» নুহাশপল্লীর সুইমিং পুলে কলকাতার শেরিফ

প্রকাশিত: ১১. জুলাই. ২০২০ | শনিবার


মাজহারুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদের ‘চন্দ্রকথা’ ছবির শুটিং চলছে নুহাশপল্লীতে। আমরা মাঝে মাঝে যাই শুটিং দেখতে এবং আড্ডা দিতে। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর প্রিয়জনদের নিয়ে আড্ডা দিতে ভালোবাসেন। প্রিয়জনেরাও তাঁর সঙ্গ উপভোগ করেন। তা সত্ত্বেও তিনি সব সময় সচেষ্ট থাকেন আড্ডার বিশেষ কোনো উপলক্ষ তৈরিতে। নিজের লেখালেখির মতোই এক্ষেত্রেও তাঁর সৃজনপ্রতিভার জুড়ি মেলা ভার। আড্ডা দিতে মন চাইলে একাধিক উপলক্ষ যেন তাঁর হাতে সদাপ্রস্তুত।

কোনো সপ্তাহে নুহাশপল্লীতে যেতে না পারলে স্বাধীন ফোন করে বলে, হুমায়ূন ভাইয়ের নির্দেশ আজ সন্ধ্যায় সবাইকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসতে হবে। রাতে বিশেষ খাবারের আয়োজন আছে। কাজেই যথারীতি দলবল নিয়ে সন্ধ্যায় আমরা হাজির। স্বাধীন এই ছবির কো-প্রডিউসার, অভিনেতা এবং আমাদের বন্ধু। সে দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করতে। এমনি একদিন শুটিং শেষে আড্ডার মাঝে হুমায়ূন আহমেদ বললেন, মাজহার, সুনীলদাকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করো। শুটিংয়ের শেষ দিন উপলক্ষে উৎসবের আয়োজন করব। অনেক দিন তাঁর সঙ্গে আড্ডা দেওয়া হয় না। ফোন করে দেখো তিনি আসতে পারবেন কি না! একসঙ্গে একটু হইচই করি।

আমি ফোনে সুনীল গাঙ্গুলীকে হুমায়ূন আহমেদের ইচ্ছার কথা জানালাম। সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি জানালেন তিনি। তাঁর দুজন পরস্পরকে খুবই পছন্দ করেন। এর আগে ২০০১-এর জানুয়ারিতে হুমায়ূন আহমেদের বড় মেয়ে নোভার বিয়েতে তিনি অতিথি হয়ে এসেছিলেন।

দিন-তারিখ ঠিক হয়ে গেল। ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। হুমায়ূন আহমেদ বললেন, বেলাল ভাইকে সঙ্গে নিয়ে এসো। সুনীলদার অতি ঘনিষ্ঠজন তিনি। জাদুকর জুয়েল আইচকেও আসতে বললেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও স্বাতী বৌদি আসবেন এবং এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি নুহাশপল্লীতে যাবেন। বিকেল চারটায় দখিন হাওয়া থেকে বেলাল চৌধুরী, জুয়েল আইচ, স্থপতি ফজলুল করিম, মাসুম, কমল ও আমার স্ত্রী স্বর্ণাসহ এয়ারপোর্টের উদ্দেশে রওনা হলাম। সেখান থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও স্বাতী বৌদিকে নিয়ে ভাওয়াল মির্জাপুরের দিকে ছুটল আমাদের গাড়ি।

বর্ষার সময় ভাওয়াল মির্জাপুর হয়ে নৌকায় নুহাশপল্লী যাতায়াত করা হয়। আমরা মির্জাপুর ঘাটে পৌঁছলাম রাত ৮টায়। হুমায়ূন আহমেদের বজরা নৌকাটি অচল থাকায় তুরাগ নদীর তীরবর্তী মির্জাপুর বাজারের ঘাট থেকে ভাড়া করা ইঞ্জিনচালিত বড় একটি নৌকায় উঠে বসলাম সবাই। পঞ্জিকার পাতায় শরৎ এসে গেলেও বর্ষা সেবারে প্রলম্বিত। শীর্ণ তুরাগের দু’পার প্লাবিত হয়ে বিস্তীর্ণ হাওরের রূপ নিয়েছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কৃষ্ণপক্ষের রাত। আকাশ ঢেকে রেখেছে ভারী মেঘ। মেঘের কারণে নক্ষত্রের আলোও নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকার। বিশাল হাওরের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলেছে নুহাশপল্লীর দিকে। দূরে বহুদূরে কোথাও হয়তো বিন্দুসম একটু আলো চোখে ভেসে উঠতেই আবার হারিয়ে যাচ্ছে। অন্ধকারের আঁচলে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে সেই আলোকবিন্দু। অন্ধকারেরও যে এরকম মোহময় রূপ থাকতে পারে, আগে কখনো সে উপলব্ধি হয় নি। নিস্তব্ধ চরাচর আর নিকশ কালো আঁধারে ছন্দপতন ঘটাচ্ছে নৌকার ইঞ্জিনের আওয়াজ।

