শিরোনামঃ-


» দুটি মেয়ে চট্টগ্রামে

প্রকাশিত: ২৩. মার্চ. ২০১৯ | শনিবার

দিলরুবা আহমেদ

শাপলা ভেবেছিলো আজ একবার পতেঙ্গা যাবে, তারপর সমুদ্র সৈকতে কিছুক্ষন ছুটাছুটি করবে। ভেবে রেখেছিলো সাদা শাড়ি পরবে। কি অপূর্ব ভরা পূর্ণিমা আজ। উথাল পাথাল জোৎস্নায় সয়লাব চারিধার। খুব মন চাইছিলো তার সমুদ্রের পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকতে, চোখ চুবিয়ে চাঁদ দেখতে, অযথাই কেঁদে দুই গাল ভাসাতে। আহা, আর আশেপাশে মিটির মিটির আলো জ্বেলে যদি কয়েকটি জোনাকি উড়তো ! ঝিক্কি-মিকক্কি চারদিক!! কিংবা উড়ে আসতো মটর শুটির বা সোঁদা মাটির গন্ধ। বাহ্ কি অপূর্ব-ই না হতো ! কেবল-ই মনে হচ্ছে নিজেকে নিয়ে এমন দৃশ্য সে যেন দেখেছেও কোথাও কোনো এক স্বপ্নে। কোনো এক জন্মে যেন সে এমন ভাবে বসেও ছিল আকুল হয়ে কোনো এক জলাধারে। জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস না করতেই শিখেছে সেই ছোট থেকে। তার নিজের ধর্মেও তা বিশ্বাস করতে নেই। তারপরও মনে হয় কোনো এক কালে, কোনো এক জন্মে, সে যেন ছিল এক নিঃসঙ্গ গ্রহের একমাত্র জীবন্ত ধারা,সেই-ই ছিল একমাত্র বাসিন্দা। একা একা একলা চলার জীবন ছিল যেন তার।
দ্রাবিড়া’দি এ কথা শুনেই এক সাথেই সম্পূর্ণ বিপরীত দুটো উত্তর দিলেন, বললেন,
হতেও পারে ঘটনাটি সত্যি, আবার নাও হতে পারে।
বাহ্ বেশ বলেছো তো, তালগাছ তোমার। হতেও পারে নাও পারে, তারপর !
বলতে বলতে শাপলা যে গাল দুটিকে দুই দিকে বাকিয়ে বড় করে ফুলিয়ে ফাঁপিয়েছিলো, তাই টেনে দিতে দিতে দ্রাবিড়া’দি বললেন,
তোমার জীবন তো সবে ২০ বছরের। ঢাকা থেকে বের হয়ে এই চট্টগ্রামেই আসোনি কখনো, সমুদ্রও দেখোনি, তারপরও ভাবছো কত কি, তাহলে হতেও তো পারে ! আবার এ-ও- হতে পারে,একা একা একমাত্র সন্তান, আদরের দুলালী হিসেবে,সব পাওয়ার জীবন পেয়ে, দুঃখ বিলাসী হয়ে উঠেছো!!
দ্রাবিড়া’দি কথাটা বলেই চোখ পিটির পিটির মিটির মিটির ঝিলিক মেরে হাসলেন।
বললেন, হয়তোবা চাইছো একটু দুঃখ চেখে দেখতে। দুঃখের একটু নোনা জল হয়তোবা তোমার মিষ্টি জীবন আরো মিষ্টিময় করে তুলবে।
শাপলা হাত পা তুলে সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসলো। গদীগুলো কি নরম তুলতুলে। এটা দ্রাবিড়া’দির খালার বাড়ি। অনেক পুরাতন আমলের বাড়ি। চলটা উঠা দরজা-জানালা গুলো সব হা করে খোলা, বাতাস বয়ে চলেছে অবিরাম। ঠিকই বলেছেন দ্রাবিড়া’দি, ঢাকার বাহিরে কোথাও কখনো তার যাওয়াই হয়নি একা বা বন্ধুদের সাথে। যা গেছে যতটুকু গেছে সবই বাবা-মায়ের সাথে। আগে জানলে সে অবশ্যই স্রষ্টাকে বলে কয়ে অনেক ভাইবোনের কোন এক পরিবারকে পছন্দ করে নিত জন্মানোর জন্য। তাহলে হয়তোবা আর সারাক্ষণ বাবা মায়ের নজরের উপর থাকতে হতো না। স্কুলে থাকতে একবার তাকে খেতাব দিলো সবাই, ‘পরে না চোখের পলক’। প্রথমে ভাবলো সে নিজে বুঝি এত সুন্দর যে কারও নজর সরছে না তার থেকে। পরে ভাবলো, কেও কি বলেছে তার আড়ালে এমন কথা, মানে কোন ছেলে! কিন্তু সব