দিলরুবা আহমেদ ও বইমেলা

প্রকাশিত: ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯

দিলরুবা আহমেদ ও বইমেলা

এবছর বইমেলায় আসছেন না জনপ্রিয় প্রবাসী লেখিকা দিলরুবা আহমেদ ।তবে বইমেলায় ইতিমধ্যেই এসেছে লেখিকার নতুন উপন্যাস ‘আমেরিকায় মেয়েটি’ এবং ছোট গল্পের গ্রন্থ ‘অশেষ কথাবীথি । বই দুটোর-ই প্রকাশক “অনন্যা” এবং প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ । আশা করা হচ্ছে “ব্রাউন গার্লস ” এর মতন এবারের বই গুলোও বেস্ট সেলার্স বুক এর তালিকা ভুক্ত হবে ।

বলেছেন , বই মেলা হচ্ছে প্রাণের মেলা , মালা হয়েই নিজের সাথে থাকে পুরো ফেব্রুয়ারী মাসটাতেই , সে দেশ থেকে যতই দূরে থাকি না কেন ।গত বছর এসেছিলাম তবে সেটিকে খুব-ই নিজের মতন করে রাখতে চেয়েছিলাম বলে কার-ও সাথেই সাক্ষাৎকার বা যোগযোগ করিনি ।
আরো বলেছেন, গিয়েছিলেন ৩/৪ দিন বইমেলায় , নিজের প্রিয়জনদের সাথে , খুব ভালো লাগার অনুভূতি ছিল তাতে।ঘুরেছেন ,ফিরেছেন ,বই কিনেছেন , খেয়েছেন, বেড়িয়েছিলেন মেলায় প্রানভরে।বান্ধবীরা ফুলের ঝাঁপি কিনে দিয়েছিলো তাই পরে আলো আঁধারের ঝিলিমিলিতে ঘুরে বেড়াতে অপূর্ব লেগেছে ।
দিলরুবা আহমেদের প্রকাশিত অন্যান্য বইগুলো হচ্ছে —
১.টেক্সাস টক (প্রবাস জীবনের ছোট গল্পের বই )২.আমার ঘরে এসো .(উপন্যাস )৩. আঠার .(উপন্যাস )৪.ঝুমকালতার সারাটা দিন .(উপন্যাস )৫. হেটে চলেছি বন জোসনায় .(উপন্যাস )৬.মাছের মায়ের পুত্র শোক (কিশোর গল্প ).—৭.এসো হাত ধরো .(উপন্যাস )৮.বলেছিল: ( ছোট গল্পের বই )৯.প্রবাসী ( ছোট গল্পের বই )১০.ব্রাউন গার্লস((উপন্যাস )১১. গ্রিন কার্ড(উপন্যাস ) ।
এক প্রশ্নের উত্তরে জানান যেহেতু দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে সেহেতু প্রবাস এসেই যায় ওনার গল্পে ।দেশ থেকে দূরে থাকলেও দেশের আমেজ খুঁজে ফিরেন সর্বত্র । ‘অশেষ কথাবিথী’ -তে থাকছে দেশ এবং বিদেশের পটভূমিতে ১৯ টি ছোট গল্প ।উপন্যাস ‘আমেরিকায় মেয়েটি’-র নাম -ই বলে দিচ্ছে এটিও প্রবাসের গল্প ।ওনার গেলো বছরের “ব্রাউন গার্লস” এবং ” গ্রিনকার্ড ” অত্যন্ত পাঠক আদৃত দুটো উপন্যাস ।
তিনি বলেন মেলা-র উন্নয়নের জন্য ভাবনা নিশ্চয়ই ভাবছেন মেলা কর্তৃপক্ষ।তবে পাঠকের হাটা চলার পথটুকু আরো ভালো করার আশা রাখি ।
গল্প না উপন্যাস কোনটি লেখা পছন্দের উত্তরে বলেন ,
গল্প কম সময়ে হয়ে যায় ।উপন্যাস সময় নেয় , চরিতগুলোকে এবং ঘটনা ক্রম মনে রাখতে হয় ।দুটোতেই দুরকমের ভালোলাগে কাজ করে।

