» জাতীয় নেতা জিয়াউর রহমান: এমাজউদ্দীন

প্রকাশিত: ২৮. মে. ২০১৯ | মঙ্গলবার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার :

বছর বিশেষ আগে “জাতি এবং জাতীয় নেতা” শিরোনামে ছোট একটি নিবন্ধন লিখেছিলাম। তা প্রকাশিত হয়েছিল আমার লেখা “সমাজ ও রাজনীতি” বইটিতে। এই কথাগুলো এখন আবারও বলছি এ কারণে যে, গত বিশ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছি বটে। কিন্তু সমাজ চেতনায় যেখানে ছিলাম ঠিক সেইখানে আমরা এখনও রয়ে গেছি। এ সমাজে আমরা হৃদয়কে মস্তিষ্কের উপরে স্থান দিয়ে থাকি। যুক্তি অপেক্ষা আবেগকে মনে করি মহামূল্যবান যেখানে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার দ্বার উন্মুক্ত হওয়া উচিত সেখানে কার্পন্য করি।

বাংলাদেশ কিন্তু বহু কৃতি সন্তানের জননী। এ দেশ বহু জ্ঞানী-গুণীর স্পর্শধন্য। সেই বহু কৃতি সন্তানের জননীর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জিয়া শুধু কতক গুলো নাম নয়, এদেশের ইতিহাসের এক একটা অধ্যায় উজ্জ্বলতম অধ্যায়গুলোর মাঝে জিয়া অমর হয়ে আছেন। আজকের বাংলাদেশে যা কিছু গর্বের গৌরবের তা অন্যান্য বহু কৃতি সন্তান জননীর যেমন অবদান রয়েছে ঠিক সেইভাবে গৌরবের দৃষ্টান্ত স্থাপন হিসেবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হচ্ছেন জিয়াউর রহমান। তাহার অবদানের সৃষ্টি আকাশছোঁয়া মতো সুস্পষ্ট। ইতিহাসের ছোট ছোট ঘটনা জাতীয় গৌরববোধে জড়িত হয়েই হয় ঐতিহ্য। ঐতিহ্যকে ধারন করেই জাতি অগ্রসর হয়। যে জাতির ঐতিহ্য নেই সে দরিদ্র। তার ভবিষ্যত অনিশ্চিত অন্ধকার। আমাদের সমাজে বর্তমানে অতীতকে অনেকেই দেখেন সন্ধেহের চোখে।

এমাজউদ্দীন বলেন, জিয়াউর রহমান ও তার কল্যাণমূলক রাজনীতির মাধ্যমে বিশেষ করে সেই রাজনীতিতে জনগণকে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট করে এদেশের শত শত বছরের বঞ্চনাকৃত দুর্দশাগ্রস্থ ও অসহায় মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কানে কানে যখন বলেন, আমরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী। একবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ান এবং নিজেদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত তৈরী করেন এবং নিজেদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত তৈরী করেন। তখন তো বাধার সকল বিন্ধ্যাচল অপসারিত হতে বাধ্য। ১৯৭১ সালের ২৫ই মার্চের রাত্রে এ জাতীর ইতিহাসে সবচেয়ে কালো রাত্রি। সবচেয়ে তমসাচ্ছন্ন রাত্রি। সেই ঘোর অমানিশার মধ্যে অত্যন্ত আংশিক ভাবে বাংলার আকাশে এক নক্ষত্রের মত উদিত হলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। ২৫ এর সেই কালো রাত্রিতে পাকিস্থানি সেনাবাহিনী থেকে সদলবলে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে বেরিয়ে এলেন জনতার কাতারে জিয়াউর রহমান।

