» দুঃখিনী মুজিব বাংলা

প্রকাশিত: ২৬. আগস্ট. ২০২০ | বুধবার

আসাদ মান্নান

বিশ্ব কবির সোনার বাংলা নজরুলের বাংলাদেশ
জীবনানন্দের রূপসী বাংলা– বাহ্ কী সুন্দর–
কী অপূর্ব প্রাণের কোরাস!
কিন্তু যে-বাংলা জন্ম হতে-না-হতে
জাতির পিতাকে সপরিবারে যে ঘাতকের হাতে তুলে দেয়
তাকে আমি কোন বাংলা নামে ডাকবো, কী নামে ডাকলে
জনম দুঃখিনী বাংলাদেশ ফিরে আসবে আপন নিবাসে!
কী করে বিস্মৃত থাকি ! সময়টা ১৭ মার্চ ১৯৭৬ঃ
কী করে পিতার গৌরবের সৌরভের মহা জন্মদিন
সকলেরে মৌন রেখে নীরবে আড়ালে চলে গেল!
জলে স্থলে অন্তরীক্ষ্যে
কোথাও বঙ্গবন্ধুর নামগন্ধ নেই!

বাগানে বিচিত্র ফুল ফুটছে- রঙহীন-গন্ধহীন –
নীরবে নির্বাক ঝরে পড়ছে;
বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশ,
এক ভয়াবহ দুঃসময় পার করছে।
সর্বত্র বিরাজমান একটা অদৃশ্য নারকীয় অস্থিরতা —
আমরা কোথায় যাচ্ছি — দিকচিহ্নহীন –
অনিশ্চিত গন্তব্য যাত্রা!
এ প্রশ্নের উত্তর কারও কি জানা নেই;
তবে আমি জানি, না জেনে যে
অর্থহীন মূল্যহীন আমার জীবন;
কিন্তু বলতে পারি না , তবুও আমাকে বলতে হবে
যে ভাবেই হোক আমাকে বলতেই হবে।
মনে পড়লো বহুদিন পর; এক অন্ধকার রাতঃ
আধা ঘুম আধা জাগরণ–
হঠাৎ একটা স্বপ্ন দেখি; স্বপ্নের ভেতরে
বহুদূর থেকে এক অলৌকিক জোতির্ময় নক্ষত্র বলয় ভেঙে ভেঙে তার টুকরো থেকে
একটা সুগন্ধী ছায়া অপরূপ বেরিয়ে আসলো।
অই ছায়া পথ বেয়ে আলো কুঞ্জে তন্দ্রিল হাওয়া
একটা গায়েবী গুরু গম্ভীর আওয়াজ আমি শুনতে পাই:
এতদিন ধরে রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলায়,
নজরুলের বাংলাদেশে আর জীবনানন্দের রূপসী বাংলায়
তুমি যে বাংলাকে খুঁজতে খুঁজতে ঘুমিয়ে পড়েছ
হে বালক! চোখ খুলে দেখো
ঘুম থেকে জেগে ওঠে প্রান্ত থেকে প্রান্তে
অন্তরে অন্দরে শূন্য থেকে মহাশূন্যে যাও , দেখো
আমার রক্তাক্ত বুকে তোমার সে- বাংলা- – ‘আমার দুঃখিনী বাংলা’।

আরে, তা-ই তো! –আমার দুঃখিনী বাংলা, দুঃখিনী মুজিব বাংলা!
চিৎকার করতে করতে আমার ঘুম ভেঙে যায়।
সেই থেকে যে তিন মহান কবি বাংলাকে বন্টন করে অমর হলেন
মুজিবের দুঃখিনী বাংলার এ ক্ষুদ্র নফর কবি
পিতার আশ্রম ছাড়া বসে কোন্ মায়ার আসনে!
গুণধর ধ্বজাধারী আর সব চতুর মোড়ল
বাজার সরব করে– অশ্বারোহী দুলকি চালে হাঁটেঃ
এই দৃশ্য দেখতে দেখতে চোখে রাখি নদীর নিয়তি
প্রকৃত কবিকে সত্য একদিন অমরতা দেবে
পিতার পাদুকা থেকে তৈরি হবে কবিতার সিঁড়ি।
এই সিঁড়ি রক্তমাখা এই সিঁড়ি মলিন হবে না।
এই সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে খুঁজে পাই কবিতার বাড়ি;
কবিতাকে খুঁজতে খুঁজতে ভুলে যাই পিতার কবর
চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইল ব্যাপ্ত এই গৃহ জুড়ে
যে মানব শুয়ে থাকে আজ কে তাঁকে বানালো লাশ!
এই লাশে পিতা নেই শুয়ে আছে বাংলার হৃদয়
যে মরে মরুক ভাই বাঙালির মুজিব মরে না।
তারপর শুরু হলো লাশ ফেলে যাত্র কবিতার
একটা ভ্রুণের মতো আমি সেই কবিতাকে কনসিভ করি ,
গর্ভবতী মা যেমন শিশুকে যত্নের সঙ্গে
আপন গর্ভের মধ্যে সযত্নে ধারণ করে আমিও
পরম আদরে তাকে বুকে ধরে রাখি
এক নদী রক্ত-অশ্রু বিষণ্ণ আকাশ ভরা বেদনার নীলে আমি
ধীরে ধীরে সেই অনাগত কবিতা-শিশুকে কাঠামো দিলাম–
দুঃখিনী বাংলার শিশু একদিন পূর্ণ হয়ে ওঠে :

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৬ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031