শিরোনামঃ-


» জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা ২০১৭ এর ফল প্রকাশ

প্রকাশিত: ৩০. ডিসেম্বর. ২০১৭ | শনিবার

 

উপস্থিত সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ

আসসালামু আলাইকুম। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে ২০১৭ সালের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা ০১ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৮ নভেম্বর শেষ হয়। আজ প্রকাশিত হচ্ছে এর ফল। এ পর্যায়ে ২০১৭ সনের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলের কিছু উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরছি।
সকল বোর্ডের তথ্য
(০৮টি সাধারণ বোর্ড ও মাদরাসা বোর্ড)
ক্স অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৪,৮২,৩৪২ জন, যা গত বছর ছিল ২৩,৪৬,৯৫৯ জন বেড়েছে ১,৩৫,৩৮৩ জন।
ক্স পাস করেছে ২০,১৮,২৭১ জন, যা গত বছর ছিল ২১,৮৩,৯৭৫ জন কমেছে ১,৬৫,৭০৪ জন।
ক্স পাসের হার ৮৩.৬৫ গত বছর ছিল ৯৩.০৬ কমেছে ৯.৪১%
ক্স মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১,৯১,৬২৮ জন; গত বছর ছিল ২,৪৭,৫৮৮ জন কমেছে ৫৫,৯৬০ জন।
ক্স শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫,২৭৯ টি; যা গত বছর ছিল ৯,৪৫০ টি কমেছে ৪,১৭১ টি।
ক্স শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৯ টি, গত বছর ছিল ২৮ টি, বেড়েছে ৩১ টি।
ক্স মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮,৮২৪ টি, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৮,৭৪১টি, বেড়েছে ৮৩ টি।
ক্স মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২,৮৩৪ টি, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২,৭৩৪ টি, বেড়েছে ১০০ টি।
০৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য
ক্স অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ২১,০৩,৭৬৩ জন, যা গত বছর ছিল ১৯,৯৩,৩১৬ জন, বেড়েছে ১,১০,৪৪৭ জন।
ক্স পাস করেছে ১৭,০৭,০২৪ জন, গত বছর পাস করেছিল ১৮,৫১,৪৯৬ জন, কমেছে ১,৪৪,৪৭২ জন।
ক্স পাসের শতকরা হার ৮৩.১০, গত বছর ছিল ৯২.৮৯ কমেছে ৯.৭৯%
ক্স জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১,৮৪,৩৯৭ জন, গত বছর ছিল ২,৩৫,০৫৯ জন, কমেছে ৫০,৬৬২ জন।
ক্স শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩,৫৫৯ টি; যা গত বছর ছিল ৬,২৪৭ টি কমেছে ২,৬৮৮ টি।
ক্স শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪ টি, গত বছর ছিল ৮টি, বেড়েছে ২৬ টি।
ক্স মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯,৭৫০ টি, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৯,৬৮৫টি, বেড়েছে ৬৫ টি।
ক্স মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২,০৮০ টি, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২,০০২ টি, বেড়েছে ৭৮ টি।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য
ক্স অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ৩,৭৮,৫৭৯ জন, যা গত বছর ছিল ৩,৫৩,৬৪৩ জন, বেড়েছে ২৪,৯৩৬ জন।
ক্স পাস করেছে ৩,১১,২৪৭ জন, গত বছর করেছিল ৩,৩২,৪৭৯ জন কমেছে ২১,২৩১ জন।
ক্স পাসের হার ৮৬.৮০, গত বছর ছিল ৯৪.০২ কমেছে ৭.২২ %
ক্স জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭,২৩১ জন, গত বছর ছিল ১২,৫২৯ জন কমেছে ৫,২৯৮ জন ।
ক্স শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১,৭২০ টি, যা গত বছর ছিল ৩,২০৩ টি কমেছে ১,৪৮৩ টি।
ক্স শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৫ টি, গত বছর ছিল ২০টি বেড়েছে ৫ টি।
ক্স মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯,০৭৪ টি, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯,০৫৬টি বেড়েছে ১৮ টি।
ক্স মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৫৪ টি, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৭৩২ টি বেড়েছে ২২ টি।

বিদেশ কেন্দ্রের তথ্য
বিবরণ ২০১৭ ২০১৬ পরিবর্তন
অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ৫৯৯ ৬২৬ ২৭ কমেছে

উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৫৬২ ৬২৩ ৬১ কমেছে

অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৩৭ ০৩ ৩৪ বেড়েছে

পাসের শতকরা হার ৯৩.৮২ ৯৯.৫২ ৫.৭ কমেছে

জিপিএ ৫ এর সংখ্যা ৮৩ ৮৪ ১ কমেছে

১০০% উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান ৩ ০৬ ৩ কমেছে

১০০% অনুত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান ০ ০ অপরিবর্তিত
বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ০ ০ অপরিবর্তিত
কেন্দ্র সংখ্যা ৯ ০৮ ১ বেড়েছে

