» দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বইতে শুরু করেছে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ

প্রকাশিত: ২৬. ডিসেম্বর. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বইতে শুরু করেছে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ । পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় থার্মোমিটারের পারদ নেমেছে ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়া জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার থেকে দুদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে ঢাকা খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তাতে তাপমাত্রা আরেকটু কমতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রা পেতে পারে।

বুধবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আর ঢাকায় ওই সময় থার্মোমিটারের পারদ ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল।

এবার পৌষের চতুর্থ দিনেই মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহের দেখা পায় বাংলাদেশ। ১৯ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গায় পারদ নামে ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসায় এবং দিনভর কুয়াশায় সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। তীব্র শীতে দুর্ভোগে পড়ে খেটেখাওয়া মানুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা।

২২ ডিসেম্বর থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। সোম ও মঙ্গলবার সূর্যের হাসি শীতার্ত মানুষের মনে এনে দেয় খানিকটা স্বস্তি।

আবহাওয়াবিদরা আভাস দিয়েছিলেন, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর হালকা বৃষ্টির পর ২৮ তারিখ থেকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হল তার আগেই।

শীতের মধ্যে ঘন কুয়াশায় ফেরি পারাপারে সমস্যা হয়েছে রাতে ও ভোরে। আর শীতজনিত রোগ নিয়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ চলছে গত এক সপ্তাহ ধরেই।

আবহাওয়া পরিবর্তনের ব্ষিয়টি মাথায় রেখে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের জরুরি বার্তা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ঘন কুয়াশা ও শীতের সময়ে রাতে বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

তীব্র শীতে থ্রিপস পোকার আক্রমণ, চারা পোড়া ও ঝলসানো রোগের প্রকোপ থেকে কীভাবে বীজতলা বাঁচানো যাবে, সেই নির্দেশনাও রয়েছে ওই বার্তায়।

কৃষি বিভাগ বলেছে, জমিতে থ্রিপস পোকার আক্রমণ হলে ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে ম্যালাথিয়ন, আইসোপ্রোকার্ব, কার্বালিক, ক্লোরোপাইরিফস গ্রুপের অনুমোদিত কীটনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

আর চারা পোড়া বা ঝলসানো রোগ দেখা দিলে বীজতলায় পানি ধরে রাখতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার হারে আজোক্সিস্ট্রাবিন বা পাইরোকোস্ট্রাবিন জাতীয় ছত্রাকনাশক মিশিয়ে দুপুরের পরে বীজতলায় স্প্রে করতে হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩৬ বার

Share Button

Calendar

April 2020
S M T W T F S
« Mar    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930