» নতুন নেতৃত্ব আসছে ঢাকা মহানগর আ:লীগ, চূড়ান্তভাবে এগিয়ে আছেন যারা

প্রকাশিত: ২৯. নভেম্বর. ২০১৯ | শুক্রবার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্যতম শাখা ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আগামীকাল শনিবার। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐদিন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন নেতৃত্বের হাতে দুটি ইউনিটের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বরে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রায় চার বছর পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয় এবং দুটি শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও শাহে আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে দক্ষিণের কমিটি দেওয়া হয়। একইদিন রহমতউল্যাহকে সভাপতি ও সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক করে উত্তরের কমিটি দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের সভাপতি-মন্ডলীর একজন সদস্য বলেন, যে প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই চার নেতার হাতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুটি ইউনিটের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তারা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাই চার নেতাকেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভাপতিম-মন্ডলীর এই নেতা আরও বলেন, আবুল হাসনাতের প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা আভাস দিয়েছেন, উত্তরের সভাপতি রহমতউল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে মহানগরের দুটি ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে সম্পাদকম-মন্ডলীর এক সদস্য বলেন, মহানগরের শীর্ষ পদে দায়িত্বপালনকারী চার নেতার ওপরই ক্ষুব্ধ তিনি। সংগঠন শক্তিশালী করার মতো কোনো উদ্যোগ দায়িত্ব পালনকালে তারা নেননি এমন মূল্যায়ন দলীয় প্রধানের। উল্টো তারা নতুন করে দলাদলি সৃষ্টি করেছেন। দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদকের ওপর ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা ব্যবহার করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারেনি। শাহে আলম মুরাদের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ শেখ হাসিনার হাতে রয়েছে বলে জানান ওই নেতা। আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-মন্ডলীর দুই জন সদস্য বলেন, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু, মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ওমর বিন আজিজ তানিম ও প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন । তবে দক্ষিণের সভাপতি শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন হলে সেক্ষেত্রে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, দক্ষিণের সহ-সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী আলোচনায় আছেন। এদিকে উত্তরে সভাপতি হিসেবে আলোচনায় আছেন মহানগর উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক কাদের খান, সহ-সভাপতি বজলুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় আছেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান হাবিব। তবে আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-মন্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, সভাপতি হিসেবে বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাদের খান এগিয়ে আছেন। ওই নেতা আরও বলেন, দক্ষিণে সভাপতি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওমর বিন আবদুল আজিজ ও নজিবুল্লাহ হিরু এগিয়ে আছেন। তবে আওয়ামী লীগের সভাপতি-মন্ডলীর এক সদস্য বলেন, কে হচ্ছেন নেতা তা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে না থাকলেও এই নামগুলো থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ইউনিটের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হিসেবে বর্তমান সভাপতি আবুল হাসনাত শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পারবেন। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সাবেক সভাপতি আবদুল আজিজের ছেলে ডিএসসিসি কাউন্সিলর ওমর বিন আবদুল আজিজ দলীয় হাইকমান্ডের নিকট পছন্দীয় একটি নাম সেই হিসেবে ওমর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভবনা বেশি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতি-মন্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুটি ইউনিটে নেতা যাকেই বানান যাচাই-বাছাই করে বানাবেন। কোনো বিতর্কিত নেতার হাতে দায়িত্ব তুলে দেবেন না।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৪০ বার

Share Button