» জার্নি থ্রু ট্রাফিক জ্যাম

প্রকাশিত: ১৬. মে. ২০১৮ | বুধবার

 শেখর দেব

হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো। ঘুম ভাঙার পর বুঝা গেল অস্বাভাবিক কোন কারণে ভাঙেনি। এসি বাসের কম্বলের ওমে ভালোই ঘুম হয়েছে। গাড়ির পর্দা সরিয়ে গ্লাসের বাইরেরটা দৃশ্যমান হয়ে উঠলো। পুবে সুর্য উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। সদ্যজাত শিশুর মত ফর্সা হয়ে আছে চারপাশ। একদম স্বাভাবিক ঘুম ভাঙা দিন। তবে বাড়ির বদলে গাড়িতে।

গাড়ি কখন থেকে স্থির দাঁড়িয়ে আছে ড্রাইভার আর সুপারভাইজার ছাড়া হয়তো বাসের কেউ জানে না। এসির শীতল হাওয়া গ্রীষ্মের রাতেও সব যাত্রীকে শীতের আমেজ দিয়েছে। কম্বলের ওম আর শীতল পরিবেশে অনেক যাত্রী এখনো গভীর ঘুমে মগ্ন। বৈশাখ মাসটি ঝড়ো হাওয়ার মতোই শেষ হয়ে গেল যেন। কদিন আগে বৈশাখ উদযাপিত হলো। অথচ আজ বৈশাখের শেষ দিন। কাল থেকেই জৈষ্ঠ্য মাসের প্রতাপ শুরু হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটা ঝুপড়ি টাইপ চায়ের দোকান। চোখে পড়লো সেভেন আপের বিজ্ঞাপন। নিচে লেখা শুকলাল হাট, সীতাকুণ্ডু, চট্টগ্রাম। যাত্রির চোখ তো ছানা বড়া। সারা রাত কি গাড়ি চলেনি? নিঃসন্দেহে অশ্চার্যজনক ঘটনা। রাত এগারটায় জিইসি ছেড়ে আসা বাসটি এখনো সীতাকুণ্ড! কল্পনাই করা যায় না। সীতাকুণ্ডু না হয়ে কমলাপুর হলে তা স্বাভাবিক ছিল। এই অস্বাভাবিকতার কারণ খুঁজতে যাওয়া বোকামি হবে। সামনে সারি সারি দুই তিন লাইন গাড়ি। সবগুলো স্থির।
দুই তিনজন যাত্রী ব্যাগপত্র নিয়ে নেমেই গেলেন। ঢাকা আর যাবেন না। নিতান্তই যেতে হলে এয়ারে যাবেন। হাজার খানিক টাকা বাস ভাড়া বর্তমান সময়ে হয়তো খুব কম। হাজার টাকার মায়া ছেড়ে যাত্রীগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ইউটার্ন করে। টাকার চেয়ে সময়ের মূল্য অবশ্যই বেশি। ব্যাংকে পূর্বে জমানো টাকা চেয়ে চেক দিলে টাকা পাওয়া যায় কিন্তু সময় জমানো যায় না। আর চেক দিয়ে পূর্বের সময়ও কোন ব্যাংক দিতে পারে না। অর্থাৎ মানুষ কিছু কথা ভুল বলে- টাইম ইস মানি। আসলে হবে- টাইম ইস মোর দেন মানি।

এর মধ্যে শুকলাল হাটের সেই নামবিহীন ঝুপড়ি দোকানটি সরগরম হয়ে উঠেছে। এয়ার টাইড বাসে বাইরে থেকে ডিম ভাজা বা পরটা বানানো সুগন্ধ আসার কথা নয়। তবুও ঝুপড়ি দোকানে পরটা বানানো আর ডিম ভাজার দৃশ্য দেখে কেন জানি নাকে সুগন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মানুষের মস্তিষ্ক এক অদ্ভুত যন্ত্র। গন্ধও কি স্মৃতি থেকে সরবরাহ করা যায়? হয়তো বিভ্রম। হয়তো মস্তিষ্কে এমন কোন প্রক্রিয়া আছে। পূর্বের জমানো গন্ধের অভিজ্ঞতা থেকে গন্ধ সরবরাহ করছে! স্নায়ু রোগ বিশেষজ্ঞ নিশ্চই জানবেন। এটা কোন রোগ নয়তো আবার? একদিন জেনে নেয়া যাবে।

সকালের নাস্তা হিসেবে ডিম ভাজি আর গরম ছ্যাঁকা পরটা বিক্রি হচ্ছে দেদার। দোকানী এই পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। প্রচুর ডিম আর পরটা বানানোর জন্য ময়দার খামি রেডি রেখেছে। একই তাবায় বানানো হচ্ছে ছ্যাঁকা পরটা আর ডিম ভাজি। কুমিল্লার অভিজাত হোটেলে যাত্রাবিরতি হবার বদলে অঘষোতি যাত্রা বিরতি যেন এখানে।

