» জেলা জজকে প্রত্যাহারের ব্যখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৫. মার্চ. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম আব্দুল আওয়াল ও তাঁর স্ত্রীর জামিন চাওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল সেখানে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল তা নিয়ন্ত্রণ বা প্রশমিত করার জন্যই জেলা জজকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই জামিন চাওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল আওয়াল এর আইনজীবী এবং বারের আইনজীবীদের সাথে জেলা জজ অত্যন্ত অশালীন এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এর ফলে বারের আইনজীবীগণ আদালত বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে যায়। সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিচারককে ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আজ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, জামিন দেওয়া না দেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ আদালতের কিন্তু আদালত যদি এমন কোন ব্যবহার করেন, এমন একটি পিরিস্থিতির সৃষ্টি করেন, যেখানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং আইনের শাসন রক্ষা করা প্রশ্নবিদ্ধ হয় তখন কিন্তু একটি ব্যবস্থা নিতে হয়। সেই অবস্থার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখানে আইনের শাসনের কোন ব্যত্যয় হয়নি।

তিনি বলেন, মামলার মেরিট নিয়ে কথা বলতে চাই না। এখনো এই মামলার চার্জশীট হয়নি, শুধু এফআইআর (এজাহার) হয়েছে। হাইকোর্ট তাঁকে (একেএম আব্দুল আওয়ালকে) অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। সেই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করতে গেলে আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, এই জেলা জজ বারের সাথে যে ব্যবহার করেছেন, সেটা না করলে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাঁর এই ব্যবহার করাটা সমীচীন হয়নি।

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত হচ্ছে, বিচার হচ্ছে। এটা আপনারা দেখছেন। কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতিতে যে ব্যবস্থা নিতে হয়, সেটা আমাকে নিতেই হবে। এখানে সরকারি দলের লোক না বিরোধী দলের লোক, সেটা বিবেচনা করা হয়নি। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয় সেজন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মানব পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের মানব পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে। আমরা যদি মানব পাচার আদালত তাড়াতাড়ি স্থাপন না করি তাহলে আমাদেরকে তৃতীয় স্তরে নামিয়ে দেওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা ৭টি মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করেছি এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে এটি কাজ শুরু করবে। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২২৪ বার

Share Button