» তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন সেবা পৌঁছে দিচ্ছে সরকার ঃস্পীকার

প্রকাশিত: ১৭. জুন. ২০১৯ | সোমবার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত কয়েক বছর ধারাবাহিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন সেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

তিনি আজ তাঁর কার্যালয়ে ১৩তম ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস অব চায়না’র (এনপিসি) স্টান্ডিং কমিটি এর ভাইস চেয়ারম্যান ও চাইনিজ এসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারষ্টান্ডিং এর প্রেসিডেন্ট মি. জি বিংজুয়ান (Mr. Ji Bingxuan) নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের এক প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে তাঁরা দ্বি পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত ও আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, বাণিজ্য প্রসার, সিল্করোড কানেক্টিভিটি স্থাপন ও সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

স্পীকার বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার চীন। তিনি বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ করে ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, হাই-টেক পার্ক ও তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চীনকে বিনিয়োগের আহবান জানান। জনবহুল বাংলাদেশের একটা বড় অংশই হচ্ছে তরুণ—তাই বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দু’দেশের সংসদ সদস্যদের সফর বিনিময় এবং মৈত্রীগ্রুপ গঠনের মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হবে মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্পীকার বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সকল সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সুদৃঢ়। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম এজেন্ডা দারিদ্রের হার কমিয়ে আনা। ইতোমধ্যে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় দারিদ্রের হার ৪০ শতাংশ থেখে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের দিকে পা বাড়িয়েছে। ২০২১ সালে রূপকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মধ্যম আয়ের দেশ হবে, ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে।

চীনের প্রতিনিধি দলের প্রধান মি. জি বিংজুয়ান বলেন, বাংলাদেশে গত দুই মেয়াদে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নকে তরান্বিত করেছে- – যা প্রশংসনীয়। তিনি বাংলাদেশকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এ অঞ্চলের সকল দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে চীনের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব দিনদিন শক্তিশালী হচ্ছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব গুণ ও জনগণের প্রতি ভালবাসার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মি. জি বিংজুয়ান বলেন, সিল্করোড কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং এবং চীনের সাথে যোগাযোগ সহজতর হবে। এর ফলে এ অঞ্চলের মধ্যকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে- – জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক আরও নিবিড় হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতা জরুরী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে আঞ্চলিক তথা সমগ্র এশিয়ার উন্নয়ন হবে।

এসময় বাংলাদেশস্থ চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং ঝুও (Zhang Zuo),প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিনিধিদল একাদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৪৭ বার

Share Button

Calendar

December 2020
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031