» নলডাঙ্গার সেই ছেলেটি বিশ্বভুবনে

প্রকাশিত: ১৯. নভেম্বর. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

 

মোজাফফার বাবু

সুদর্শন আকর্ষনীয় চেহারা ও চমৎকার বাচনভঙ্গি অসম্ভব মেধা শক্তিধর ও সাহসী কবি যাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তার নাম প্রিয় কবি “রেজাউদ্দিন স্টালিন।” জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ক্ষুরধারা কাব্যশৈলীর স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য স্বমহীমায় আবির্ভূত করতে পারছেন।
তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে যশোর মাহমুদুর রহমান হাই স্কুল ও মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলেজে (এমএম কলেজ) ।
মাথার উপর সুনীল আকাশ ভেসে ভেসে চলে মেঘ।যেন কোনো রং তুলি দিয়ে সুনিপুন কারুকার্য এক দিগন্ত থেকে অন্য দিগন্তে ছুটে চলেছে ।কখনো কালো মেঘ ঝমঝমে বৃষ্টি আবার ভ্যাপসা গরম আবার ধবধবিয়ে ধবল আকাশ দূর থেকে আরো দূরে মেঘ আর কাশফুলের যেন মিলনমেলা।
অবারিত মাঠে সুশীতল বাতাসে কাশফুলের দোলার শেষ নেই।নিশিরাতে হাল্কা হিমের ছোয়া ,আবার কুসুমবাগে শিশিরভেজা তৃণ প্রভাতের সূর্যের আলোয় চিকচিক করে।গাছ গাছালির নতুন সজীবতা ফিরে পায়।কবি যেন প্রকৃতি তার তুলি দিয়ে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করেছে হেমন্ত কালকে ।তাই প্রকৃ্তি প্রেমিক কবি তার মাঝে খুঁজে পায়
মনোমুগ্ধকর কবিতা , নান্দনিক রুপে প্রকাশিত হয়,
হেমন্তের রাত্রি–
হেমন্তের এ রাত্রি আরো গভীর হলো গান,
রবীন্দ্রসংগীত ও ছিলো, আকাশের উদ্যানে
চাঁদের সভায় শ্রোতা ছিলো সহস্র জোছনার
বাউল ছিলো বৃক্ষরা আর তারার একতার
প্রকৃতি প্রেমিক কবি যেন প্রকৃতির তুলি দিয়ে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করেছে হেমন্তকালকে।
আবার দেখেছি সাম্প্রাজ্যবাদ পূঁজিবাদ ব্যবস্হায় সারাবিশ্বের অর্থনীতি যখন টালমাতাল , আশির দশকের তিন জন প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেপ, চেরনেনকো, আন্দপোভের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বিশস্ত খলনায়ক মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারকবাহক গর্ভাচেভ ক্ষমতায় আশিন হয় চারিদিকে অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত থেকে আর ও ঘনীভূত পশ্চিমা আইনের শাসন মানবতা ধূলোয় গড়াগড়ি খায় ।- এই বামমনা , বিজ্ঞান মনস্ক প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী
মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় শিক্ষার চলমান প্রক্রিয়ায় সাথে সাথে প্রানবন্ত বস্তুবাদী আলোচনা তার এবং দ্রোহের কবিতা ঘুনেধরা রাজনৈতিক অঙ্গনে শিশর ভেজা নতুন সকালের বার্তা দেয় ।
সুন্দর পরিছন্ন ফনিক্স সাইকেলে চড়ে নলডানা গ্রামের সেই সাদামাটা কবি মাঠেঘাটে পথে প্রান্তে ঘামে ভেজা খনিশ্রমিক, ক্ষরা বন্যায় দারিদ্র্য প্রীত লড়াকু কৃষকের পাশেই মমতাবোধ প্রজ্ঞা মেধা বস্তু‘ নিষ্ট চেতনা শানিত কবি তাদের পাশে দাড়িয়েছেন।
তার সাথে একই অবয়বের চিত্তে মনের উদিলে ভেসে উঠে , ল্যাটিন আমেরিকার কিংবদন্তির কথা ,যে সাইকেলে চড়ে ঘুরে ঘুরে অসহায়ত্ব দারিদ্র্য পৃত্য যাযাবর পথহারা মানুষের জন্য , শত প্রতিকুলতার মধ্যেও আন্তর্জাতিক জাতীয়তাবাদের লক্ষে অটুট ছিলেন যার নাম ” চে গুয়েভারা ”,