অনেকে ক্ষুধার্ত। গরম গরম পরটা আর ডিম ভাজি মুখে নিয়ে গাল পুড়ে যাবার জোগাড়। মুখে গরম ডিম ভাজি আর পরটা পুরে দিয়ে অসহ্য গরমে আবার হাতে নিয়ে নিতে হচ্ছে। অনেকে মুখে পুরে কয়েক কামড় দিয়ে হা করে আছে। গরম ধোঁয়া বের হয়ে খাবার নালী সহনীয় ঠাণ্ডা করে নিচ্ছে। বেচারা টি-বয় আর কারিগরের মাথা পাগল হবার দশা। স্থির দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলোর যাত্রীরা সব সকালের কাস্টমার। হুমড়ি খেয়ে পড়েছে সবাই। অনেকে দাঁড়িয়েই খেয়ে নিচ্ছে বসার জায়গা না পেয়ে। কারিগর ডিম পরটা বানায় আর টি-বয় সার্ভ করে। হিসেব করে কে কয় টাকার নাস্তা খেলো। টি-বয়ের মুখে কোন শব্দ নেই শুধু কাজ। টি-বয়কে দেখে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার কথা মনে পড়ে। নিশ্চুপ লিখে যাওয়া। টো শব্দ করার সুযোগ নেই। মাঝে মাঝে সওদাগর ডাক দিচ্ছে- এই দিকে বিল কত? মাঝে মাঝে বিলের পরিমাণ বলে ডাকের সাথে সাথে সাড়া দিচ্ছে। আবার মাঝে মাঝে হিসেব করে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। এমন জটিল সিচুয়েশনে কখনো পড়েনি। এর মধ্যে পরটার খামির শেষ। নতুন করে খামির বানানো হচ্ছে।

গাড়ির যাত্রীরা গাড়ির এক গজ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য সময়ের পরিমাণ হিসেব করছে! কেউ বলছে তিন ঘন্টায় এক গজ। আবার কেউ বলছে দুই ঘন্টায় এক গজ। এই হিসেবের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ ফুটে উঠছে। এমন অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আগে কারো হয়নি হয়তো। এমনই বেহাল দশা।

বাসে দুজন বিদেশি যাত্রিও আছে। হয়তো স্বামী স্ত্রী অথবা বয় ফ্রেন্ড গার্ল ফ্রেন্ড। দুজনেই গভীর ঘুমে মগ্ন। হয়তো পশ্চিমের দেশ থেকে এসেছে। গায়ের রঙ স-মিল থেকে সদ্য চেরানো কাঁচা কাঁঠাল গাছের মতো। চুল পাতলা হালকা লাল। ঘুম ভাঙার পর এরা কী ভাবতে পারে?

সোনার বাংলার যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীরা বিভিন্ন কথা বলছে। একজন যাত্রী বললো- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটা উড়াইতে দেন যানজট কমে যাবে! কথাটা হাস্যকর। কয়েকজন হাসলেনও। অন্য একজন যাত্রী বিরক্তি নিয়ে তাদের দিকে তাকালো। সাথে সাথেই হাসি বন্ধ হয়ে গেলো। হয়তো হাসিটা নির্বুদ্ধিতা মূলক সেটা আঁচ করেই হাসিটা গিলে ফেললো। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সাথে এই যানজটের কোন সম্পর্ক নেই সেটা সহজে বুঝা যায়। একজন যাত্রী বিরোধী দলীয় নেত্রির উক্তি হিসেবে প্রচারিত ফেসবুকের একটি ছবি নিয়ে হাসাহাসি করলো। উক্তিটি এরকম- প্রধানমন্ত্রী এতো টাকা দিয়ে সাবমেরিন কিনলো তা ডুইব্বা গেলো, আর এখন এতো টাকা দিয়ে স্যাটেলাইট বানালো সেটা উইড়া গেলো! বিরোধী দলীয় নেত্রী সেটা বলেছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, ফেসবুকে হাসির খোরাক হয়েছে সেটাই বড় কথা।

