেতাদের প্রায় সবাই ধরা পড়েন কিংবা মারা পড়েন। তাতেই জঙ্গিদের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি।

তিনি বলেন, জঙ্গিদের উত্থানের একটা প্রচেষ্টা ছিল, দেশের অনেক জায়গায় জঙ্গির আবির্ভাব হয়েছিল। দেশকে সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য বানানো, অকার্যকর বানানোর একটা প্রচেষ্টা ছিল।

নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও অত্যন্ত ‘প্রফেশনালি হ্যান্ডেল’ করেছে। আজকে সেজন্য জঙ্গি বলুন, সন্ত্রাস বলুন, এগুলো থেকে দেশ রেহাই পেয়েছে।

কয়েক বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক স্টেটসের (আইএস) পতন ঘটার পর বিশ্বেই জঙ্গি তৎপরতা অনেকটাই কমে আসে।

তবে এর মধ্যেই বাংলাদেশে দুই-একটি বোমা বিস্ফোরণ কিংবা পেতে রাখার সঙ্গে জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতার কথা জানায় পুলিশ।

এবার কোরবানির ঈদ ও অগাস্ট মাস সামনে রেখে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সকল ইউনিটকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যেটা শুনেছেন, মাঝে মাঝে গোয়েন্দারা জানাচ্ছে। সেজন্য নিরাপত্তা বাহিনী যা যা পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেগুলো করছে।

পুলিশ, র‌্যাব সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সব সময় তারা (জঙ্গি) চিন্তা করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কিছু করবে, সেখানেও আমাদের নজর রয়েছে।

আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, যারা ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটিয়েছিল, তারা অনেক সময় দুঃস্বপ্ন দেখে। সেটা নিয়ে তারা অনেক ধরনের জল্পনা-কল্পনা করে, সেগুলোর কিছু অংশ গোয়েন্দা সংস্থা কিছু ইঙ্গিত পেয়ে থাকে।

এগুলো ‘সিরিয়াস’ কিছু নয়। তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। যে বার্তাগুলো আসছে তা নিছকই জানান দেওয়ার জন্য।

কূটনৈতিক এলাকা ও ধর্মীয় উৎসব স্থলসহ সব জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শনিবার রাতে রাজধানীর গুলিস্তানে স্টেডিয়ামের পাশে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের কাছে দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক সার্জেন্টের দাঁড় করিয়ে রাখা মোটরসাইকেলে কে বা কারা পলিথিন ব্যাগে বোমা রেখে যায়।

এর আগেও একই জায়গায় পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। সেই ঘটনার পেছনে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা সে সময় বলেছিলেন তদন্তকারীরা।

মহামারীর মধ্যে হাসপাতালে অনিয়ম ধরতে শুরু হওয়া অভিযান বন্ধ কি না- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যারাই এটা (করোনাভাইরাসের ভুয়া সনদ) করবে তাদেরকে ধরব, এটাই মূল কথা; অভিযান চলবে।

তবে আমাদের নির্দেশনা ছিল তথ্যভিত্তিক হতে হবে, কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়। এখন সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে।”

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে ৩৬৮ জনকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কারাবিধিতে যাবজ্জীবন অর্থ ৩০ বছর কারাদণ্ড (৯ মাসে বছর ধরা হয় বলে সেটা আসলে হয় ২২ বছর)। কিন্তু সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে আমৃত্যু কারাদণ্ডের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেল কোড অনুযায়ী যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে, এরমধ্যে আইন পরিবর্তন হয়েছে, সেই বিষয়ে আমি যাবো না। আমাদের প্র্যাকটিসে যেটা ছিল এক বছরে কতদিন জেল খাটলে বছর পূর্ণ হয় সেই হিসাব করে যাদের ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২২ বছরে জেলখানার ৩০ বছর পূর্ণ হয়।

৩০ বছর সাজা খাটা এক হাজার ৬০০ বেশি কয়েদির একটা তালিকা জেল কর্তৃপক্ষ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে কাউকে ছাড়া হয়নি। এর আগে ছাড়া হয়েছিল। এতদিনে পুঞ্জীভূত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা রয়েছে- ধর্ষক ও নৃশংস খুনী যাতে না ছাড়া হয়। আমরা সেই নির্দেশনা মাথায় রেখে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে এখন ৩৬৮ তে নিয়ে আসছি। তাদের মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪২ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031