» নিজস্ব বাতাসে ছাতিমের ঘ্রাণ

প্রকাশিত: ১২. জানুয়ারি. ২০১৮ | শুক্রবার

নাজমীন মরতুজা

বোধহয় অষ্টম কি নবম শ্রেনীতে অনেকদিন হয়ে গেল । সব কথা কি আর মনে আছে ! সে সময়ে চুটিয়ে বাংলা ছবি দেখা শুরু করেছি ।
মনে আছে প্রথম যে সিনেমা মাথার উপর দিয়ে গেল তা হলো তপন সিংহের ‘রাজা’ । তারপর দেখলাম ‘সংসার সীমান্তে’ । দাদার কীর্তি সব বিখ্যাত ছবির দৃশ্যগুলি মনের মাঝে বিদ্যুৎ চমকের মত খেলে যেতো ।
স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রাই আমার জীবনের দীর্ঘতম যাত্রা । গভীরতম উৎপাটন, আধুনিক সাহসী মানুষ হিসাবে শাহরিক জীবনে সহজেই খাপ খাইয়ে নিয়েছিলাম ঠিক, কিন্তু শেকড়টা ভুলিনি ।তাই যখন আপন পেশায় মগ্ন হলাম, তখন বার বার মানুষ খুঁজেছি, কবিগানের আখড়ায়, ঝুমুর খ্যামটার দলে, বাবার আদলে সৎ নিষ্ঠাবান একজন মানুষ ।
বইপত্র পড়ার অভ্যাস সেটাতে এক অদ্ভুত আনন্দ পেতাম । এখন যেমন ভারচুয়ালি অনেক সুযোগ তখন তা ছিল না । এর ওর কাছ থেকে বই আদান প্রদান করে পড়ার অভ্যেস জিইয়ে রাখা হতো ।
আমি স্কুলে পড়তে পড়তে তারাশংকর, বনফুল, বিভূতিভূষণ, শরদিন্দু, মনোজ বসুদের প্রায় অনেক লেখার সংগে ভালরকম পরিচয় হয়ে গেছে । শরৎচন্দ্রের কথা ছেড়েই দিলাম । শুধু পড়ার সুযোগ নয়, পড়ার একটা এটমস্ফিয়ার তৈরি করে নিয়েছিলাম আমরা কতজন মিলে । তার সংগে সিনেমা দেখতে দেখতে মনের মধ্যে একটা গল্পের জাল তৈরি হচ্ছিল ।
সে সময়ে খুরশিদা চাচীর বাসায় গিয়ে হলিউডের সেই গোল্ডেন পিরিয়ডের ছবিগুলো দেখতাম । তখন ভি সি আর এর যুগ বহমান ছিল ।
অনেক ছবি দেখেছি, সেসময় চাচী খুব খুশী হতেন উনার সংগে সিনেমা দেখতে বসলে বুঝিয়ে দিতেন পুরো সিনেমা ।
সে সময়ের কিছু দেখা সিনেমার কথা না বললেই নয় । যেমন ‘ফর হুম দা বেল টোলস’, ‘দা ইয়ার রিং’, ‘দা বেস্ট ইয়ারস অব আওয়ার লাইভস’ । আরও অনেক ছবি, সবগুলির নাম মনে করা দুস্কর বটে ।
এইসব ছবির বিখ্যাত সব আর্টিস্ট রোনালড কোলম্যান,থেকে শুরু করে গ্রেগরি পেক পর্যন্ত, অভিনেত্রীদের মধ্যে বেটি ডেভিস, থেকে শুরু করে অদ্রে হেপবারন পর্যন্ত । এই যে সে বয়সে বাংলা এবং হলিউড দুধরণের জায়গায় দুধরণের ছবি দেখার অভিজ্ঞতা-এটা একটা এল্কেমি হয়তো ঘটিয়ে দিয়েছিল ।
তারপর আমার মনে হতো এমন গল্পগুলোর মতো লেখা দরকার । তারপর শুরু করতাম কাল্পনিক গল্প বানিয়ে লেখা, এমনি করেই শুরু হোল ছোট গল্প লেখার দিনগুলি ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৮২ বার

Share Button