» নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ফখরুলের উদ্বেগ

প্রকাশিত: ৩০. নভেম্বর. ২০১৯ | শনিবার

মোহাম্মদ অলিদ তালুকদার: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ।

তিনি বলেন, ‘‘ নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন বিভক্ত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ও সচিব এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা লোক নিয়োগ দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন কাজ করছেন যেটা সংবিধানের পরিপন্থি। কারণ এখানে কমিশনের সবাই মিলে একক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেটা তারা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

‘‘ এই নির্বাচন অযোগ্য। এখন যেটা মনে হচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশনেও দুর্নীতির তদন্ত হওয়া দরকার। কারণ যে বিষয়গুলো সেখানে ঘটছে সেটা সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতই হচ্ছে বলে আমাদের জনগনের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি- দুর্নীতি কমিশনের অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের দুর্নীতির খুঁজে বের করার জন্য কাজ করা প্রয়োজন।”

একাদশ নির্বাচন কমিশনের ভুমিকার কঠোর সমালোচনা করে তাদের পদত্যাগের দাবি পূনর্ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব।

‘বিদেশে নারী কর্মীদের নির্যাতনে কমিশন গঠনের দাবি’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ বিদেশে আমাদের শ্রমিকরা বিশেষ করে আমাদের নারী শ্রমিকরা কাজ করতে যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে, তাদেরকে ওপর শারীরিক ও মাননিক নির্যাতন এবং অনেক সময়ে শ্লালিনতাহানি করা হচ্ছে, তাদেরকে ক্ষেত্র বিশেষে হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে।”

‘‘ এ বিষয়ে সরকার যে ভুমিকা পালন করা দরকার, সেই ভুমিকার পালন করতে পারছেন না এবং জোরালো কোনো ভুমিকা নিতে পারছেন না। আমরা মনে করি এটা চরম ব্যর্থতা। আমরা মনে করি প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা রক্ষা করার দায়িত্ব তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে কমিশন গঠন করে সত্য উতঘাটন করে কিভাবে সমস্যা সমাধান করা যায় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানাচ্ছি।”

‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেবে’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ আপনারা জানেন যে, ভারতের সাথে যেসব চুক্তি হয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চেয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছিলাম। আমরা প্রায় ৭ দিনের অতিরিক্ত সময়ে অপেক্ষা করেছি কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে কোনো রেসপনস পাই নাই।”

‘‘ সেই কারণে আমাদের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা এখন তথ্য অধিকার আইনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই চুক্তিগুলো সম্পর্কে ধারনার জন্য চিঠি দেবো। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে আমরা এই চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।”

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ৬টা থেকে দেড় ঘন্টাব্যাপী স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা ও তার মামলার বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয় এবং স্থায়ী কমিটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিএসএমএমইউর মেডিকেল বোর্ড সঠিক প্রতিবেদন দেবে এবং সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ থেকে সুবিচার পাবেন বেগম জিয়া।

বৈঠকে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি, ভারতে নাগরিক পূঞ্জি, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আগামী ৩ ডিসেম্বর ও ভারতের নাগরিকপুঞ্জির ফলে পুশব্যাক সম্পর্কে আগামী ৭ নভেম্বর বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করবে। এছাড়া সারাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতায় নিয়ে শিগগিরই একটি সেমিনার করার হবে বলে জানান তিনি।

দলের নেতৃবৃন্দসহ ৫০১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘ সম্প্রতি একটি সংগঠনের প্রোগ্রামকে কেন্দ্র করে আপনারা জানেন যে, আমরা সিনিয়র লিডারসসহ প্রায় ৫‘শ লোকের বিরুদ্ধে একটা মামলা হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে জামিন পেয়েছি। এই মামলাকে কেন্দ্র করে এখন সাধারণ মানুষের নাম দিয়ে তাদেরকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”

‘‘ আবার নতুন করে বানিজ্য শুরু হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এ্ মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১২ বার

Share Button