শিরোনামঃ-


» তারা এসেছিল…

প্রকাশিত: ২০. জানুয়ারি. ২০২০ | সোমবার


বিনেন্দু ভৌমিক
তারা এসেছিল পাহাড়ের আঁকবাঁকা সর্পিল ঢাল বেয়ে দাপিয়ে বেড়ানো দুরন্ত ঝর্ণার মতো। তারা এসেছিল ফরফরিয়ে উড়াল দেয়া ছোট্ট মুনিয়ার মতো। তাদের চলার গতির গীতল শব্দ ও চোরা স্রোতে আমরা কাল ভেসে গিয়েছিলাম বেশুমার। তাদের জলপ্রবাহের মতন কলকল ধ্বনিতে, হটিট্টি পাখির মতন মুহুর্মুহু উড়ালে—কাল মুখরিত ছিল আকবরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের ছোট্ট চত্বর।

বলছিলাম জয়নুল হক শিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের আগমনের কথা, উচ্ছল ব্রজনের কথা। প্রফেসর ডা. মনোয়ার আহমদ তরফদার গেলবারের মতো এবারও তাঁর মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের পক্ষ থেকে ১০৩ জন ছাত্রীকে সাথে নিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার বিন্যাস, ব্যবস্থাপনা, এলগোরিদম — ইত্যাকার নানান বিষয়াদি হাতেকলমে সম্যক জানাবার ও শেখাবার নিমিত্তে।

প্রথম পর্বে বাস থেকে নেমেই তারা ঢুকে যান আমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণাধীন আকবরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে।

গতবার আমরা তেমন সুগঠিত বা সুপরিকল্পিত উপায়ে তাদের আবাহন করতে পারি নি। এবার আমরা অনেকটাই সংগঠিত ছিলাম। প্যান্ডেল বানানো, মঞ্চ সাজানো, সাউন্ড সিস্টেম বসানো, কারেন্ট গেলে ব্যাটারি দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করা; অথবা রজনীগন্ধার স্টিক দিয়ে ফুলেল বরণ, শ্রীমঙ্গলের বিখ্যাত কমলাসমেত নাস্তার প্যাকেট দিয়ে আপ্যায়ন, ক্রেস্ট প্রদান, সর্বোপরি কমিউনিটি ক্লিনিকের অবকাঠামো সহ অন্দর-বাহির ঘুরে দেখানো, কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক জানানো— সবটাতেই আমরা রেখেছি আমাদের হার্দিক অনুপ্রাসের ব্যঞ্জনা।

এর নেপথ্য নায়ক আমাদের তেজস্বী ও স্বপ্নবান সিএইচসিপি কে এম রুবেল আহমেদ . একা মানুষ, তার উপর নেই কোনো ফান্ড, তবু তিনি সকাল-সন্ধ্যা গায়ে-গতরে খেটে, চানক্যের চাল চেলে এরকম একটা অনুপম সজ্জার আয়োজন অবশেষে সমাপন করতে পেরেছিলেন। তার অনিন্দ্যসুন্দর আবাহনে সাড়া দিয়েছেন কমিউনিটি ক্লিনিকটির সভাপতি, মহীয়সী ও জনহিতৈষী নারী জনাব সুফিয়া ইসমাইল, অার্থিক সহযোগিতা সহ সশরীরে খেটে সাহায্য করেছেন গিয়াস নগর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বাবু গুরুপদ দে। মৌলভীবাজার তথা শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় স্বাদ দেবেন বলে তিন প্যাকেট বা দুশো দশটি ভেজালমুক্ত কমলা দিয়ে সহযোগিতা করতঃ পাশে থেকেছেন আমাদের পরিসংখ্যানবিদ হাফসা খানম চৌধুরী ও এমটিইপিআই শামসুল হক সাহেব।

সর্বোপরি যার হস্তক্ষেপ না-হলে এই ক্ষুদ্র আয়োজনও ব্যহত হয়ে যেত, তিনি আমাদের সুযোগ্য ও স্বাস্থ্যবান্ধব ইউএনও জনাব শরীফুল ইসলাম ।.

সকলের জন্যই রইলো প্রাণভরা শুভ কামনা ও অভিবাদন।

সবমিলিয়ে যেটুকু স্মৃতি মনের খাতায় আমরা কাল লিখলাম আবেগ ও ভালোবাসার সোনালী হরফে, তা অনপনীয় বা অমুছনীয় হিসেবেই থেকে যাবে আমৃত্যু, এটা যে অবধারিত ও অনিবার্য হয়ে গেল।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৫৩ বার

Share Button