শিরোনামঃ-


» নকশা পেলেই সচিবালয় স্থানান্তর

প্রকাশিত: ২৪. মার্চ. ২০১৬ | বৃহস্পতিবার

এসবিএন ডেস্কঃ মার্কিন স্থপতি লুই আই কাহ্নের করা জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা হাতে পেলেই সচিবালয় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার।

আর এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি লুই আই কানের মূল নকশা সংগ্রহের নির্দেশ দেন সংসদ সচিবালয়কে। সংসদ ভবনের মূল নকশা হাতে না পাওয়ায় সচিবালয় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সরকার শুরু করতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থাপত্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা আগামী দেড় মাসের মধ্যেই হাতে পাবে বাংলাদেশ। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটিকে পরিশোধ করতে হবে সাড়ে ১৬ হাজার ডলার।

মার্কিন স্থপতি লুই আই কাহ্ন যুক্তরাষ্ট্রের যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন, সেই পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য মিউজিয়ামে মূল নকশাটি থাকতে পারে- এমন ধারণা নিয়ে চলতে থাকে নকশার খোঁজ।

এদিকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা জানিয়েছেন, লুই কাহ্নের মূল নকশা খুঁজে বের করার অগ্রগতির বিষয়টি শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হবে। সেই সাথে আবেদন করা হবে, সংসদ ভবনের মূল নকশাবহির্ভূত স্থাপনা ভেঙে ফেলার।

আধুনিক স্থাপত্যকলার এক অনন্য উদাহরণ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন। কিন্তু মার্কিন স্থপতি লুই আই কাহ্নের করা, এ ভবনের মূল নকশা নেই বাংলাদেশের কাছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ স্থাপত্য অধিদফতরের একটি প্রতিনিধি দল মার্কিন স্থপতি লুই আই কাহ্ন যুক্তরাষ্ট্রের যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন, সেই পেনসিলভানিয়াইউনিভার্সিটির স্থাপত্য মিউজিয়াম থেকে মূল নকশা শনাক্ত করেছে।

আগামী ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে এই নকশা যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেশে আনার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম নাসির।

এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মূল নকশা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নকশা আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে সংসদ এলাকার সব নকশা পেতে আরও দুই তিন মাস সময় লাগতে পারে।

লুই আই কাহ্নের এসব নকশা সংগ্রহ করতে নকশাপ্রতি খরচ হবে ৫০ ইউএস ডলার। এর সঙ্গে যারা আনতে যাবেন তাদের আসা-যাওয়া এবং থাকার খরচও যোগ হবে।’

এর আগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী স্থপতি কাজী গোলাম নাসিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র যান। সেখান থেকে তারাই নিশ্চিত করেন মূল নকশার বিষয়টি। এরপর মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বিষয়টি অবহিত করেন।

স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগ আমাদের কাছে শেরেবাংলা নগরের সব নকশার তালিকা দিয়েছে।

এতে দেখা গেছে, ৮ হাজারের বেশি নকশা রয়েছে। এখান থেকে যেটা প্রয়োজন সেটাও আনা যেতে পারে। আবার সরকার চাইলে সব নকশাই আনতে পারে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ১৯৭৪ সালে লুই আই কাহ্ন যখন মূল নকশাটি করেন, তখন ২৭টি মন্ত্রণালয়ের জন্য এ পরিকল্পনা করেন। তখন সেখানে মসজিদ, মাঝে বাগান, চন্দ্রিমা উদ্যানের স্থানে একটি বড় সড়ক, এর সামনে লেক এরপর সংসদ ভবন ছিল।

তাই অনুলিপি ধরে নয়, ১৯৭৪ সালের মূল নকশা ধরে সচিবালয়সহ সব কিছু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই এলাকায় এরই মধ্যে ১০ একর জমিতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

জমি কমে যাওয়া এবং বর্তমানের চাহিদা বিবেচনায় লুই আই কাহ্নের নকশা স্থাপত্য অধিদফতর কিছুটা সংশোধন করেছে।

নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংসদ ভবন এলাকার ভেতরেই গড়ে তোলেন মাজার ও কবরস্থান।

এর মধ্যে সংসদ ভবনের উত্তরে চন্দ্রিমা উদ্যানের মাঝখানে ৭৪ একর জায়গাজুড়ে নিয়ে গড়ে তোলা হয় জিয়ার মাজার কমপ্লেক্স। আর জিয়া ও এরশাদের শাসনামল মিলিয়ে সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত লাগোয়া স্থানে ৫ বিঘারও বেশি জায়গাজুড়ে ‘জাতীয় কবরস্থান’ নাম দিয়ে আরো অন্তত সাতজনকে সমাধিস্থ করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের আমলে বর্তমান সংসদ ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৪১ বার

Share Button

Calendar

November 2020
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930