আমরা সবাই জড়ো হয়ে বসেছি। মৃদু আলোয় জ্বলছে একটি হারিকেন। সেই আলো-আঁধারীতে লক্ষ করলাম সুনীলদা আর স্বাতী বৌদির মুগ্ধতা। বেলাল চৌধুরী সুনীলদার দীর্ঘদিনের বন্ধু। সুনীল-পরিবারেরই একজন। গল্পে মেতে উঠলেন তাঁরা দুজন। ফেলে আসা যৌবনের গল্প। আমরা সবাই শ্রোতা। স্বাতীদি মাঝে মাঝে দু’একটা কথা বলছেন। গল্পে গল্পে কখন নৌকা নুহাশপল্লীর ঘাটে পৌঁছেছে বুঝতে পারি নি। এঁটেল মাটির উঁচু-নিচু কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে পুকুরের পাড় দিয়ে অতি সাবধানে হেঁটে আমরা পৌঁছলাম নুহাশপল্লীর অতিথিশালায়। হুমায়ূন আহমেদ এগিয়ে এলেন সুনীলদার দিকে। একে অন্যকে উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়ালেন তাঁরা। এরপর আড্ডায় মেতে উঠলেন সবাই। একপর্যায়ে হুমায়ূন আহমেদ উঠে দাঁড়ালেন। বললেন চন্দ্রকথার একটি দৃশ্য শুটিং করবেন তিনি এবং এরই মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছবিটির দৃশ্য ধারণের কাজ। এটি দেখানোর জন্যই তিনি কলকাতা থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছেন।

দৃশটি ছিল একটি নাচের। এখানে অংশগ্রহণ করলেন শাওন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চমৎকারভাবে দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করা হলো হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায়। বলাই বাহুল্য, সস্ত্রীক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আগ্রহভরে দৃশ্যটির ধারণ কাজ উপভোগ করলেন। তারপর আবার শুরু হলো আড্ডা। অনেক রাত পর্যন্ত চলল সে আড্ডা।

সকালে নাস্তার আয়োজন করা হলো হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় লিচুগাছ তলায়। ‘প্রথম আলো’র সম্পাদক মতিউর রহমান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে নুহাশপল্লীতে। নাস্তা খাওয়ার পর লিচুতলায় বসে আমরা গল্প করছি। অল্প কিছুক্ষণ পর মতিউর রহমান, সাজ্জাদ শরীফ ও নাসির আলী মামুনকে সঙ্গে নিয়ে ‘অন্যদিন’-এর ফটোগ্রাফার বিশ্বজিৎ এল। মতিউর রহমান আজই প্রথম নুহাশপল্লী আসছেন, তাই বিশ্বজিৎকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁদের পথ চিনিয়ে নিয়ে আসতে। অভিনেতা জাহিদ হাসানও ঢাকা থেকে এসেছেন। আর ‘চন্দ্রকথা’র অভিনেতা ফেরদৌস, আহমেদ রুবেল, স্বাধীন, অভিনেত্রী শাওন, চম্পাসহ অন্যরা তো আছেনই। ক্যামেরাম্যান মাহফুজুর রহমান খানও আছেন। শুধু নেই আসাদুজ্জামান নূর। তাঁর শুটিং একদিন আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি ঢাকা ফিরে গেছেন। তিনি এই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন।

