» জনাকীর্ণ অবস্থা থেকে শরীরের দূরত্ব রক্ষা করা

প্রকাশিত: ২৬. মার্চ. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

তামান্না জেসমিন

দুঃখ লাগছে, কান্না আসছে। কখনো ক্রোধান্বিত, হতাশাগ্রস্থ। আনন্দ অনুভব করছি, হাসিও
পাচ্ছে। বিষাদ, অনুতপ্ত, আতংকিত হচ্ছি খুব।
জীবনের চরম বাস্তবতাকে অনুভব করছি এই করোনাময় নিদারুণ অবস্থায়। নড়েচড়ে বসেছি অস্তিত্বের প্রশ্নে।

একদিন বহু ভাইরাসের মাঝে এই করোনা থাকবেনা কিন্তু করোনার কারণে যে চরম শিক্ষা পেতে হলো তাঁকে আমাদের আশীর্বাদ স্বরূপ গ্রহন করতে হবে একদিন। করোনার বিনাশ না হতেই আমরা বুঝে গেছি জীবনের অত্যন্ত চরম বাস্তবতা এবং আসলে আমরা কতোটা অসহায়, নিরুপায়। ভুলে গেলে চলবেনা, প্রকৃতির শরীর ও মন আছে, আছে সহ্য বা ধারণ ক্ষমতা। যে প্রকৃতি একতরফা ভাবে আমাদের শুধু দিয়েই গেছে তাঁর উপর নির্বিচারে প্রতিনিয়ত কী পরিমান অত্যাচার, অনাচার করেছি, জুলুম করেছি। প্রকৃতি যা দিয়েছে তাঁর বিনিময়ে কিছুইতো দিইনি তাঁকে। কেবল লোভী, হিংস্র প্রানী হিসেবে বাড়িয়ে তুলেছি জনসংখ্যা, উজার করেছি প্রকৃতির সম্পদ, বন-জঙ্গল, নানারকম বন্যপ্রাণী। দুষিত করেছি নদীনালা, খালবিল, সাগর, আকাশ, বাতাশ। অথর্ব করতে চলেছি পরিবেশ, অস্তিত্ব আর ভবিষ্যৎকে করেছি অনিশ্চিত।

এই গ্রহে ক্রমবিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমানে আমরা নিজেদের সেরা প্রাণী হিসেবেই মনে করি। আমাদের মস্তিষ্কের নিউরন অনন্যা প্রাণী থেকে অনেকটাই উর্বর এবং আলাদা অথচ তা সত্যেও স্বার্থপরের মতন কেবল নিজের টুকু বুঝে পাওয়া নিয়েই আমরা ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছি, নিজ নিজ শক্তি বাড়াবার প্রয়োজনে বিশ্ব বিধংশী ব্যাবস্থার পিছনে হাজার হাজার বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছি, আমরা একে অন্যের জন্য হুমকি মনে করে নিজ নিজ নিরাপত্তার নামে পৃথীবিকে করে চলছি অস্বাস্থ্য, বিষাক্তময়। এগ্রহে মানবতার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে কল্পনাপ্রসূত বিশ্বাসের স্তম্ভ নানা প্রকার ধর্ম। সাম্প্রদায়িক কারনে আমরা পারস্পারিক ঘৃনার দেয়াল তৈরি করে অবস্থান নিই মানসিক দুরত্বের বাইরে। অথচ মানবজাতির সমস্ত দম্ভ, অহংকারকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়ে একটি দানব ভাইরাস আমাদেরকে যে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে তা অস্বাভাবিক তিক্ত অভিজ্ঞাতার বার্তাবাহক।

করোনা শিখিয়ে দিলো- মন থেকে মনের দূরত্ব নয় বরং জনাকীর্ণ অবস্থা থেকে শরীরের দূরত্ব রক্ষা করা। সুস্থ্যতার জন্য দুষণমুক্ত পরিবেশ, ব্যক্তিগত পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা, আত্মনির্ভরশীলতা, অন্যান্য প্রাণীর অস্তিত্বের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা, অস্বাভাবিক জনসংখ্যা রোধ সর্বপরি প্রকৃতিকে ভালবেসে লালন করা।

তারিখ: ২৬ মার্চ ২০২০

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১৪ বার

Share Button