শিরোনামঃ-


» তাসখন্দে বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত: ১০. আগস্ট. ২০২০ | সোমবার

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী বাংলাদেশ দূতাবাস,তাসখন্দে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সাথে পালন করা হয়। শুক্রবার অনুষ্ঠানের
শুরুতে প্রয়াত বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত প্রিয় সহধর্মিণী এ মহিয়সী নারীর জীবন ও কর্মের উপরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। যিনি ছিলেন একজন স্নেহশীলা মা,শুধু তার নিজের নয়,প্রতিবেশীদের ও আত্মীয়-স্বজনদের সন্তানের জন্যেও তাঁর মমতার কমতি ছিলোনা। মূলতঃসদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের সকল শিশুদের প্রতি ছিলো তাঁর অপরিসীম মমতা।জাতির জনকের স্বার্থক ও সহায়ক স্ত্রী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা,দেশপ্রেম,নিষ্ঠা ও দেশের মানুষের প্রতি তাঁর সম্মানবোধ সর্বজনবিদিত।তাঁর ত্যাগ,সৌন্দর্য,সাহসিকতা এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে অনুপ্রেরণামূলক ভূমিকার জন্যে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে বঙ্গমাতা উপাধি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান,এনডিসি এ বিশেষ দিবস উপলক্ষে দেওয়া মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আবদুল হামিদের এবং হেড অব চ্যান্সেরী ও মিনিস্টার নৃণেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী পাঠ করে শোনান।
মান্যবর রাষ্ট্রদূতের রাজনৈতিক সহকারী মিজ মাফতুনা নিয়াজবেকোভা রুশ ভাষায় তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে একজন স্নেহশীলা মাতা ও সাহায্যকারী হিসেবে বর্ণনা করেন।
দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সেরী ও মিনিস্টার নৃণেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ তার বক্তব্যে প্রয়াত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে মা হিসেবে এবং বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী হিসেবে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাধীনতা উত্তরকালে তাঁর অবদান তুলে ধরেন।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান,এনডিসি তাঁর বক্তব্যে প্রয়াত এ মহিয়সী নারীর প্রতি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তি সংগ্রামের দুঃসময়ে সাহস ও প্রেরণা যোগানোর জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করেন। তিনি ছিলেন জাতির জনকের, জনগণের মুক্তির আজীবন সংগ্রামের প্রকৃত প্রেরণার উৎস।তিনি তাঁর ছোটোবেলা থেকে সংগ্রামী বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সন্তানদের প্রতি সার্বিক যত্নের ব্যাপারে ছিলেন তৎপর এবং সন্তানদের তিনি বড় করেছেন বাঙ্গালী সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে।তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং নিজে দৈনন্দিন জীবনে তার চর্চা করে গেছেন।অত্যন্ত কষ্টের দিনেও তিনি নিজ দায়িত্বে আত্মীয় ও স্বজনদের খোঁজ-খবর নিতেন।তিনি প্রকৃতই রত্ন সমতুল্য ছিলেন।এ সকল গুণাবলিই তাঁকে বঙ্গমাতা উপাধিতে ভূষিত করে।
দুর্ভাগ্যবশত ১৫ই আগস্ট,১৯৭৫ এর কালো রাত এ মহিয়সীকে ছাড় দেয়নি।বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পরিবারের প্রায় সকল সদস্যসহ ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসায় তাঁকেও হত্যা করে।১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেলকেসহ।এটি আসলে বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারকে তছনছ করে দেয়।
অবশেষে ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ এর হত্যাকাণ্ডে নিহত সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।দোয়াটি পরিচালনা করেন দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃইউছুপ নিজামী।
সবশেষে প্রয়াত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর ৯০তম জন্মদিনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান,এনডিসি কেক কাটেন।এ সময়ে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৭ বার

Share Button