সরকারি বিরোধী পক্ষের লোকগুলো মাঝে মাঝে এমন নির্বোধ উক্তি করে না তা নয়। একটি ভালো বিরোধী দল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখো। আমাদের শক্ত বিরোধী দলই নেই। রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেলো বাসে দু-একজনের মধ্যে। রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ, এরকম স্টিকার দেখা যায় বিভিন্ন চায়ের দোকানে। বিষয়টা খুব সেনসিটিভ। এদেশে রাজনীতি ব্যক্তি স্বার্থে করে সবাই। জনগনের নাম ভেঙে নিজের আখের গোছায়। স্বার্থ যেখানে প্রকট সেখানে খুনাখুনি কোন বিষয়ই না। কলিযুগে নাকি মানুষ মানুষের মাংস খেতেও দ্বিধা করবে না! তাই স্টিকারের এই বাণী।

বাস যেহেতু চায়ের দোকান না, সেহেতু আলাপ জ্বলে উঠতেই ধপ করে নিভে গেল কারণ আলাপের আগুনে ঘি ঢালবার মত অবস্থায় কেউ নেই। স্বাদে বাসের মধ্যে রাত কাটিয়ে এখনো বসে নেই কেউ। তাছাড়া এখনো চট্টগ্রাম থেকেই বের হতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া কেউ ঢাকা যাচ্ছে না। সবাই সেটা নিয়ে টেনশনে। রাজনীতি নিয়ে কথা বলা বেগার। তাছাড়া বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জন্য সর্বক্ষেত্রেই মঙ্গল। স্বল্প উন্নত দেশ থেকে আমরা উন্নয়নশীল হয়েছি। অর্থনৈতিক- সামাজিক বিভিন্ন সূচকেও এগিয়েছি। এখন দেশের সবার পকেটে টাকা। কেউ না-খেয়ে নাই। অবশ্য এসবেরও সমালোচনার অভাব নেই। বাঙালি ভালো সমালোচনা করতে জানে। নিখুঁত বিষয়েও যদি সমালোচনা করতে দেয় বাঙালিই ফার্স্ট হবে।

এক মৌলভি তাঁর লাল-কালো দাড়িতে তা দিতে দিতে পাশের যাত্রিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল- এ রকম যানজটের মূল কারণ কী? পাশের ভদ্রলোক একটু আগে ছটফট করছিল প্রাকৃতিক ডাকের চাপে। যদিও এক নম্বর ডাক। গাড়ি তো থেমেই আছে। সুপারভাইজারকে ডেকে অটো ডোরটা খুলতে বলেই নেমে পড়লো। নেমেই একটা টিনের ঘরের আড়ালে দাঁড়িয়ে কাজ শুরু করে দিল। কুকুর হলে নির্ঘাত পা একটা উপরে তুলে দিত! বিদেশি যাত্রীদ্বয়ের ঘুম ভেঙেছে অবশেষে। যানজটের বিষয়ে তারা কিছুই বুঝতে পারলো না। এই ভদ্রলোকের অবস্থা দেখে বিদেশি যাত্রী অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এভাবে সম্ভব! রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঘরের টিনের বেড়ায়? তার মুখ দেখে মনে মনে এই প্রশ্নই যে করছেন বুঝতে অসুবিধা হয় না। সেই ভদ্রলোক শান্তির জল বিসর্জন দিয়ে এসেছে মাত্র। ফুরফুরে মেজাজে মৌলভির প্রশ্নের উত্তর দিল ফেনিতে রেল ক্রসিংয়ের ফ্লাইওভারের কাজ চলছে তাই এই সমস্যা। ফোর লাইনের গাড়ি এক লাইনে চলছে। কুমিল্লা থেকে রোড একদম ফ্রি।

গাড়ি এবার রঙ সাইড দিয়ে চলা শুরু করলো। বিদেশি ভদ্রলোকের কাছে এটাও দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়ালো। হেলান দেয়া থেকে থতমত খেয়ে উঠে ভয়াল চোখে ড্রাইভারের কারিশমা দেখছে যেন। অথচ অন্য যাত্রীরা কতোটা স্বাভাবিক। যেন ড্রাইভার সঠিক কাজটিই এতক্ষণে করছে ভেবে নিশ্চিন্তে হেলান দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছে। কিছুদূর গিয়ে আবার থমকে দাঁড়ালো গাড়ি রঙ সাইডে।

বিদেশি ভদ্রলোক এবার গাড়ি থেকে নামলেন। কেন নামলেন? কোথায় গেলেন বুঝা গেল না। তবে এটা নিশ্চিত তিনিও প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেই নেমেছেন। হয়তো আগের ভদ্রলোককে দেখে তিনি জল বিসর্জনের প্রসেস আয়ত্ত করে নিয়েছেন। কথায় আছে যৎ কালে তৎ বিবেচনা।