ভাবনা উড়ায়ে দিয়ে জানলো, পড়ছে না নজর তার মায়ের তার উপর থেকে, চেয়েই আছে। ধুত্তর। ভালো লাগে এইসব। সারাক্ষণ কি হয়েছে, কি করছে, খাচ্ছো না কেন, এদিকে কি করছো, ওদিকে কি দেখছো, যাচ্ছ কোথায়, ফিরবে কখন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোন দেবে, রিক্সায় উঠবে না, ড্রাইভার ছাড়বে না, গাড়ি বসিয়ে রাখবে, অচেনার সাথে আড্ডা দিতে যাবে না, শোন ফেইসবুকে অচেনা কেও ডাকে নি তো দেখা করতে যেতে, ইত্যাদি ইত্যাদি এবং ইত্যাদি। সবই মা’র কথা। মুখস্ত হয়ে গেছে। রেকড় করে একদিন রাগ করে বাজিয়েও রেখেছিল কিছুক্ষণ, মা অবশ্য তারপরও বুঝেননি কি এক যাতনাময় বাধনে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছেন তাকে। দুষ্টামী না করলে বলবে, এতদিন বাদর ছিল এখন হঠাৎ করে ভালো হয়ে যাচ্ছে কেন !! করলে বলবে অন্য কোন কথা। শাপলা অনেকবার ভেবেছে মা-কে বলবে মা আমি বড় হচ্ছি এটা তুমি দেখছো না কেন!
যাইহোক শেষ পর্যন্ত বড় হয়েছি এই কথার তোড়েই দ্রাবিড়া’দির সাথে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসা গেছে। দ্রাবিড়া’দির অবশ্য ধারণা তার মা-বাবা তাদের পিছু পিছু অন্য কোন ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছে গেছেন। খুব ইচ্ছে ছিল ট্রেনে আসবার, দেয়নি, নিরাপদ না, এয়ারপোর্টে এসে প্লেনে তুলে দিয়েছেন তারা। অথচ দ্রাবিড়া’দি একা একা কলকাতা থেকে চলে এসেছেন। ছোট চাচার একমাত্র মেয়ে। তারপরও উনি পেরেছেন। ছোটচাচা দিয়েছেন। ছেড়েছেন। এক দেশ থেকে আরেক দেশে এসেছেন। উড়ে এসেছেন দ্রাবিড়া’দি। মা অবশ বলেছেন, চাচী বেচে থাকলে এত উড়া বের হয়ে যেতো। তোমরা মায়েরা দেখছি পথের কাটা,বলেই ভেবেছিল দেবে দোড়, কে খাবে পিটুনী এই বয়সে, কিন্তু মা যখন বললেন আমি মরলে বুঝবি, তখন হঠাং থমকে দাড়িয়ে গিয়েছিল।
কোন এককালে পুরো পরিবারটাই নাকি ছিল কলকাতায়। শুনেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাসা থেকে পালিয়ে দাদীর মা দাদীসহ বার্মা থেকে কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। সেখানেই একদিন দাদার সাথে দাদীর পরিচয়। বিয়ে করে দাদীকে নিয়ে অতপর দাদা সেখানেই সুখের সংসার পাতেন। কিন্তু বাবা আবার মা-কে দেখে পাগল হয়ে বিয়ে করে বাংলাদেশী হয়ে গেছেন। চাচারা থাকেন ঐপারে। ছোটচাচা অবশ্য এসে বিয়ে করে নিয়ে গেছেন দ্রাবিড়া’দির মাকে। পরিবারের একধারা ঐদেশে আরেক ধারা এইদেশে। দুই ধারা ।
তবে দ্রাবিড়া’দির ধর্ম-টা মনে হয় মুসলিম না। চাচী হিন্দু ধর্মের মানুষ ছিলেন। বার্মিজ দাদীর বংশধরেরা এখন বহুধারায় বিভক্ত। মা প্রায়ই বলেন, তোমার ঐ চাচার ঐ ছেলে ঐ মেয়ে ঐ বার্মিজ দাদীর রং পেয়েছে। দ্রাবিড়া’দিকে কথাটা বলতেই উনি হেসে বললেন, আমাকে তাহলে তো উনি চেন্নাই এক্সপ্রেসে করে পাঠিয়ে দেবে, দেখছো না আমার রং। যদিও আম্মা দ্রাবিড়া’দিকে দেখেই বলেছিলেন, আহা কি মধুময় দেখতে তুমি। আমাদের জমানার স্মীতা পাতিলের