প্রতিষ্ঠান সংখ্যা ৯ ০৮ ১ বেড়েছে

২০১৬-২০১৭ সালের ছাত্র-ছাত্রী ভিত্তিক তুলনামূলক পরিসংখ্যান
ক্স এ বছর ছাত্র সংখ্যা ১১,২১,০২২ জন, যা গত বছর ছিল ১০,৯৬,৫২২ জন, বেড়েছে ২৪,৫০০ জন।
ক্স এ বছর ছাত্রী সংখ্যা ১২,৯১,৬৮৯ জন, যা গত বছর ছিল ১২,৫০,৪৩৭ জন, বেড়েছে ৪১,২৫২ জন।
ক্স এ বছর ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী ১,৭০,৬৬৭ জন বেশী অংশগ্রহণ করেছে।
ক্স এ বছর ছাত্র পাস করেছে ৯,৩৬,৭৩৩ জন, যা গত বছর ছিল ১০,১৮,৯১৯ জন, কমেছে ৮২,১৮৬ জন।
ক্স এ বছর ছাত্রী পাস করেছে ১০,৮১,৫৩৮ জন, যা গত বছর ছিল ১১,৬৫,০৫৬ জন, কমেছে ৮৩,৫১৮ জন।
ক্স এ বছর ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী ১,৪৪,৮০৫ জন বেশী পাস করেছে।
ক্স এ বছর ছাত্র পাসের হার ৮৩.৫৬, যা গত বছর ছিল ৯২.৯২ কমেছে ৯.৩৬ %
ক্স এ বছর ছাত্রী পাসের হার ৮৩.৭৩, যা গত বছর ছিল ৯৩.১৭ কমেছে ৯.৪৪ %
ক্স এ বছর ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী ০.১৭% বেশী পাস করেছে।
ক্স এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে ৮০,৮৯৮ জন ছাত্র, যা গত বছর ছিল ১,০৬,৩৪৫ জন, কমেছে ২৫,৪৪৭ জন।
ক্স এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে ১,১০,৭৩০ জন ছাত্রী, যা গত বছর ছিল ১,৪১,২৪৩ জন, কমেছে ৩০,৫১৩ জন।
ক্স এ বছর জিপিএ ৫ ছাত্রের তুলনায় ২৯,৮৩২ জন ছাত্রী বেশী পেয়েছে।
 বিভিন্ন সূচকে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা বেশী ভাল করেছে।

বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্র ব্যতিত সকল বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ বছর থেকে শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্মমূখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয় ৩টি ধারাবাহিক মূল্যায়ন (ঈড়হঃরহঁড়ঁং অংংবংংসবহঃ) এর আওতায় আনা হয়েছে। এ ৩টি বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়নি।

পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য কিছু ইতিবাচক দিক লক্ষ করা গেছে। যেমন-এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। ছাত্রের তুলনায় ১,৭০,৬৬৭ জন ছাত্রী বেশি অংশগ্রহণ করেছে, ১,৪৪,৮০৫ জন ছাত্রী বেশি উত্তীর্ণ হয়েছে, ০.১৭% বেশি পাস করেছে এবং ২৯,৮৩২ জন জিপিএ ৫ বেশি পেয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গৃহীত নানা পদক্ষেপ, শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকগণের অক্লান্ত প্রচেষ্টাসহ সমগ্র শিক্ষা পরিবারের সার্বিক সহযোগিতায় এ অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। শিক্ষা পরিবারের সকলকে জানাচ্ছি অভিনন্দন।

আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বরাবরের মত এবারও সম্পূর্ণ পেপারলেস ফল প্রকাশিত হচ্ছে। বোর্ড কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানায় নির্ধারিত সময়ে ফল পৌঁছে যাবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী তাদের ফল এসএমএস এর মাধ্যমে পেয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রয়োজনে ফল ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে পারবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বোর্ডসমূহ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টার কারণে পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ক্রমশঃ উন্নতির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

পরিশেষে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও ফল প্রকাশে সকলের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য আমি সকলকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এ ছাড়া পরীক্ষায় কৃতকার্য সকল পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকবৃন্দকে অভিনন্দন। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। আমি আশা করবো তারা নব উদ্যমে পূর্ণ প্রস্তুুতিতে আগামীতে আবার পরীক্ষা দিয়ে সফলকাম হবে।
আজকের এ সভায় উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি
শিক্ষামন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৯২ বার

Share Button