» ধানমন্ডি লেকে ব্রিজটির নামকরন করা হয়েছিলো ফুটবলার মোনেম মুন্নার নামে

প্রকাশিত: ১১. নভেম্বর. ২০২০ | বুধবার

 

 

লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী
ধানমন্ডি লেকে ব্রিজটির নামকরন করা হয়েছিলো ফুটবলার মোনেম মুন্নার নামে। মুন্না একসময় আবাহনী ক্লাব লিমিটেডের পেলে-ম্যারাডোনা-গুলিথ-ক্লিন্সম্যান। প্রিমিয়ার লিগে ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। বাড়ির ছাদে, গাড়িতে আবাহনীর পতাকা সমর্থকদের আত্মতুষ্টি আর অহংকার উজ্জীবিত করেছিলো মোনেম মুন্নার কারনে। দ্যা নিউ নেশানে ক্রীড়া সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে নব্বইয়ের দশকে মুন্নার ম্যাচ উইনিং রিপোর্ট তৈরী করতে হয়েছিলো। ১৯৯৬ সালে আবাহনী প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হলো। মাঠে চল্লিশ হাজার দর্শক হতো তখন। সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ লেগেছিলো সেবার। খেলা শেষে স্টেডিয়াম থেকে বের হতে হলো প্রচুর দাঙ্গা পুলিশের গার্ড নিয়ে। ভীষণ সংঘর্ষ, সমর্থকরা স্টেডিয়ামে আগুন জ্বালিয়ে দিলে পুলিশ প্রচুর টিয়ার গ্যাস সেল ছুড়েছিলো। একদিকে সংঘর্ষ অন্যদিকে পুলিশের টিয়ার গ্যাস। ভিআইপি গেট বন্ধ করে দিয়েছিলো পুলিশ। সেখানে আমি দাঁড়িয়ে। পাশে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার পামেল ভাই, আল মুসাব্বির সাদি পামেল। তিনি মারা গেছেন অনেক বছর আগে। আমাদের চারপাশে পুলিশ গার্ড, কিন্ত টিয়ার গ্যাসের তীব্র ঝাঁজে আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না তখন। বাইরেও এগুতে দিচ্ছে না পুলিশ, বাইরে সংঘর্ষ। একপর্যায়ে পামেল ভাই বললেন বের হতেই হবে। সন্ধ্যার বাতিগুলো দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকাকে আলোকিত করে রেখেছে। দিলকুশা এলাকায় রিক্সা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। আমরা বঙ্গভবন এর পার্ক দিয়ে হেটে ইত্তেফাক অফিসে যেতাম।

সেদিন সংঘর্ষের ভিতর দিয়েই হাটা দিয়েছিলাম। পত্রিকার অফিসে যাবার পর দেখলাম সবাই এগিয়ে এলেন। আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লিড রিপোর্ট যাবে। আমার কাছে ম্যাচ রিপোর্টের চেয়েও সংঘর্ষটাই বেশী নাড়া দিচ্ছিলো। সংঘর্ষের প্রকৃতি অনুভব করার অভিজ্ঞতা সেই প্রথম। তারপর দ্বায়িত পালনকালে এসব তেমন প্রভাব ফেলেনি আর। পেস্টিং এর শহীদ ভাই-আংকেল আর কম্পিউটার বিভাগের সাত্তার ভাই-আশরাফ ভাই তাগাদা দিচ্ছেন রিপোর্ট তৈরী করতে। নতুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন কাপ হাতে তুলে দিতে। পিয়ন সালামের কাছে চা চাইলাম। বাসস আর ইউএনবি কিছুক্ষনের মধ্যেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দিলো। কিন্ত তাদের রিপোর্টটি দিয়ে লিড করা যাবে না। এডিটর আলমগীর মহিউদ্দিন একসময়ের প্রভাবশালী রিপোর্টার ছিলেন বাংলাদেশ টাইমস এর। তিনি তার রুমে ডাকলেন আমাকে। জিজ্ঞাস করলেন কতদূর এগিয়েছি। তার রুম থেকে বের হয়ে নিউজ এডিটর হাসানুজ্জামান খানের কাছে গেলাম। বললাম রিপোর্ট তৈরী করছি এখনই। “আবাহনী ক্লিন্চ কাপ” লিড রিপোর্ট তৈরী হলো দশ মিনিটেই। সঙ্গে সঙ্গেই রিপোর্ট কম্পোজ শুরু হলো। রিপোর্টের সঙ্গে শেখ হাসিনার ছবি যাবে। ফটোগ্রাফার আসাদ ভাই ছবি তৈরী করে ফেলেছেন, ডার্ক রুম থেকে বের হয়ে আমার টেবিলে ছবি দিয়ে গেলেন। সেই ছবি আমি কম্পিউটার রুমে পাঠিয়ে দিলাম সালামের হাত দিয়ে। সেদিনের আত্মতুষ্টি ছিলো দুটো, এক: আবাহনী চ্যাম্পিয়ন আর দুই: বাই নেম লিড রিপোর্ট। সকালে ধানমন্ডিতে আমার বাড়িতে বেশ কিছু পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যাও পৌঁছে যেতো। বিদেশের পত্রিকাও পেতাম কিছু। রাতে ঘুমিয়ে গেলাম সকালের পত্রিকার অপেক্ষায়।

কি দারুন রোমাঞ্চকর দিন ছিলো সেসময়। ধানমন্ডি ছিলো অনেক কোলাহলহীন। আর এখন আমি যখন সাইকেল নিয়ে বের হই তখন সেই প্রকৃতির রূপ-বর্ন-গন্ধের জন্য আকুল হয়ে পরি। খুঁজে বেড়াই অতীতের কতো কিছু তার ইয়ত্বা নেই।

এই সেই মোনেম মুন্না ব্রিজ। ধানমন্ডি লেকের এপার-উপারে কি সুন্দর এক যোগাযোগ স্থাপন করেছে ব্রিজটি। মোনেম মুন্না হয়তো হারিয়ে গিয়েছে ফুটবল অনুরাগীদের হৃদয় থেকে, কিন্ত ব্রিজটি টিকে রয়েছে। তার বুক চিরে প্রতিদিন পার হয়ে যায় হাজার মানুষ, হাজার গাড়ী আর মানুষের জানা-অজানা কতো স্বপ্ন।

বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন নতুন সভাপতি পেয়েছে। সদ্য নির্বাচিত সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন পূন:নির্বাচিত সভাপতি হলেন। কাজী সালাউদ্দিন ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী অথচ বারবার বাফুফের দায়িত্ব পেয়েও ফুটবলের কিছুই করতে পারছেন না। ফুটবলের বিজয় যাত্রা শুরু হোক কাজী সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে। সম্প্রতি ফুটবলের জন্য শ্লোগান প্রমান করেছে ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আজও নি:শ্বেষ হয়ে যায়নি। বিষয়টি কাজী সালাউদ্দিনের মাথায় রাখতে হবে এবার! বাফুফে যাতে ফিফার দৃষ্টি ফেরাতে পারে বাংলাদেশেও। সেই শুভ কামনা রইলো।

লেখক: সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ,দ্যা নিউ নেশান।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৯ বার

Share Button

Calendar

November 2020
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930