» দিলরুবা আহমেদ ও তার লেখালেখি

প্রকাশিত: ২৩. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | রবিবার

দিলরুবা আহমেদ এর এবারের উপন্যাস ” টেক্সান রানী ও ব্লু বনেট ” পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলায় ।নামেই বোঝা যাচ্ছে প্রবাস জীবন নিয়ে এটি রচিত ।রচয়িতা নিজেই টেক্সানবাসি তাই নিজের দেখা চারপাশ নিয়েই উপন্যাসের কাঠামো দাঁড়িয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন , সব লেখা-ই তো সত্য মিথ্যার ধুম্রজাল ,কিছু দেখা, কিছু শোনা ,কিছু ভেবে নেওয়া নিয়ে ভাবনা গুলো শব্দ খুঁজে পেয়েছে ।১১৩ পৃষ্ঠার এই বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্ৰুৱ এষ , প্রকাশক অনন্যা (পেভেলিয়ন -৫) ।
প্রতি বছর-ই প্রচুর নতুন লেখকের আগমনকে কিভাবে দেখেন জানতে চাইলে বলেন ,
“আমার মনে হয় এই যে আমরা ভুঁইফোড় সদ্য গজানো বলে যাদের অবজ্ঞা করতে চাই সেটা খুব একটা ভালো নয় তাদের-ই জন্য যারা এই অঙ্গনে ইতিমধ্যেই মধ্য গগনে পৌঁছে গেছেন ।কারণ সবসময়-ই সব সমাজে অন্যদিকে বিরাট একটা দল আছে থাকে যারা সাহিত্যের জগৎ টাকে একেবারেই পাত্তা না দেওয়ার চেষ্টা করেন , ভাবখানা করেন এমন , যেন , কি এগুলো ! তাই যারা লেখাকে ভালোবেসে আগ্রহের সাথে সাথী হতে চান তাদের ভালোবেসে কাছে টানা-ই উত্তম । ‘ সবাই এখন লেখক’ – – এমন বলে যে ব্যাঙ্গ করার চেষ্টা চলে সেটা কিন্তু প্রকারান্তে ভালো একটি ইঙ্গিত দেয় , বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সাহিত্যের প্রতি লেখার প্রতি অনুরাগ-ই এতে প্রকাশিত হয় । চেষ্টা করুক সবাই , যার যোগ্যতা থাকবে সেই থেকে যাবে অবশেষে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্তভাবে ।”
পুরস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,আমি সুদীৰ্ঘদিন দেশের বাহিরে , তাই অধিকাংশ সময়ে যারা দেন বা যারা পান তাদের উভয় পক্ষই ব্যাক্তিগত ভাবে আমার কাছে বেশ অচেনা-ই থাকেন ।তবে যে কোনো পুরস্কারের পরপরই ইদানিং যে রকম শোরগোল বাধে বুঝতে পারি যারা পুরস্কৃত হয়েছেন তারা হয়তোবা লজ্জায় কোথাও লুকিয়ে পড়েছেন ।আমাদের পুরস্কারগুলো বিতর্কিত না হয়ে সত্যিকারের সম্মান বয়ে আনবে এই প্রত্যাশা করি।সঠিক জন-ই হোক পুরস্কৃত । পুরস্কার যেন তিরস্কার হয়ে না উঠে ।”
লেখক পাঠক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে বলেন ,
লেখক হবেন স্বপ্নের দেশের মানুষ, মননশীল যত্নশীল চিন্তাশীল মানুষ, তার কথা বেদনা ভালোবাসা গুলোর প্রকাশ যে তার বই , সেই বই-ই তাই তার ছায়া কায়া হয়ে ধরে থাকবে তার-ই প্রকাশ্য রূপ হয়ে , তার বইয়ের সাদা-কালো অক্ষরের ভেতর- ই তাকে পেতে চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ ,কোনো চ্যাট এ নয়, কোনো হাই-হ্যালো-র হট্টগোলের দামামায় নয় বা নিজকুঞ্জের কোনো ইনবক্সে-ও নয় ।”
দিলরুবা আহমেদ বলেন ,
“আমি দেখছি পাঠক হবার চেয়ে ফেইসবুক বন্ধু হতেই মানুষের বেশি তাগাদা যেন ।
তাকে আপনার ভালো লাগতেই পারে, আপনার চোখে সে একক অনন্য , কিন্তু তার কাছে আপনি অন্যতম , অন্য একজন , অন্য আরেকজন , অনেক হওয়ার জন্য যে যোগফল , তাতেই শুধু আপনি দাঁড়িয়ে আছেন , বলা উচিত আপনিও দাঁড়িয়ে আছেন । কোনো দায় কিন্তু নেই লেখকের আপনাকে স্মরনে রাখার । লেখক ব্যস্ত নিজে স্মরণীয় বরণীয় কিছু করতে । লেখকের বন্ধুত্ব কলমের সাথে , আলাপ বিলাপ সব কাগজের সাথে। বই হচ্ছে সেতু বন্ধন দুই জনার ।অতএব লেখকের বন্ধু হতে হলে তার বই পড়ুন ।”

দিলরুবা আহমেদ লেখালেখি করছেন কলেজ জীবন থেকে ।ইতিমধ্যে তার প্রকাশিত জনপ্রিয় বইগুলো হচ্ছে ,

১.টেক্সাস টক (প্রবাস জীবনের ২৫ -টি গল্প ,নওরোজ কিতাবিস্তান,২০১২ )
২.আমার ঘরে এসো .(উপন্যাস ,নওরোজ কিতাবিস্তান,২০১২)
৩. আঠার ( ত্রয়ী উপন্যাস , নওরোজ কিতাবিস্তান , ২০১২ )
৪.ঝুমকালতার সারাটা দিন .(উপন্যাস, শৈলী প্রকাশন ,২০১৩ )
৫. হেটে চলেছি বন জোসনায় .(উপন্যাস, শৈলী প্রকাশন, ২০১৪ )
৬.মাছের মায়ের পুত্র শোক (কিশোর গল্প ,শৈলী প্রকাশন ২০১৫ ).—
৭.এসো হাত ধরো .(উপন্যাস,উত্তরণ , ২০১৫ )
৮.বলেছিল: ( ১০ -টি ছোট গল্পের বই , অনন্যা,২০১৫ )
৯.প্রবাসী ( ১৪ -টি ছোট গল্পের বই,অনন্যা, ২০১৬ )
১০.ব্রাউন গার্লস (উপন্যাস , অনন্যা ,২০১৭)
১১.গ্রিন কার্ড ( উপন্যাস , অনন্যা ,২০১৮)
১২.আমেরিকায় মেয়েটি (উপন্যাস , অনন্যা ,২০১৯)
১৩.অশেষ কথাবিথী (ছোট গল্পের বই , অনন্যা ,২০১৯)
১৪. টেক্সান রানী ও ব্লু -বনেট (উপন্যাস , অনন্যা ,২০২০)
প্রচার বিমুখ আত্ম গোপনকারী দিলরুবা আহমেদের উত্তরোত্তর লেখক খ্যাতি প্রত্যাশা করছি ।২০১৮ একুশে বইমেলায় তিনি এসেছিলেন কিন্তু সকল প্রচারের বাহিরে থেকে নীরবে মেলায় ঘুরে গেছেন ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩২৫ বার

Share Button