মতন। শাপলা না বুঝে তখন একটু আতংকিত হয়েই ভেবেছিল, মা কি তাহলে দ্রাবিড়া’দিকে পাতিলের তলার মতন কালো বলছে। পরে বুঝলো, তাকে আসলে নায়িকা বলা হচ্ছে। ফেমাস বিখ্যাত কোন এক নায়িকা। দ্রাবিড়া’দি অবশ্য তাকে চেনেন। কতইবা বড় হবে দ্রাবিড়া’দি তার থেকে, ৪/৫ বছর! তবে তাতেই উনি খুবই জীবনদর্শী। অনেক জানেন, অনেক বুঝেন। বলেছেও সে সেকথা। আর বলতেই দ্রাবিড়া’দি বললেন, আরে আমার কি মা আছে! সেই কত ছোটবেলাতেই নাই হয়ে গেছেন, তাই সবই বুঝি বেশি।
সুটকেস খুলে জিনিষপত্র রুমটাতে আনমনে এখন দ্রাবিড়া’দি সাজাচ্ছেন। বলেছেন অবশ্য কলকাতার ভার্সিটি থেকে কি একটা থিসিসের কাজ নিয়ে এসেছেন। সাথে কোন কাগজ নেই কেন তাহলে!! ভাবনার পরপরই অবশ্য মনে হলো সব তো এখন ল্যাপটপেই বন্দী থাকে। কাগজের কারখানাগুলো দিন শেষ হয়ে যাবে সহসা।
একবার মনে হলো, খুব তো বলল দ্রাবিড়া’দি যে ওনার থিসিসের বিষয় হচ্ছে ‘বাংলা কবিতায় আকাশ বাতাস’। নিশ্চয়ই এটা দুষ্টামী করে বলেছেন। তাই যদি হতো তাহলে আজ সমুদ্রে বসে তো ওনারই চাঁদ দেখার কথা। অথচ উনি অলস মুখ- ভঙ্গীতে সুটকেস ঘেটে লম্বা হয়ে খাটে শুয়ে পড়লেন। বেশ ক’বার চাচাকে ফোন করেছেন। আর সে তো মহুরমুহু মায়ের ফোন ধরেছে। মায়ের অনেক উপদেশ শুনছে। চাচীর বোনের বাসায় এভাবে চলবে,ওভাবে চলবে, ঐ সব আর কি। ওরা হিন্দুধর্মের কিন্তু তোমরা দুজন মানিয়ে নেবে ইত্যাদি। জানতে চেয়েছিল,
মা ’দি ও কি হিন্দু?
না তোমার চাচা মুসলমান সেও তাই মুসলিম।
একবার ভেবেছিল ’দিকে জিজ্ঞেস করবে কিন্তু পরে জানতে চাইলেও চলবে ভেবে বাদ দিয়েছে প্রসঙ্গটা।
এখন জানতে চাইলো, শুয়ে পড়লে যে, চল না বঙ্গপসাগরটা ছুয়ে আসি। কর্ণফুলি নদীটা ঘেষে ঘেষে অনেক জাহাজও থাকে সারি বেধে। ইস ভুতুম ভাই থাকলে জাহাজেও উঠা যেত।
কে ভুতুম।
আমার দূরের মামাতো ভাই। জাহাজের নাবিক। যাবে নাকি শিপে?
নট ইন্টারেস্টেড। দূরের মামাতো ভাই!! এটা কি রকম?
কাছের না, দূরের মানে লতায় পাতায় মামাতো ভাই। উনি খুবই হ্যান্ডসাম। আরো জানতে চাও!!
নট ইন্টারেস্টেড।
হুম, চিটাগাং এ নেমে কেমন লাগলো তোমার ?
এই আলোচনায়ও নট ইন্টারেস্টেড।
তুমি তো আমাদের সবাইকে এই প্রথম দেখলে ঢাকায় এসে, কেমন লাগালো আমাদের সবাইকে?
নো কমেন্ট।
হুম, সব চাচাচাচী এসে ছিলেন বিভিন্ন সময়ে ঢাকায়, তোমারই শুধু আলাদা হয়ে থাকলে কেন এত বছর?
নো কমেন্ট।
মনে হলো শাপলার, তার এত কথায় এবার এতই বিরক্ত হলেন দ্রাবিড়া’দি যে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে শুলেন।
যাবা না তাহলে চাঁদ দেখতে, ছাদেই না হয় চল।
এগেইন
দ্রাবিড়া’দিকে কথাটা শেষ করতে না দিয়েই শাপলা বললো,
তুমি এগেইন নট ইন্টারেস্টেড বলবা, জানি তো বাবা।
তার একথায় এবার দ্রাবিড়া’দি হেসে ফেললেন। বললেন, তুমি কি বাংলা মিডিয়ামের ছাত্রী, প্রচুর প্রেমের গল্প পড়।
নাও আই এ্যাম নট ইন্টারেস্টেড এই আলোচনায়।
দ্রাবিড়া’দি এবার হাসতে লাগলেন। বললেন,
কাব্য ধরনের মেয়ে তুমি।
