» নানা কৌশল অবলম্বন করতে পারে জামায়াত : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০. ফেব্রুয়ারি. ২০১৯ | বুধবার

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন,
জামায়াত নিজেদেরকে আড়াল করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করতে পারে। জামায়াত বিলুপ্ত করার ঘোষণা তাদের কৌশলেরই অংশ। যদি নেতৃত্বের পরিবর্তন না হয় এবং দল সংশ্লিষ্টরাই ভিন্ন নামে দল গড়ে তোলে তবে তা নতুন বোতলে পুরনো মদের মতোই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতি তাদের (জামায়াতে ইসলামী) ওপর বিক্ষুব্ধ, আন্তর্জাতিক চাপেও আছে তারা- এসবের মুখে দলের নাম পরিবর্তন, বিভিন্নজনের পদত্যাগ এসবই কৌশল মাত্র।’
‘জনগণ বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত নেতৃত্ব চায়।

১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্র“য়ারি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করার পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলে আগামী ২৫ ও ২৬ ফেব্র“য়ারি ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

বিএনপি প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী বিএনপি দেখতে চায়। আমরা চাই বিএনপিসহ যারা আমাদের বিরুদ্ধে রাজনীতি করেন, তাদের অবস্থান শক্তিশালী থাকুক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের চাওয়াও এটি। আমরা চাই, তারা আমাদের গঠনমূলক সমালোচনাও করুক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমালোচনাকে সমাদৃত করার রাজনীতি করেন। আমরা চাই, তারা সংসদে এসেও আমাদের সমালোচনা করুক। আমরা মনে করি, সমালোচনা যেকোন কাজকে শাণিত ও পরিশিলীত করে।’

‘কিন্তু বিএনপি সেই পথ অনুসরণ না করে নিজেদের দুর্বল করা ও আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে’ উলে­খ করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য আর কারো চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই। কারণ বিএনপি যেভাবে নির্বাচন না করা, সংসদে না যাওয়া এ ধরণের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, তাতে অন্যকারও বিএনপি’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রেরও প্রয়োজন নেই, দুর্বল করার চেষ্টারও প্রয়োজন নেই। বরং আমরা চাই বিএনপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকুক ও আমাদের সমালোচনা করুক।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী মেয়াদে থাকবেন কি না সে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প কোনো নেতৃত্ব নেই। গত দশ বছরে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বদলে গেছে। স্বল্প উন্নত দেশের তালিকা থেকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছি। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের একটি হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বসভায় উন্নয়নের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জনগণ বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত নেতৃত্ব চায়। জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাক, এটিই জনগণের প্রত্যাশা। এটি স্পষ্ট যে, জনগণের প্রত্যাশা হচ্ছে, তিনি নেতৃত্ব অব্যাহত রাখবেন এবং আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী জানে, শুধু আওয়ামী লীগে নয়, দেশেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপিসহ বাংলাদেশে একটি চক্র চায় এদেশের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক। জাতীয় নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তারা ষড়যন্ত্র করে। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি’র হুমকি উপো করে তাদের দলেরই অনেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। আমরা মনে করি, উপজেলা নির্বাচনও সংসদ নির্বাচনের মতো উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।’

বিশ্বের বহু দেশের চাইতে বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীন -তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ বলেছেন, বিশ্বের বহু দেশের চাইতে বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে এবং বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে তা স্মরণকালে সবচেয়ে বেশি বিকাশ লাভ করছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রেস কাউন্সিল প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী একথা বলেন। তথ্যসচিব আবদুল মালেক, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, কাউন্সিল সচিব শাহ আলম, সদস্য মনজুরুল আহসান বুলবুল ও মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী এপ্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের উদাহরণ উল্লে­­খ করে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে ভুল তথ্য পরিবেশনের জন্য শত বছরের পুরানো পত্রিকার নিবন্ধনও বাতিল হয়ে যায়। সেখানকার হাউজ অভ কমন্সের প্রতিনিধিকে নিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপনের জন্য বিবিসি’র নির্বাহী কর্মকর্তাদের পদত্যাগ পর্যন্ত করতে হয়েছে। বাংলাদেশে এমন কোনো ঘটনা কখনো ঘটেনি।’

‘আমরা বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই এবং সেই সাথে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতাও সেই পর্যায়ে যাবে বলে আশা করি’, বলেন ড. হাছান মাহমুদ।

মন্ত্রী এসময় ভারত, ভূটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপাল ও তুরস্ক থেকে আগত প্রেস কাউন্সিল প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে রাখা বক্তব্যে বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে ১৪ ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল গঠন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে প্রেস কাউন্সিল ক্রমেই সংবাদপত্র জগতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখছে।’

সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, জাতীয় স¤প্রচার নীতিমালা, অনলাইন গলমাধ্যম নীতিমালাসহ গণমাধ্যমকে বিকশিত করার বিভিন্ন কার্যকর প্রক্রিয়ার কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।

ভারতের প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বিচারপতি চন্দ্রমাওলি কুমার প্রসাদ, ভারতের প্রেস কাউন্সিল সচিব অনুপমা ভাটনগর, সদস্য সি কে নাইক, সুষমা যাদব, সৈয়দ রেজা হোসাইন রিজভী, জয়সংকর গুপ্ত, শ্রীলঙ্কার প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান কুজগাল­া ওয়েল­া বানদুলা, সদস্য এ. কাঞ্চনা কুমারা এরিয়াদাসা, বি. গামিনী পুষ্পকুমারা জয়ারতœ, নেপালের প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান কিশোর শ্রীথা, সদস্য শারাজওয়াতি শ্রীথা, পরিচালক বিন্দু তালাদার, সাবিতা ধকাল,মালদ্বীপের মিডিয়া কাউন্সিল সদস্য আজমি আলী, আলী রিফসান, তুরস্ক থেকে আগত বিশ্ব প্রেস কাউন্সিল সচিব আলী হেনচারলি, ভূটানের রিনজিন ওয়াংচুক, জিগমি ওয়াংচুক।

উলে­খ্য ১৪ ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৮ ফেব্র“য়ারি) আয়োজিত প্রেস কাউন্সিল পদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদান উপলক্ষে ছ‘টি দেশের প্রেস কাউন্সিল প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৭ বার

Share Button

Calendar

May 2019
S M T W T F S
« Apr    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031