লিচুতলায় আড্ডায় মেতে উঠলেন সবাই। সে আড্ডা যেন আর শেষ হতে চায় না। নাসির আলী মামুনের ক্যামেরায় শাটার পড়ছে ক্রমাগত। মাঝে মাঝে তিনি রেকর্ডার অন করে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। জাহিদ হাসান মজার মজার সব জোকস বলছেন। জোকস বলায় হুমায়ূন আহমেদও অনেক বেশি পারদর্শী। কিছুক্ষণ পর পরই সবাই গলা ফাটিয়ে হেসে উঠছেন। এমন প্রাণবন্ত আড্ডা খুব কমই দেখা যায়। দুপুর প্রায় হয়ে এসেছে। হুমায়ূন আহমেদ ঘোষণা দিলেন—সুইমিং পুল পানিতে ভর্তি করা হয়েছে, তিনি সবাইকে নিয়ে পুলে নামতে চান। এটা বলেই তিনি সুইমিং পুলের দিকে হাঁটা শুরু করলেন। আমরা সবাই তাঁকে অনুসরণ করলাম।

কিছুক্ষণের মধ্যেই হুমায়ূন আহমেদ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সুইমিং পুলে নেমে পড়লেন। বেলাল চৌধুরী, জুয়েল আইচ, জাহিদ হাসান, ফেরদৌস, আর্কিটেক্ট ফজলুল করিমও নেমে গেলেন। মতিউর রহমান কোনোভাবেই নামবেন না। একসময় সাজ্জাদ শরীফও নামলেন। হুমায়ূন আহমেদ মজা করে বললেন, মতি ভাই, আপনি না নামলে কিন্তু ঈদসংখ্যায় উপন্যাস পাবেন না। কিছুদিন পরই ‘প্রথম আলো’র ঈদসংখ্যা প্রকাশিত হবে। তারপরও মতি ভাই নামবেন না। একপর্যায়ে সবার অনুরোধে তিনিও নামলেন। মাসুম, কমল, রোমেল সবাই নামল। ছোট সুইমিং পুল ভর্তি হয়ে গেল। নাসির আলী মামুন ও বিশ্বজিৎ ছবি তুলছেন। একপর্যায়ে বিশ্বজিতের হাত থেকে ক্যামেরা নিয়ে আমিও কিছু ছবি ফ্রেমবন্দি করলাম। সবশেষে নামলাম আমি। পরদিন ‘প্রথম আলো’র শেষের পাতায় সুনীল ও হুমায়ূনের সুইমিং পুলে গলা পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকার খবর ও ছবি ছাপা হলো। খবরের শিরোনাম হলো ‘কলকাতার শেরিফ নুহাশপল্লীর সুইমিং পুলে’। কিছুদিন আগে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোলকাতার শেরিফ হয়েছেন।

দীর্ঘ দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সুইমিং পুলের পানিতে সবার অফুরন্ত হইচই। স্বাতী বৌদি মেয়েদের সঙ্গে একটু দূরে বসে সুইমিং পুলের দৃশ্য উপভোগ করছেন। দুপুর গড়িয়ে তখন বিকেল। সুইমিং পুলের সেদিনের আড্ডা নিয়ে ‘প্রথম আলো’র সম্পাদক মতিউর রহমান তাঁর একটি লেখায় উল্লেখ করেন “একপর্যায়ে সবাই মিলে আমরা সুইমিং পুলে নেমে পড়ি। হইহুল্লোড় হুটোপুটিতে
কেটে যায় সকাল, দুপুর আর বিকেল। সেদিন কত না আনন্দ হয়েছিল।” সূর্যের আলো নরম হয়ে এসেছে। একে একে সবাই সুইমিং পুল থেকে উঠে এলেন। মতি ভাইকে সন্ধ্যার মধ্যে পত্রিকা অফিসে পৌঁছতে হবে বলে তিনি না খেয়ে তড়িঘড়ি করে সাজ্জাদ শরীফ ও নাসির আলী মামুনকে নিয়ে চলে গেলেন।

সন্ধ্যার পর সুইমিং পুলের পাশে শুরু হলো ক্যাম্পফায়ার। গজারি কাঠ দিয়ে বড় করে আগুন জ্বালানো হলো। আগুনের চারদিকে গোল হয়ে সবাই বসলেন। শুরু হলো গান-বাজনার আসর। যথারীতি হাসন রাজা, রাধারমন, উকিল মুনশি থেকে শুরু করে হুমায়ূনসংগীত। হুমায়ূন আহমেদের লেখা গানগুলোকে ‘হুমায়ূনসংগীত’ বলা হতো। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত কোনোকিছুই বাদ গেল না। গানের ফাঁকে ফাঁকে গল্প-রসিকতা তো আছেই।

