» তার মনোজগতে সাহিত্য আর সংগীতে দ্যোতনাই মুখ্য

প্রকাশিত: ২৪. আগস্ট. ২০১৮ | শুক্রবার

অমৃতের পুত্র
শারমিনী আব্বাসী
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কারপ্রাপ্ত ২০১৮

নিজের কাগজ থাকলে, নাম যাই হোক, ধরা যাক ‘পঞ্চম আলো’, বইটির সম্বন্ধে যা লিখেছি তা একদিন প্রকাশিত হত। কিন্তু হায়রে আমার দেশ। সেটি হবার জো নেই। নিজ প্রশংসা, নিজ আলোচনা, নিজ ছবি, বন্ধু-বান্ধবদের দিয়ে চামচাগিরি বাংলাদেশের প্রায় সবক’টি কাগজে। নিজে লিখলাম। কন্যার প্রশংসা যদি বেশি হয়ে থাকে, আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

গ্রন্থের ফ্ল্যাপে যা লেখা আছে:

‘সংগীতে আব্বাসউদ্দিন আহমদ আর সাহিত্য সৈয়দ মুজতবা আলির উত্তরসূরি শারমিনী। মেধাবী এই লিখিয়ের রক্তে আছে আলীকের আশীর্বাদ। ২০০৩ সালে প্রকাশিত তার প্রথম বই ‘আমার মেয়েকে বলি’ পাঠক ও সুধীমহলে সাড়া জাগায়। দৈনিক ‘প্রথম আলো’-র নির্বাচিত নবীন লেখকের স্বীকৃতি পায় সেটি। ঝিলম আর আদৃতার চেনা বসন্তের অচেনা উপাখ্যান ‘আদৃতার চিঠি’ লেক্ষকের দ্বিতীয় বই। এ-কালের প্রেক্ষাপটে দেখা মানব-মানবীর সম্পর্ক, ক্যারিয়ার, ভালোবাসা আর সিদ্ধান্তহীনতার সংকট নিয়ে লেখা উপন্যাসটি প্রকাশের পর থেকেই ঠাঁই করে নিয়েছে বেস্ট সেলার গ্রন্থের জায়গাটি। তৃতীয় বই ‘পঁয়ত্রিশের জীবন’। কেন পঁয়ত্রিশের জীবন? কারণ সেটি হচ্ছে সাহস দেখানোর, সত্য উচ্চারণের আর স্বপ্ন ছড়ানোর বয়স। ‘নীল পদ্মের খোঁজে’ চারপাশের উন্মুল অস্থির জীবনের চাওয়া- পাওয়ার হিসেব-নিকেশকে তুচ্ছ করে আসল অর্জনের গল্প। সর্বশেষ ‘বাবার দেশের কুড়ুয়া’ নারী হৃদয়ের নিভৃত ক্রন্দন ছড়িয়ে দিয়েছে আকাশে-বাতাসে। যা অশ্রুজল এনে দেয় চন্দনবৃক্ষে বসা পাখিটির চোখও। আগাগোড়া মেধাবী ছাত্রী শারমিনী সফল কর্পোরেট আইনজীবী হিসেবে এক যুগের বেশি পেরিয়ে হাল ধরেছেন একটি বিজ্ঞাপণী সংস্থার কর্ণধার হিসেবে। সেই সঙ্গে মানবাধিকার আইন রক্ষায় পথ চলতেও ব্রততী। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তার মনোজগতে সাহিত্য আর সংগীতে দ্যোতনাই মুখ্য।’

বইটি এক নিঃশ্বাসেই পড়েছি, কারণ শারমিনীর প্রতিটি উচ্চারণ হৃদয় নিঃসৃত। একটি কথাও বানান নয়। প্রথম কয়েক লাইন পড়ি।

‘বিশ্বাস করতে চাই আমাদের কোন দুঃখের কথা নেই। এই জীবন শধুই পূর্ণতার সন্ধান। ঘাসফুল বুকে নিয়ে ঘুমায় শহর। হিম হিম সকালে দু’গালে গোলাপী আভা ছড়িয়ে গাঢ় নীল কার্ডিগান পরে ঘুম ঘুম চোখে ইস্কুলে চলে যায় শিশুরা। দীর্ঘদেহ পুত্ররা বেড়ে ওঠে। তবু অনেক ভালবাসার ধন জীবন থেকে হারিয়েও যায়। সৌন্দর্য কিম্বা তার প্রাবল্য কোন এক অর্বাচিন প্রজাপতি হয়ে উড়ে যায় অকাস্মৎ মহানক্ষত্রের পথে। তেমনি দৃশ্য সীমা থেকে হারিয়ে গেছে অনেক ভালবাসার মানুষ। তাই তোমাকে নিয়ে কিছু লিখব না এমন একটা অনমনীয় সিদ্ধান্ত ছিল।’

এটি একটি মননশীল মনের ছড়িয়ে নানা কথা। কোন পার থেকে কোন পারে। মন কি চায়, মন কি পায়, তার সাথে ১৩ বছরের আলভীর সম্পর্ক কোথায়, কেন সে অমৃতের পুত্র, এ আনন্দ যজ্ঞে সরল নদীর মত প্রবাহ নিয়ে ছুটে চলেছে মৃদুভাষী প্রকৃতি। জানালার ধারে দেখা যায় অল্পএকটু আকাশ। আকাশই মনকে করে আকাশের বড়। ব্যক্তিগত কথাগুলো কিভাবে মনকে নাড়া দেয়, নবীন পাঠক কোথায় সাড়া দেয় আমরা বুঝতে পারি না। আমাদের বইগুলো বিক্রি হতে যেখানে দশ বছরও চলে যায়। তরুণদের বইগুলো এক মাসে উধাও। শারমিনী লিখেছেন তার দাদার কথা, যিনি আকাশের তারা হয়ে এখনও জ্বলজ্বল করছেন। তার বাবাও মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছেন তার লেখার ফাঁকে ফাঁকে। আর পাতায় পাতায় রবীন্দ্রনাথ, সুনির্মল রায়, আর নামতা।

যারা নির্মল মনের অধিকারী, তারা এমনি বইয়েরি খোঁজ করবেন। পাতা উল্টাতেই বই শেষ। আহা! আরও কত কথা ছিল। হয়ত লেখকের সব কথা জানা হল না। বইটি হঠাৎ শেষ হয়ে গেল কেন বাষট্টি পৃষ্ঠায়। আমি বইটি আরও কয়েকবার পড়ব।

মুস্তাফা জামান আব্বাসী

২৩.০৮.২০১৮

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪২৬ বার

Share Button

Calendar

July 2019
S M T W T F S
« Jun    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031