প্রশ্ন ছিল , প্রবাস জীবন নিয়ে লেখাগুলো কতটুকু সত্য ঘটনা নির্ভর ?
দিলরুবা আহমেদ বলেন ,গল্প মানেই তো কিছু সত্যি কিছু মিথ্যের কারুকাজ ।এই আল্পনায় যে যত দক্ষ সে ততো ভালো লেখক ।নিতে যে হবেই আমার প্রাঙ্গন থেকে তা কেন , বন্ধুর কথা হতে পারে, পড়শীর পেছনের বাড়ির অচেনা মানুষের কাহিনী-ও হতে পারে ,বহু দূরের করোর শোনা ঘটনা হতে পারে ।তারপর নিজের মতন করে পরিবেশন করাতেই পারঙ্গমতা প্রকাশ পায় ।
সব চরিত্রই কী মিথ্যে ?


আমার ধারণা আমেরিকায় এলেই চরিত্রগুলো -কে সবাই দেখতে পাবেন এখানে ওখানে সেখানে চলার পথে । যদি না দেখেন আর আমার সাজিয়ে বানিয়ে বলা কথা সত্যি না মনে হলে কি আপনিও ভাবতে ভালো বাসবেন যে আপনি আমার পাঠক ? “আমেরিকায় মেয়েটি ” বইয়ের ভূমিকায় তাই বলেছি , আকাশে একটি হলুদ পাখির উড়ার গল্প আমি লিখতেই পারি আপনি এসেও দেখতে পাবেন হলুদ পাখিটি উড়ছে পাখা মেলা , শুধু আপনি এই ভেবে অবাক হবেন এই পাখি-ই কি সেই পাখি ! উড়ে বেড়ানোর ইতিহাস সে তো ধ্রুব সত্য । অভিবাসনও চিরন্তন ।তাই আমার উপন্যাস গুলো হচ্ছে সময়ের মায়াজাল ।আমি স্বীকার করবো না কতটুকু সত্যি সেই চরিত্রটি অথচ আপনি দেখবেন এদের আশেপাশেই । লেখকের দায়িত্ব তো এটি-ই , বিষয় দেখিয়ে দেওয়া ,দায় তৈরী করা । ঘটনা দেখানো হচ্ছে সেটি-ই সত্যি , সে সত্যি মিথ্যে যে কোনো চরিত্রের মাধ্যমেই হোক না কেন ।
তবে এটা দেখেছি যে আমি যাই লিখি পাঠক ভাবে এটা আমারই জীবন কাহিনী ।প্রথম প্রথম কিছুটা অবাক এবং বিরক্ত হলেও এখন উলটে এটি আমার লেখার প্রজ্ঞা ভেবে নিয়ে খুশি হয়ে যাই ।

দিলরুবা আহমেদ এর জন্ম ১৩ ই নভেম্বর , জন্মস্থান বাংলাদেশ ,পিতা জমির আহমেদ এবং মাতা জাহানারা জমির ।বর্তমানে স্বামী ইমতিয়াজ আহমেদ ও কন্যাসহ আমেরিকা টেক্সাস নিবাসী । শিক্ষা জীবন কেটেছে ভিখারুন্নেসা নুন স্কুল , ডা: খাস্তগীর স্কুল,চট্ট্রগ্রাম কলেজ ,চট্ট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,বুয়েট ,ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটিতে ।এস.এস.সি এবং এইচ. এস.সি তে তৎকালীন মেধা তালিকায় স্ট্যান্ড করেন এবং লোক প্রশাসনে স্নাতক সম্মানসহ প্রথম শ্রেণীতে এম.এস.এস. সমাপন করেন ।প্রভাষক হিসেবে কর্ম জীবনের সূচনা তবে বর্তমানে টেক্সাস এ আই-টি ফিল্ডে কর্মরত আছেন ।
দিলরুবা আহমেদ আরো বলেন , বইমেলায় ঘুরছেন যে পাঠক আনমনে তার জন্য অশেষ শুভেচ্ছা ।আর যার হাতে আমার বই তার জন্য এক আকাশ ভালোবাসা ।

ছড়িয়ে দিন