» ত্রিপুরার নির্বাচন ছিল বামশক্তি বনাম রামশক্তির…

প্রকাশিত: ১১. মার্চ. ২০১৮ | রবিবার

সুমন দেঃ রাজতান্ত্রিক রাজ্য (প্রায় স্বাধীন) ত্রিপুরার দুটি গর্ব করত ৷ এক ভারত ভূখণ্ডে বাংলাকে প্রথম দাপ্তরিক ভাষার (সরকারি) মর্যাদা দান ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বে প্রথম কোনও স্বশাসিত সরকার দ্বারা স্বীকৃতি প্রদান ৷ দুটি ঘটনা ঐতিহাসিক ৷ তবে আরও একটি গর্ব ত্রিপুরার আছে ৷ দেশে সম্ভবত প্রথমত কোনও রাজ্য সরকার উপজাতি ভাষা ককবরক-কে সরকারি ভাষার মর্যাদা দিয়েছে ৷ কিন্তু যে ভয়ঙ্কর রক্তাক্ত সময় গত ৯০ দশকে দেখেছেন ত্রিপুরাবাসী তা রীতিমতো দগদগে ৷ পৃথক রাজ্যের দাবিতে চলতে থাকা উপজাতি সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসবাদে রক্তাক্ত ত্রিপুরা ক্রমশ পাল্টে গিয়েছে ৷ এর জন্য অবশ্যই রাজ্যবাসী বাম জমানার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবেন ৷ ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পথ ধরেই ত্রিপুরাবাসী যাদের নির্বাচিত করলেন সেই বিজেপি ও বিচ্ছন্নতাবাদী শক্তি আইপিএফটি কতটা সুশাসন দেয় সেই বিষয়টি নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে ৷ আগরতলার রাজনৈতিক মহল থেকে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট পর্যন্ত আলোচনা,  এই জোট কতটা শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে ?  কারণ নির্বাচন পরবর্তী ত্রিপুরাতে দুটি ছবি পাশাপাশি উঠে এসেছে ৷ প্রথমত, তীব্র রাজনৈতিক হিংসা আর দ্বিতীয় রাজনৈতিক সৌজন্য ৷

ত্রিপুরার রাজনীতি প্রবেশ করল নতুন যুগে ৷ টানা বাম শাসনের অবসান হয়ে গিয়েছে কয়েকদিন আগেই ৷ এবার বিজেপি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি আইপিএফটির শাসন শুরু হল উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই ছোট্ট রাজ্যে ৷ ক্ষুদ্র রাজ্যের রাজনীতিতে ভারত তো বটেই আন্তর্জাতিক মহল চোখ রেখে চলেছে ৷ কারণ ত্রিপুরার নির্বাচন ছিল বামশক্তি বনাম রামশক্তির সরাসরি ভোট লড়াই ৷ তাতে প্রথম ধাক্কায় নকআউট বামেরা ৷ এতদিন যাঁর ইশারায় ত্রিপুরা চলত সেই মানিক সরকার প্রাক্তন ৷ গণতন্ত্রে এটাই স্বাভাবিক ৷ মানিক গেলেন বিপ্লব এলেন ৷

নির্বাচন শেষ হতেই রাজ্যের বহু স্থানে শুরু হয় হামলা ৷ বামেদের ‘ঈশ্বর’ লেনিনের বিশাল মূর্তি ভেঙে ফেলা হয় বুলডোজার দিয়ে ৷ মুহূর্তে সেই ছবি ভাইরাল গোটা বিশ্বে ৷ তার জেরে কলকাতায় বিজেপির ‘প্রাণপুরুষ’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে কালি ছেটানো থেকে শুরু করে কেরলে গান্ধী, উত্তরপ্রদেশে আম্বেদকর,  তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড় ব্যক্তিত্ব পেরিয়ারের মূর্তি বিকৃত করা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোল শুরু হয়েছে ৷ মনীষীদের ভাস্কর্যের অবমাননা ও অসভ্যতা বিশ্ব দেখল ৷

ত্রিপুরায় নির্বাচনের আগেই প্রয়াত হন রাজ্যের সমবায় ও মৎস্য মন্ত্রী খগেন্দ্র জামাতিয়া ৷ সিপিএমের রাজ্য দফতর দশরথ দেব স্মৃতি ভবনে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিপ্লব দেব (তখনো হবু মুখ্যমন্ত্রী) ৷  সেই সঙ্গে মানিক সরকারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন ৷ এই সৌজন্য বহুদিন দেখেনি ত্রিপুরা ৷ গত কয়েক দশকে কোনও নির্বাচিত নবীন বাম নেতাকে দেখা যায়নি একসময়ের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিরোধী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সমীর রঞ্জন বর্মণের কাছে গিয়ে সৌজন্য প্রকাশ করতে ৷  তবে ভদ্র-সুজন ব্যক্তি মানিক সরকার ব্যাতিক্রম ৷ রাজনীতির বাইরে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে সমীরবাবুর সঙ্গে একই সারিতে আলাপচারিতায় দেখা গিয়েছে মানিকবাবুকে ৷ এতটাই ছিল ৷ এর বাইরে ছিল টানা শাসনে থাকার সুবাদে সিপিএম নেতাদের প্রবল ঔদ্ধত্ব ৷ এই অভিযোগ আগেও উঠেছে ৷ নির্বাচনের পরবর্তী পর্বেও উঠছে ৷ তবে নিপাট ভদ্রলোক মানিক সরকারের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি ৷  তিনি এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ৷

এসব বাদ দিলে যেটা সবথেকে গুরুত্ব পায় তা হল,  আগামী পাঁচ বছর যাদের হাতে থাকবে ত্রিপুরা সেই শক্তি কতটা ‘সুশাসন’ দিতে পারবে ত্রিপুরায় ৷ কারণ আইপিএফটি পৃথক তিপ্রাল্যান্ড (মতান্তরে তুইপ্রাল্যান্ড) দাবিতে অনড় ৷ আর কেন্দ্র সরকার এই দাবিকে খারিজ করে দিয়েছে ৷ এতে  আইপিএফটির রাগটা বাড়ছে ৷ যেটা পরবর্তী সময়ে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন অনেকে ৷ সেক্ষেত্রে আবারও কি ভয়াবহ বিচ্ছিন্নতাবাদ শক্তি মাথাচাড়া দেবে ত্রিপুরায় ?  উঠতে শুরু করেছে এমন প্রশ্ন ৷ গত ২৫ বছর বাম শাসনে যা প্রায় শীত ঘুমে চলে গিয়েছিল ৷ ব্যাপারটা চাগাড় দিয়ে ওঠে গত বছর থেকে ৷ পৃথক রাজ্যের দাবিতে ‘উলঙ্গ’ আন্দোলন চালিয়েছিল আইপিএফটি এবং তাদের সমর্থন দেয় বিজেপি ৷ সেই শক্তি আজ ক্ষমতায় !

সুত্র : wikipedia এবং Kolkata24x7.

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮৬ বার

Share Button

Calendar

September 2018
S M T W T F S
« Aug    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30