এমাজউদ্দীন আহমদ আরও বলেন -পরবর্তী সময়ে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বেতারকর্মীদের সহযোগীতায় তিনি জিয়া মহান স্বাধীনতার ঘোষণা উচ্চারন করেন। এ ঘোষণা ঐতিহাসিক। এ ঘোষণা প্রত্যয়দীপ্ত। সামনে চলার সাহসীকতাপূর্ণ আহ্বান। সমগ্র জাতি যখন পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর নির্মমতার স্তম্ভিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিক নির্দেশনাহীনতায় সম্মুখীন। সেই বিশৃঙ্খলা এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন মুহূর্তে জিয়ার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা সমগ্র জাতিকে ঘুরে দাড়াবার সাহস যোগায়। যোগায় সংগ্রামের অংশগ্রহনের স্পর্ধা। বিজয় অর্জনের সংকল্প হয় দৃঢ়তম। তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সৈনিকও বটে। তার নেতৃত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন স্বাধীনতা যুদ্ধের পথিকৃৎ। সেই হিসেবে পরিপূর্ণ দক্ষ একজন সৈনিক হিসেবে জাতীয় নেতা হচ্ছেন জিয়াউর রহমান।

বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন- খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিপদজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। খেচুরি ভাত খেয়ে বেঁচে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া গত এক সপ্তাহ যাবত খুবই অসুস্থ ঠিকমত খাবার খেতে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন- তার মুখে ঘাঁ হয়ে ফূলে গেছে। জিহ্বা নাড়াতে পারছেন না। তিনি শয্যাশায়ী । এই রমজানে জেলে তার অবস্থা বিপদজ্জনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে ।
বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন- আপনি অন্যায়ভাবে ” গণতন্ত্রের মা- ‘ কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জেলে বন্ধি করে রেখেছেন । তিনি বলেন খালেদা জিয়াকে বন্ধি করে মিডনাইট নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে চুড়ান্ত ভাবে সমাহিত করেছেন।

কচুঁয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শাহ মোঃ বোরহানের সভাপতিত্বে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো: সুমনের পরিচালনায় উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, জাতীয় স্বরণ মঞ্চ আহবায়ক প্রকৌশলী আ হ ম মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিক, ডিইউজে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় জনতা- ফোরামের আহবায়ক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার প্রমুখ।

এমাজউদ্দীন আহমদ আরো বলেন, জিয়াউর রহমান অবশ্যই সারা জীবনই সৈনিক রয়ে গেলেন। তিনি আমৃত্যু একজন সৈনিক। সৈনিক হিসেবেই তিনি এ জাতির জীবনে সবচেয়ে সংকটাপূর্ণ সময়ে আবির্ভূত হন। সৈনিক হিসেবেই তিনি সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহন করেন। পরিশেষে একটি ঘাতক গোষ্ঠির হাতে সৈনিক হিসেবেই শাহাদাত বরণ করেন। সারা জীবন তিনি সৈনিক রইলেন এবং কাটালেন যুদ্ধক্ষেত্রেই। তার জীবনে রণাঙ্গন বদলেছে। রণকৌশল পাল্টেছে। পাল্টেছে যোদ্ধাস্ত্রও। পাল্টায়নি শুধু তার সৈনিক জীবন। এদিক থেকে বিচার করলে বলা যায় উন্নয়নশীল বিশ্বে দেশপ্রেমিক সকল রাষ্ট্রনায়কই সৈনিক। জাতীয় অগ্রগতি অর্জনের জন্য প্রতি পদে পদে সৈনিকদের লড়তে হয়। লড়তে হয় কায়েমী স্বার্থের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের সর্বাধিক সম্বল ব্যয়ে যেন তা সম্ভব হয় সে সম্পর্কেও তিনি জিয়া সদা জাগ্রত ছিলেন। এ অর্থেও জিয়াউর রহমান একজন সৈনিক এবং বলতে কোনো বাধাবিভক্তি নেই। তিনি ছিলেন এক সকল সৈনিক ও’ শ্রেষ্ঠতম মুক্তিযোদ্ধাদের একজন তিনি। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জিয়াউর রহমান হচ্ছেন প্রধান সেনাপতি তিনি।

এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন আজকের এই অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে আয়োজন কারি ব্যক্তি- আমার প্রিয়ভাজন বর্তমান এই সময়ের দলের দূর্দিনের তৃনমূল নেতাকর্মীদের কান্ডারী, চাদপুর জেলার জনপ্রিয় বিএনপি নেতা, এই দলীয় কারণেই আ”লীগ সরকার’ যাহাকে চাকুরিচুক্ত্য করেছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৭৫ বার

Share Button

Calendar

December 2020
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031