» ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়ের বিকল্প নেই: ড. এমাজউদ্দীন

প্রকাশিত: ০৪. এপ্রিল. ২০২০ | শনিবার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার :

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত বন্ধের কারণে কর্মবিচ্যুত লাখ লাখ মানুষের রোজগারের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে । এ প্রেক্ষাপটে নিত্যদিনের খাবারের টান পড়েছে নিম্ন আয়ের অসংখ্য মানুষের । গরিব অসহায় মানুষের সহায়তায় সরকার এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলেও সমন্বয়হীনতায় খাদ্য সামগ্রী ত্রাণ কার্যক্রমে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে । বিছিন্ন ভাবে ত্রাণ দেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে মারামারি হট্টগোল হচ্ছে । অন্য দিকে ত্রাণ লুটপাটের অভিযোগ ও পাওয়া যাচ্ছে । সেই খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের কারণে বিভিন্ন জায়গায় হামলার শিকার হয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী সাংবাদিকরা। প্রকৃত হতদরিদ্ররা দিনমজুর ও কেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্যে ত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না । অন্যদিকে অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন । সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সামাজিক বিছিন্নতার বিষয়টি লঙ্ঘিত হচ্ছে। দীর্ঘ লাইন কিংবা হুড়োহুড়ি করে ত্রাণ নেওয়ার মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মারাত্মক রুপ ধারণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সাবেক ভিসি প্রফেসর ইমেরিটাস ডক্টর এমাজউদ্দীন আহমদ ।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর দুই তিন টি স্পটে ডক্টর এমাজউদ্দীন আহমদ এর পক্ষ থেকে হতদরিদ্র অসহায় দুস্থ খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে এক কেজি চাল, ৫০০ গ্রাম ডাল, এক হালি ডিম, ও নিত্যপণ্য পেঁয়াজ সহ ৫০ টি পরিবারের মধ্যে কাঁটাবন, পান্থকুঞ্জ, ও মগবাজার ওয়ারলেস এই তিনটি এলাকায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন তার পক্ষ থেকে। এসময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সদস্য, শত নাগরিক কমিটির সদস্য, লেখক, সাংবাদিক ও প্রকাশক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট সপ্নীল সরকার উপস্থিত ছিলেন।

এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন- এ অবব্যস্থাপনা রোধে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তালিকা তৈরি করে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত হতদরিদ্র অভাবীদের কাছে এই ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া অতি জরুরি । এর মাধ্যমে সামাজিক বিছিন্নতার মূল উদ্দেশ্য সফল হবে এবং যত্রতত্র ভিড় করে ত্রাণ নেওয়ার বিশৃঙ্খলা বন্ধ হবে ।

এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন দুই দফায় ১৭ দিন বন্ধের কারণে ব্যবসা – বাণিজ্য, দোকানপাট, পরিবহনসহ, নিত্যদিনের আয়ের মানুষগুলো পড়েছে অসহায় । কর্মহীন হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ । দৈনিক আয়ের মানুষগুলো পড়েছে অসহায় অবস্থায় । দিনমজুর, রিকশাচালক, স্বল্প আয়ের শ্রমিক কর্মচারীসহ অসংখ্য মানুষ কষ্টে পড়ে গেছে । মুলত তারাই রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকাগুলোয় ভিড় করছে খাদ্য সামগ্রী ত্রাণ নেওয়ার জন্য । কিন্তু এলাকাভিত্তিক সোসাইটি এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে যে সামগ্রিক ত্রাণ দেওয়া হলেও বিছিন্ন ত্রাণে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে ।

রাস্তায় ঘুরে ত্রাণ বিতরণঃ করোনাভাইরাস সংকটে দিশাহীন নিম্ন আয়ের মানুষ ও হতদরিদ্রূের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকে । বাড়িয়ে দিয়েছেন সহায়তার হাত। এসব উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও সমন্বয়হীনতায় কার্যক্রম সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় গাড়িতে করে ঘুরে ঘুরে অনেকেই ত্রাণ দিচ্ছেন । এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে ত্রাণ বিতরণে। ত্রাণের আশায় ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষ রাস্তায় বসে থাকছে । ত্রাণের গাড়ি এলেই তারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এতে করে বিভিন্ন স্থানে ত্রাণদাতাদের পালিয়ে যেতে হয়েছে৷। মারামারির ঘটনা ও ঘটেছে কোথাও কোথাও ।

এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন গত রবিবার দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, কর্মহীন ও যারা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে সংসার চালান, তাদের তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু গত কয়েকদিনে এ নির্দেশনা মানতে দেখা যায়নি অধিকাংশ এলাকায় । যে যার মতো করে ত্রাণ বিতরণ করছে। বিশেষ করে কোনো কোনো স্থানে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ত্রাণ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে । এ নিয়ে রিপোর্ট লেখার কারণে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ও ঘটেছে একাধিক জায়গায় ।
বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে অনেক মানুষের জটলা করে ত্রাণ বিতরণের বিশৃঙ্খলা বন্ধ করতে হবে । রাস্তাঘাটে বিছিন্নভাবে ত্রাণ বিতরণের অরাজকতা থামাতে হবে । প্রকৃত অভাবীদের তালিকা তৈরি করে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারের সংশ্লিষ্ট সকলকে ঠিকমতো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে । এজন্য সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যার যার দায়িত্বপুর্ণ এলাকায় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজটি করতে হবে । বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় সারা দেশে কাজ করছে । এতে তাদেরই মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় করে দায়িত্বটি তাদেরকে দেওয়া যায়,। এতে করে মানুষের সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে। অন্য দিকে ত্রাণপ্রার্থীদের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কা দূর হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৭ বার

Share Button