» নির্যাতিত গৃহবধূর পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশকে নির্দেশ

প্রকাশিত: ০৫. অক্টোবর. ২০২০ | সোমবার

নোয়াখালীতে নির্যাতিত গৃহবধূর পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে স্থানীয় পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে বিটিআরসিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গৃহবধূর নির্যাতনের ভিডিওটি অনলাইন মাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি আদালতের নজরে আনার পর সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদেশে ঘটনা তদন্তের জন্য সেখানকার স্থানীয় সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল, সমাজসেবা অফিসারসহ তিনজনের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বিটিআরসিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্যাতনের একটি ভিডিওর কপি সংরক্ষণে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। ২৮ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

আদালতে আজ শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট জেডআই খান পান্না, ইয়াদিয়া জামান, তানজিম আল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এ এম জামিউল হক ফয়সাল।

কয়েকটি আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে ওই নারীকে রক্ষায় এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অবহেলার কারণে বেগমগঞ্জের ওসি ও বেগমগঞ্জ থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই গৃহবধুর স্বামীর সাথে নিজের ঘরে অবস্থান করলে স্বামীসহ গৃহবধুকে আটক করে অভিযুক্তরা ব্যাপক নির্যাতন চালায়। তারা স্বামীকে বেঁধে রেখে অবৈধ সম্পর্কের কথা বলে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে। এ সময় তার বিবস্ত্র নির্যাতনের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে রাখে নির্যাতনকারীরা। তার পর থেকে পুরো পরিবার কে অবরুদ্ধ করে তারা। এক পর্যায়ে তাদের বাড়ি ঘর ছাড়তে বাধ্য করে। ঘটনার ৩২ দিন পর ৪ অক্টোবর রোববার ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবস্ত্র নির্যাতনের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় বর্বর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে এলাকার মোহর আলী মুন্সি বাড়ির মৃত আবদুর রহিমের ছেলে রহমত উল্লা (৪০), একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার হারাধন ভূঁইয়া বাড়ির শেখ আহমদ দুলালের ছেলে আবদুর রহিম (২০), মামলার প্রধান আসামি বাদলকে ঢাকা কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে ও অস্ত্রসহ দেলোয়ার নামে আরেক জনকে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৫ বার

Share Button