তেল শিল্পে মিশরের মহাপরিকল্পনা

প্রকাশিত: ১:১৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৮

তেল শিল্পে মিশরের মহাপরিকল্পনা

মিশর থেকে ইউ.এইচ.খান.
মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ মিশর । বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের পাশেই মিশর অবস্থিত। ভৌগলিক অবস্থানগত কারন ও লোহিত সাগরের বিশেষ অঞ্চলের দখল মিশরের হাতে থাকার ফলে প্রচুর পরিমান তেলের খনি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের অনেক পরাশক্তি দেশ মিশরে অনুসন্ধান করার জন্য নিয়মিত দেন দরবার করছিল। মিশরে তেলের মজুদ সম্পর্কে যে সব ভূতাত্বিক সার্ভে হয়েছে তার প্রায় সবই আধুনিক ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি আসার আগেকার সময়ের।
মিশর , বাংলাদেশ বা ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশগুলো সাধারনত পশ্চিমা দেশগুলোর কম্পানিগুলোর কাছে সার্ভে সহ খনিজ উত্তোলন চুক্তি করে। যেমন বাংলাদেশ তার নিজ ভূমির প্রায় সকল গ্যাস অঞ্চলই সার্ভে সহ উত্তোলন চুক্তি করেছে। ফলে বহুজাতিক কম্পানিগুলো সার্ভের খরচ ও সফল না হওয়ার সম্ভাবনার দোহাই দিয়ে ইচ্ছে মত চুক্তি করে নেয়। ফলাফল হিসাবে নিজ দেশের গ্যাস এখন উচ্চমূল্যে তাদের কাছ থেকে কিনে ব্যাবহার করতে হচ্ছে।
মিশর অবশ্য সে পথে হাটেনি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মিশর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। মিশর নিজ সরকারে অধীনে শুধুমাত্র সার্ভের জন্য একটি কম্পনি গঠন করে মিশরের লোহিত সাগরের তলদেশ সার্ভে পরিচালনা করছে। সার্ভের ফলাফল হাতে নিয়ে তারা তেল উত্তোলনের জন্য কম্পানির সাথে দর কষাকষি করবে। এতে মিসর সরকার সর্বোচ্য মুনাফা সংরক্ষন করতে পারবে।
মিশরের এধরনের পদক্ষেপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আশাব্যাঞ্জক উদাহরন। আর এই প্রকলল্পকে সর্বোচ্য গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে মিশরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রনালয়। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ইন্জিনিয়ার তারেক আল মোল্লা গত ১০ই মার্চ মিশরের গারদাকা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মিশরের রেড সি প্রদেশের গভর্নর মেজর জেনারেল আহমেদ আব্দুল্লাহ।
অনুষ্ঠানের পূর্বে এই প্রকল্পে ব্যাবহৃত অত্যাধুনিক খনিজ অনুসন্ধানকারী জাহাজ “ডং ফেং ক্যাং তাং ০১” প্রদশ্রন করা হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান মিশরের অধীনস্থ লোহিত সাগরের ৯২ শতাংশ জরিপ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। চলতি মার্চ মাসের মধ্যেই বাকি ৮ শতাংশ জরিপ শেষ হবে।

ছড়িয়ে দিন