ইংলিশ মিডিয়াম এর ছাত্রীরা কি চাঁদ দেখে না।
আরে বাপু, সবে নামলাম এই শহরে। এসেই চাঁদ সমুদ্র নিয়ে পড়তে হবে কেন? আকাশ দিয়ে আসবার সময় চাঁদ দেখে নিলে না কেন। চাঁদের কপালে কপাল ছুয়ে এলেই তো পারতে। চাঁদ ধরে সাথে করে এনে তোমার পাশে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারতে।
শাপলা বুঝতে পারছে না চট্টগ্রামে নামার পরই কেন অন্যরকম আচরণ করছে দ্রাবিড়া’দি। বেশ অদ্ভুত লাগছে তাকে তার। ঢাকায় তো বেশ ভালোই ছিল গেল কয়েক দিন। জানতে চাইলো,
তোমার কি হয়েছে?
কিছু না।
হুম, চল খেতে ডাকছে।
আমি যাব না। খাব না। তুমি যাও।
শাপলা চুপ করে চেয়ে দাড়িয়ে থাকলো। দ্রাবিড়া’দি এবার খুব কড়া ভাবে বললেন,
বলছি তো যাও। যাও তো। বিরক্ত লাগছে।
শাপলার এতটা আশা করে নি, মনে হলো, তাকে বলছে যেন দূর হয়ে যাও।
তারপরও শাপলা হা করে দাড়িয়ে থাকলো।
তার একটু পরে বের হয়ে গিয়ে আবার ঢুকলো, সাদা শাড়িটা নিতে ঢুকলো, খালাকে দেবে পরিয়ে দিতে। মা বলে দিয়েছেন দ্রাবিড়া’দি যদি মাসী ডাকেও সে যেন খালা ডাকে ছোট চাচীর বোনকে। শাড়ী পড়ে তারপর সে একাই যাবে ছাদে। ভুতুম ভাইকে একটা ফোন দেবে। যদি আসে তাকেও নিয়ে ছাদে যাবে চাঁদ দেখতে। আছে তো শহরে নাকি সমুদ্রে ভাসছে। কাওকে জিজ্ঞেস করতেও লজ্জা লজ্জা লাগছে হঠাৎ। কে জানি সে জিজ্ঞেস করলে কে কি মনে করে বসে। আপন মনেই একটা লাজুক হেসে আবার রুমে ঢুকলো। দেখলো দ্রাবিড়া’দি আকুল হয়ে বিছানায় পরে কাদছেন। কিন্তু তাকে দেখেই তাড়াতাড়ি উঠে বসলেন। সে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই বললেন,
না এমনি, মনে হচ্ছে মায়ের গায়ের গন্ধ পাচ্ছি।
ওনাকে কোথায় পাবে এখানে।
না আমার নিজের মায়ের কথা বলছি। যাদের থেকে আমাকে তোমার চাচী কিনে বা চেয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি ছিলাম তখন মাত্র তিনদিনের। এসেছি তো ওনাদের খোজ করতে।
শাপলা আবারও হা করে দাঁড়িয়ে থাকে। বলছে কি দ্রাবিড়া’দি! মাথা খারাপ হলো নাকি ওনার!!
উনি আবার কাদতে শুরু করেছেন। ২৫/২৬ বছর বয়সি একজন মানুষ এমন আকূল হয়ে কাঁদে নাকি !
শাপলা তুলতুলে নরম সোফাটায় আবার বসে পড়লো,বড় কঠিন এই জগত সংসার।
এত বিশাল এক ফাপানো ফুলানো পরিবারের এক মেয়ে হঠাং বিয়ের আয়োজনের এক পর্যায়ে জানলো তার বাবার কাছ থেকেই যে সে জন্মেছে কোথায় কার কোলে তিনিও জানতে চাননি কোনদিন তার মায়ের কাছে, জানেন না তিনি কোথায় পেয়েছে তাকে! শাপলার অবাক হওয়া দুচোখ সামনে দেখছে কুড়িয়ে পাওয়া একজন কে যে খড়কুটা ধরে ধরে সুগভীর এক সূরঙ্গে পথ হাতরাচ্ছে। সেও বিহববল, আহতও। যা ছিল আপন দ্রাবিড়া’দির কাছে হঠাৎ আর নাই সেই আপনজন আবেশ। শাপলারও হঠাৎ মনে হলো এই মেয়েটিও তার আপন নয়। আপন পর ধরার বাধার কোন দড়ি নেই, আছে শুধু কিছু অনুভব।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬১৪ বার

Share Button

Calendar

November 2020
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930