» জামায়াত কানেকশনে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে পড়েছেন আহসানুল করীম

প্রকাশিত: ১৩. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে পড়েছেন এএনএফএল প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসানুল করীম ।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়া জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর রেখে যাওয়া প্রচুর সম্পদ তার কাছে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সহ সভাপতি আহসানুল করীম জামায়াতের অর্থ ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ আছে ।

এদিকে সদ্য প্রয়াত একজন সংসদ সদস্যের সুপারিশে চট্টগ্রাম ওয়াসার ভাণ্ডালজুড়ি প্রকল্পে সাব কন্টাক্টর হিসেবে কাজ করছেন আহসানুল করীম। তবে মীর কাশেম কানেকশনের খবর জানাজাানি হওয়ার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বোয়ালখালী প্রগতিশীল মহলে। এ কারণে গত ৫ ফ্রেব্রুয়ারি মিলিটারীপুল এলাকায় আহসানুলের প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয় বিক্ষুব্ধ জনগণ।

বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, ‘৯৬ সালের দিকে লাইব্রেরীর ব্যবসা করতেন আহসানুল করীম। সে সময় বেশ অস্বচ্ছল ছিলেন তিনি। পরে জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্রোকারি শুরু করেন। ৩-৪ বছর আগেও তাকে কেউ তেমন চিনতো না। হঠাৎ করে তার উত্থান। আহসানুল করীমের সম্পদ এখন ফুলেফেঁপে উঠেছে। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলুর ছোট ভাই হাসান মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সখ্যতার সুযোগ নিয়ে বোয়ালখালী, চান্দগাঁও এলাকায় এখন আহসানুল করীমের আধিপত্য।

এদিকে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন আহসানুল করীমের ব্যবসায়িক পার্টনার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির নেতা হাসান মাহমুদ চৌধুরী। সে সময় তার বিরুদ্ধে বোয়ালখালীতে দামি গাড়ির বহর নিয়ে শোডাউনসহ একদিনেই বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে অর্ধকোটি টাকা অনুদান দেওয়ার অভিযোগ উঠে। ওই নির্বাচনে হাসান মাহমুদ চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আহসানুল করীম।

গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় বদরবাহিনীর প্রধান মীর কাশেম আলী অন্তত ১৪ হাজার কোটি টাকার মালিক ছিলেন। ২০১২ সালের জুন মাসে গ্রেপ্তার হবার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া পর্যন্ত আর মুক্তি পাননি মীর কাশেম আলী। এ সময়ের মধ্যে নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো দেখভাল করার কোনো সুযোগ তার ছিল না। এ সুযোগে মীর কাশেমের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা নানাজনের হাতে চলে যায়। সেই টাকার একটি অংশ আহসানুল করীমের হাতে রয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দারা। এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রেখেছে তারা।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আহসানুল করীমের উত্থান রীতিমত বিষ্ময়কর। খুবই দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন আহসানুল করীম। এখন বিলাসবহুল জীবন-যাপন করছেন তিনি। কেউ তার কাছে ৫ টাকা অনুদান চাইলে দিচ্ছেন ১০ টাকা –এমন অবস্থা। বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে প্রায়ই মোটা অংকের টাকা বিতরণ করার অভিযোগ আছে আহসানুলের বিরুদ্ধে। জামায়াতের মীর কাশেম আলীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কিছু তথ্য-প্রমাণ আমরা পেয়েছি। এসব তথ্য বিস্তারিত যাছাই করা হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আহসানুল করীম বলেন, প্রকল্পের কাজ যে জন্য বন্ধ হয়েছে, সেটা সমাধান হয়ে গেছে। প্রকল্পের কাজ আবার শুরু হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যারা জামায়াত ও মীর কাশেম কানেকশনের অভিযোগ এনেছে তাদেরকে রিমান্ডে নিলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। অভিযোগ অনুসন্ধান করে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধও করেন তিনি।

জানতে চাইলে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেয়ামত উল্লাহ বলেন, মীর কাশেম আলী কানেকশনের কারণে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে আহসানুল করীমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে একটি পক্ষ তাদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে আহসানুল করীমের পক্ষে প্রকল্প ব্যবস্থাপক অসীম কুমার দাশ গত শনিবার সকালে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন । অভিযোগটি আমরা খতিয়ে দেখছি। মিলিটারি পুল এলাকার প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি বলে দাবি করেন ওসি নেয়ামত উল্লাহ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫৩ বার

Share Button

Calendar

April 2020
S M T W T F S
« Mar    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930