কবি রেজাউদ্দিন মা মাটি মানুষের পক্ষে থেকে তার পতিটি কবিতায় আলাদা আলাদা স্বাদ ঘ্রাণ রয়েছে মহাসাগরের তলদেশ থেকে কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্ব সহ কবিতা প্রেমিকদের পিপাশুদের হাতে এনে দিয়েছেন এটাই তার অনাবদ্য সৃষ্টি-।তিনি বিশ্বের আনাচে কানাচে ও পথে প্রান্তে ঘুরতেন মা মাটি মানুষ সমানাধিকারের কল্যানে , কবি ভোগ বিলাস সুবিধাবাদী আখের গুছানো পরিহার করে – কবি যেন তার লেখনীর স্বপনীল ধারায় চেতনার মশাল জালিয়েছেন ।
সাম্য ও মানবতার সার বিশ্বের সাতশ কোটি মানুষ একটি পরিবার–।। আমি ঘরের নয় পরের, আমি নিজের নই দেশের
এই বিজ্ঞানমনস্ক মানবতাবাদী আলোকিত কবির সাফল্যের পিছনে যে অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছেন সুনামধন্য যশোরের সমাজ বিনির্মানের কারিগর গর্ভধারিনী জননী সেই শ্রদ্ধেয়া রাবেয়া খাতুন তার মিষ্টি শাসন আদর সোহাগে কবির যাত্রার কন্টকমুক্ত করেছেন।- আবারো ও কবির আবির্ভাব দিবসে গর্ভধারিণী জননী প্রতি শ্রদ্ধা ।
হিম হিম হেমন্তে প্রকৃতি যেন নতুন রূপে পেখম মেলেছে। গাছে গাছে হলদেটে পাখি শালিক, শ্যামা দোল খাচ্ছে ।গাছ গাছালি পাখপাখালি পরস্পর পরস্পরের সাথে সুখ সুখনোভ প্রকাশ করছে সাঁঝো সন্ধ্যায় আকাশের চাঁদটা জ্বলজ্বল করে।তারা আলোর কিরণে আলোকিত করে বিশ্ব নিখিল।ক্ষণিকের জন্য ডুব দিয়ে মননে আঁধারের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার জাগে।
বৈশ্বিক মহামারিতে গোটা বিশ্ব স্তব্ধ তারই মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরের মধ্যে নীরবে নিভৃতে পত্রিকা ফেসবুকের মাধ্যমে দেশ বিদেশের খবর ও সাহিত্য নিয়ে সময় কাটছে।
এরই মাঝে পড়লাম প্রিয় কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনের “বৈপ্ররীত্য” কবিতাটির প্রত্যেকটি লাইন শক্তিশালী বার্তা বহন করে।কতো চমৎকার ভাবে তিনি লিখেছেন।
কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বর্তমানকালের এক অসামান্য কবি। এপার বাংলা ওপার বাংলার অনন্য বাংলা কে নাড়া দেয়।খুব সহজ সরল মিষ্টভাষী , খুব সহজে মানুষকে আপন করে নেয়।তার মনমুগ্ধকর কবিত বাংলার কবিতা পিপাসু প্রেমিকদের নাড়া দেয় ও আলোর পথে নিয়ে যায়। সততা স্বকীয়তা মানবিক মূল্যবোধ মানুষকে আপন করে। খুবই সহজ সরল মানবতাবাদী কবি।
বর্তমান সময়ে কিছু কবিতা ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। যেমন ফেসবুক, হালখাতা, অভয়, তদন্ত রিপোর্ট, হেমন্তের রাত্রি ও ব্যবচ্ছেদ। কবির প্রতি নিরন্তর শ্রদ্ধা রেখে।
পরিশেষে এই শক্তিধর বিজ্ঞানমনস্ক নান্দনিক কবি পথ চলা হোক বন্ধুর মুক্ত। মসৃণ হোক তার পথ। ফুলে ফুলে বিকশিত হোক তার কবিতার ভুবন। কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন হোক তার জীবন।প্রকৃতি যেন নতুন রূপে পেখম মেলেছে। গাছে গাছে হলদেটে পাখি শালিক, শ্যামা দোল খাচ্ছে ।গাছ গাছালি পাখপাখালি পরস্পর পরস্পরের সাথে সুখ সুখনোভ প্রকাশ করছে সাঁঝো সন্ধ্যায় আকাশের চাঁদটা জ্বলজ্বল করে।তারা আলোর কিরণে আলোকিত করে বিশ্ব নিখিল।ক্ষণিকের জন্য ডুব দিয়ে মননে আঁধারের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার জাগে।
পরিশেষে এই শক্তিধর বিজ্ঞানমনস্ক নান্দনিক কবি পথ চলা হোক বন্ধুর মুক্ত। মসৃণ হোক তার পথ। ফুলে ফুলে বিকশিত হোক তার কবিতার ভুবন। কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন হোক তার জীবন।
আজ তার আবির্ভাব দিবস
এই দিবসে নতুন করে
সব গাছে গাছে ফুটে উঠুক ফুল
বনের সকল পাখিরা ধরোক গান……
আমরা রেখে যাই
হৃদয় নিংড়ে অজস্র ভালোবাসা আর
ফুলের শুভেচ্ছা..।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১১৫ বার

Share Button

Calendar

November 2020
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930