হুমায়ূন আহমেদের আড্ডা, গান ও রসিকতা সম্পর্কে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর ‘বাংলাদেশে আমার বন্ধুরা’ শিরোনামে এক লেখায় উল্লেখ করেছেন : “হুমায়ূনের সঙ্গে আড্ডার প্রধান অঙ্গ গান-বাজনা। হুমায়ূন খুবই সঙ্গীতপ্রিয়। তার ফিল্মগুলোতে সে নিজেই গান লেখে, নিজেই সুরও দেয় বোধহয়। তবে গায়ক সে নয়। কিন্তু তার ফিল্ম ইউনিটের অনেকেই উপস্থিত থাকে আড্ডায়, গায়ক-গায়িকার অভাব নেই, তার স্ত্রী শাওনও একজন ভালো গায়িকা। সুতরাং গানের সুর সব ছোটখাটো কথাবার্তায় ছাপিয়ে যায়।

হুমায়ূন গান ভালোবাসে, গানের সমঝদার এবং মাঝে মাঝে সে যে-সব টুকটাক গল্প ছাড়ে, তা অনবদ্য। রসিকতায় সে প্রায় সৈয়দ মুজতবা আলীর সমতুল্য। হুমায়ূনের এইসব রঙ্গ-রসিকতাগুলো কেউ লিখে রাখলে তা অনায়াসে হুমায়ূন কথামৃত হিসেবে স্থায়ী মূল্য পেতে পারে।”

এদিনের আড্ডাতেও বেশির ভাগ গানই গাইলেন শাওন। সুনীলদার স্ত্রী স্বাতী বৌদি অনেক গানেই কণ্ঠ মেলালেন তাঁর সঙ্গে। দু-একবার কণ্ঠ মেলালেন স্থপতি করিম। একপর্যায়ে স্বাতীদি একাই শুরু করলেন,

“লাল পাহাড়ের দেশে যা
রাঙ্গামটির দেশে যা
ইত্থাক তুকে মানাইছে না রে
ইক্কেবারে মানাইছে না রে

লাল পাহাড়ি দেশে যাবি
হাঁড়ি আর মাদল পাবি
মেয়ে মরদের আদর পাবি রে
ও নাগর… ও নাগর…
ইক্কেবারে মানাইছে না রে…”।

সুনীলদার খুব প্রিয় এই গান। তিনিও গলা মেলালেন।তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘পূর্ব পশ্চিম’-এ উল্লেখ আছে এর। সুনীলদা বিভিন্ন আড্ডায় নিজেও গাইতেন এই গান।

আড্ডা জমে গেল। একসময় সুনীলদা আর স্বাতীদি দুজনে গানের তালে নাচতে শুরু করলেন। তাতে যোগ দিলেন অনেকেই। স্মরণীয় অনেক আড্ডার মতো সেদিনের আড্ডাও শেষ হলো আনন্দ-উচ্ছাসে।

দুই রাত আনন্দময় সময় কাটানোর পর সকালে নাস্তা খেয়ে বিদায়ের প্রস্তুতি। যাওয়ার আগে কলকাতার শেরিফের সাথে নুহাশ চলচ্চিত্র ও নুহাশপল্লীর কর্মীদের ফটোসেশন। পুকুরঘাটের পেছনে নৌকা বাঁধা। হুমায়ূন আহমেদ ঘাট পর্যন্ত এলেন অতিথিদের বিদায় জানাতে। একপর্যায়ে নৌকায় ওঠার আগেই শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। পিচ্ছিল কাদামাটিতে সাবধানে পা ফেলে আধা ভেজা হয়ে নৌকায় ছইয়ের ভেতর আশ্রয় নিলাম সবাই। বেলাল ভাই পেছনে পড়ায় ভিজে একাকার। নৌকা আস্তে আস্তে নুহাশপল্লীর ঘাট থেকে দূরে সরে যেতে লাগল। হুমায়ূন আহমেদ অঝোর ধারায় বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছেন।🔹

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৬৪ বার

Share Button

Calendar

August 2020
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031