এবার পাশের বিদেশিনী কথা বলে উঠলেন পেছনের ছিটের ভদ্রলোককে লক্ষ করে। যা বুঝা গেল তিন বল্লেন- হোয়াট হেপেন্ড হিয়ার? হিউজ ট্রাফিক! পেছনের ভদ্রলোক বয়স হয়তো ত্রিশ ছুঁই ছুঁই। অনাকাঙ্ক্ষিত এমন প্রশ্নের জবাব তৈরি করতে একটু ইতস্তত হয়েছেন বুঝা যায়। নিজের ভাষা নয় বলে কথা। তবুও সে উত্তর দিল- ফ্লাইওভার, মেকিং ফ্লাইওভার এট ফেনি। বিদেশিনী বুঝেছে কি বুঝেনি সেটা বুঝা যায়নি। তবুও বল্ল- ওহ্ ইয়া।

এর মধ্যে সকাল থেকে আরেকটা উৎপাত শুরু হয়ে গেছে। এয়ার টাইড বাসে যাত্রিরা যে যার মতো পশ্চাৎ দেশ নির্গত বায়ু ছাড়ার যেন প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে। ভাগ্যিস এসি ছিল। দ্রুতই দুর্গন্ধময় বায়ু বাইরে আউট হয়ে নির্মল বায়ু এসে জায়গা দখল করছিল। যে অল্পসময় এই দুর্গন্ধযুক্ত বায়ু বাসের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে নাকে হাত দেয়া ছাড়া উপায় ছিল না।

একটা চুটকি মনে পড়ে যাচ্ছে। দুই ভদ্রলোক হলে সিনেমা দেখার জন্য পাশাপাশি বসেছে। পাশের ভদ্রলোক সমানে বায়ু ত্যাগ করে যাচ্ছিলেন। আর অন্যজন বারবার সতর্ক করে বলছেন- ভালো হচ্ছে না কিন্তু! যতোবারই ভদ্রলোক ভালো হচ্ছে না কিন্তু বলেন ততবারই ত্যাগকারী তার দিকে তাকায়। আবার যখন বায়ু ত্যাগ করলেন, ভদ্রলোক একটু বিরক্তি নিয়ে বললেন- একদম ভালো হচ্ছে না কিন্তু! তখন ত্যাগকারী ভদ্রলোক বললেন- সরি ভাই, আমি অনেক চেষ্টা করছি এর থেকে ভালো আমি আর করতে পারছি না।

গাড়ি যখন থেমেই আছে, সবাই নামতে চাচ্ছে নিচে। কেউ খাবে, কেউ ত্যাগ করবে। অবশ্যই মানুষের জীবনে এই দুটাই প্রধান কাজ। খাওয়া ও ত্যাগ। একটা বন্ধ হলেই জীবন আর থাকবে না। বিদেশি যাত্রীর পাশ দিয়ে যাবার সময় কেউ কেউ তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। এক ভদ্রলোক হেসে জিজ্ঞেস করলেন- হাউ আর ইউ? বলে হাত বাড়িয়ে দিল। বিদেশি ভদ্রলোক- ফাইন বলে হ্যান্ডশ্যাক করলো। তবে তার মুখ দেখে আসলে একদম ফাইন নাই বুঝা যাচ্ছিল। অন্য আরেক ভদ্রলোক নামার সময় বিদেশিকে লক্ষ্য করে বললো- ভেরি পেইনফুল জার্নি। বিদেশি উত্তর দিল- ইয়া।

চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসার ১২ ঘন্টা অতিক্রম হলো। গাড়ি ফেনির নব-নির্মিত ফ্লাইওভারের কাছেও আসতে পারলো না। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে রঙ সাইডে। কিছুক্ষণ পর গাড়ি আবার চলতে শুরু করেছে। গাড়ি হঠাৎ নড়ে উঠায় এসির জল এসে পড়লো সাদা পাঞ্জাবি পড়া এক ভদ্রলোকের গায়ে। কয়েকজন যাত্রী হেসে উঠলো। বিদেশি ভদ্রলোকও হেসে উঠলো। কারো বিপদ দেখে হাসার স্বভাব শুধু বাঙালির নয় সেটা বুঝা গেল। ভদ্রলোক খুব অস্বস্থিকর অবস্থায় পড়ে সিট চেঞ্জ করলো। এর মধ্যে বিদেশিনী হাই তুললো। বিদেশী তার সিট পর্যাপ্ত হেলিয়ে একটু আড়াল করে তাকে কিস করে কম্বল জড়িয়ে দিল।

অবশেষে সেই ফ্লাইওভার পার করলো গাড়ি। এক যাত্রি বললো- উন্নয়নের জন্য একটু দখল সহ্য তো করতেই হয়। ঢাকা কমালাপুর এসে সবাই নামলো প্রায় ২২ ঘন্টা জার্নি শেষে।

১৩-১৫ মে, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩২০ বার

Share Button

Calendar

September 2018
S M T W T F S
« Aug    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30