নায়ক সালমান শাহ ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

প্রকাশিত: ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

নায়ক  সালমান শাহ  ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

কাজল দেব
খুব সম্ভবত ১৯৯৫ সালের প্রথম দিকের কথা। এক বড় ভাইয়ের (তৎকালীন এক জনপ্রিয় সিনে ম্যাগাজিনের সাংবাদিক) সাথে নায়ক সালমান শাহের বাসায় গিয়েছিলাম উনার সাক্ষাৎকার নিতে। সালমান শাহ তখন ছিলেন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে এবং ভীষণ ব্যস্ত। রাত এগারোটায় আমরা উনার বাসায় পৌঁছে যাই। আমার হাতে ছিল সাংবাদিক ভাইয়ের ছোট্ট একটি টেপ রেকর্ডার।সাংবাদিক ভাই বলেছিলেন কথোপকথনের সময় কথাগুলো যেন ঠিক মতো রেকর্ড করি।রাত বারোটার পর নায়ক আমাদের সামনে আসলেন। সেদিন তার কথাবার্তা,আপ্যায়ন এবং বাচনভঙ্গি আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করেছিলো।থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরা, গায়ে ছিল একটি সাদা টি শার্ট এবং পায়ে ছিল খুবই সিম্পল একজোড়া চপ্পল। প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিটের সাক্ষাৎকার ছিল। সেসময় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও কথাবার্তায় কোনো অহংকার ছিল না। আমার সাথের সাংবাদিক বড়ভাই ছিলেন রাজবাড়ী জেলার এবং সবসময় প্রমিত বাংলায় কথা বলতে অভ্যস্ত। সালমান শাহের কথাবার্তা ও ছিল বিশুদ্ধ বাংলায়।তাছাড়া মাঝে মধ্যে অসাধারণ ইংরেজি বাক্য ও বলেছিলেন। ছিল মানসম্মত শব্দ চয়ন এবং স্পষ্ট উচ্চারণ। আমি তার বিনয় মিশ্রিত কথা বলার ভঙ্গি দেখে সেদিন বিমোহিত হয়েছিলাম। আমার ধারণা হয়েছিল চলচিত্র নায়কেরা সম্ভবত এরকম ই হয়ে থাকে। কারণ তাদের অনেক ভক্ত শুভাকাঙ্ক্ষী থাকে যারা তাদের কে কোনো না কোনো ভাবে অনুসরণ করে থাকে।
আরও অনেক বিখ্যাত নায়কের সাথে পরবর্তীতে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তাদের আচরণ, উপস্থাপন ছিল সত্যিকার অর্থে একজন আপাদমস্তক সম্পূর্ণ মানুষের মতো। সম্প্রতি নায়ক সোহেল রানার একটি সাক্ষাৎকার দেখলাম। কথা বলায় ছিল অসাধারণ ব্যক্তিত্বের ছাপ। যদিও তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত কিন্তু তার বক্তব্যে কখনো কাউকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেননি।নায়ক রিয়াজ অথবা ফেরদৌস এর কথা বলার ধরন টা মার্জিত, শালীন যা সত্যই তাদের অনুসারীদের আশা জাগায়।
ছোট বেলায় একটি কথা প্রায়ই শুনতাম ‘অমুক’ কে দেখতে নায়কের মতো লাগে। অর্থাৎ তার চেহারা, আচার, আচরণ রুচিবোধ সবকিছু অন্যদের চেয়ে ভিন্ন বা উন্নত। যারা নায়ক অথবা যারা সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে তাদের কথা বলার ঢং যদি সাধারণ মানুষের চেয়ে নগণ্য বা রুচি বর্জিত হয় তাহলে আমরা কাকে অনুসরণ করবো?
সত্যি বলতে, হিরো আলম(যার হাজার ফেসবুক অনুসারী রয়েছে) ,সাকিব খান(স্বঘোষিত সুপারষ্টার) এবং অনন্ত জলিল সহ আরো অনেক নায়কের ভক্ত, অনুসারীর সংখ্যা নিছক কম নয় কিন্তু সমস্যা হলো তারা জানেন না কোথায় থামতে হবে,কোথায় কিভাবে কথা বলতে হবে। ভালো আচরণ শেখা বা ভালো কথা বলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীর প্রয়োজন নেই তবে আমাদের সনাতন মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজন। অন্যথায় ,সকল আয়োজনই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
কিছু দিন আগে আমার এক পরিচিত জন আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আমাদের দেশের সেলিব্রেটিদের মাঝে মাঝে যেন ভীমরতিতে ধরে। তারা কথা বলা শুরু করলে খেই হারিয়ে ফেলেন।যদিও ব্যতিক্রম অনেকেই আছেন।
পরিশেষে,যে সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ টাকা থাকলে নায়ক, গায়ক, রাজনীতিবিদ,শিক্ষাবিদ,সবজান্তা হতে পারে সেখানে তথাকথিত সেলিব্রেটিদের কাছ থেকে এরকম বেফাঁস মন্তব্য আশা করাই শ্রেয়।
১৩/১০/২০২০