» দেশে ২০,০১,৪৩১টি নমুনা পরীক্ষায় ৩,৭০,১৩২ জনের করোনা শনাক্ত

প্রকাশিত: ০৫. অক্টোবর. ২০২০ | সোমবার

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ২১২তম দিন পর্যন্ত ২০ লাখ ১ হাজার ৪৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ১৩২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় ১১ হাজার ৭৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৪২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ৩১৭ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ৯ হাজার ৮৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ১২৫ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫২৬ জন। গতকালের চেয়ে আজ ৬১ জন কম সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ১ হাজার ৫৮৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৮৩ হাজার ১৮২ জন।

আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৭৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ১২ শতাংশ বেশি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকালের চেয়ে আজ ৪ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ২৩ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ৩৭৫ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত ২ অক্টোবর থেকে মৃত্যুর একই হার বিদ্যমান রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১১ হাজার ৮০৯ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৯ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ২ হাজার ৭০টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ১০৯টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ হাজার ৭৬৭ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৯ হাজার ৮৫৯ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ৯০৮টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত শনাক্ত ২১৭৩ দশমিক ৩৩ জন। সুস্থ হয়েছেন প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত ১৬৬২ দশমিক ৭৮ জন এবং প্রতি ১০ লাখে মারা গেছেন এ পর্যন্ত ৩১ দশমিক ৫৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারী ২৭ জনের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন, আর নারী ১০ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ১৫৫ জন, আর নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ২২০ জন। শতকরা হিসেবে পুরুষ ৭৭ দশমিক ৩০ শতাংশ; নারী ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২৪ ঘন্টায় ২৫ জন হাসপাতালে এবং বাড়িতে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮ জন এবং ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ১৪ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২৫ জন; যা দশমিক ৪৭ শতংশ। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪৩ জন; যা দশমিক ৮০ শতাংশ। ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১২২ জন; যা ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৩০২ জন; যা ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৬৮৯ জন; যা ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ৪৪৪ জন; যা ২৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সের রয়েছেন ২ হাজার ৭৫৩ জন; যা ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ।
মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘন্টায় ঢাকা বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ জন, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে ১ জন করে মারা গেছেন এবং খুলনা বিভাগে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ২ হাজার ৭১০ জন; যা ৫০ দশমিক ৩২ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৯২ জন; যা ২০ দশমিক ৩২ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ৩৫৪ জন; যা ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। খুলনা বিভাগে ৪৪০ জন; যা ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ১৮৯ জন; যা ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ২৩৩ জন; যা ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। রংপুর বিভাগে ২৪৪ জন; যা ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১১২ জন; যা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ।
ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৩ হাজার ৫১৯টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮২২ জন ও শয্যা খালি আছে ১ হাজার ৬৯৭টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩১৪টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি রোগী আছে ১৮২ জন ও শয্যা খালি আছে ১৩২টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭৮২টি, ভর্তিকৃত রোগী ১২১ জন ও শয্যা খালি আছে ৬৬১টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৬ জন ও শয্যা খালি আছে ২৩টি। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭ হাজার ৩৮৬টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগী ৬১৭ জন ও শয্যা খালি আছে ৬ হাজার ৭৬৯টি এবং আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২১১টি ও আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৭৩ জন ও শয্যা খালি আছে ১৩৮টি । সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১১ হাজার ৬৮৭টি, রোগী ভর্তি আছে ২ হাজার ৫৬০ জন এবং শয্যা খালি আছে ৯ হাজার ১২৭টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৫৬৪টি, রোগী ভর্তি আছে ২৭১ জন এবং খালি আছে ২৯৩টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১২ হাজার ৯৮৭টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ৫৩৯টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৩৪৪টি।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে। এছাড়া www.dghs.gov.bd এর CORONA কর্ণারে ‘করোনা বিষয়ক অভিযোগ প্রেরণ’ লিঙ্ক অথবা http:/app.dghs.gov.bd/covid19-complain লিঙ্ক ব্যবহার করে করোনা বিষয়ক যেকোন অভিযোগ পাঠানো যাবে।
গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হওয়া ১ হাজার ৫২৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ৮২৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬৬ জন, রংপুর বিভাগে ৬৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৫৯ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫৮ জন সুস্থ হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ১৭৩ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৩২০ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ১৯০ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৬৮ হাজার ১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৪ হাজার ১৮৯ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৬৮৭ জন, আর কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৯৩২ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮২ জন, আর এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১২৫ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪১ হাজার ৯৫৭ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ হটলাইন নম্বরে ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৮২১টি, ৩৩৩ এই নম্বরে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭৬৪টি এবং আইইডিসিআর’র হটলাইন ১০৬৫৫, এই নম্বরে ফোন এসেছে গত ২৪ ঘন্টায় ১৪৫টি। সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৭৩০টি। এ পর্যন্ত হটলাইনে ফোনকল এসেছে ২ কোটি ১৪ লাখ ৭ হাজার ৫৬১টি।
এছাড়া ২৪ ঘন্টায় কোভিড বিষয়ক টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ২৪২ জন। এ পর্যন্ত শুধু কোভিড বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৪ জন। প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক ও ১০ জন স্বাস্থ্য তথ্যকর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৩ হাজার ৪৮৪ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ১০ লাখ ২ হাজার ২৬২ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ১৬৭ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৩৪৮ জন এবং ১০ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

সূত্র: বাসস

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৫ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031