শিরোনামঃ-


» নৌকাতো তিরিশ লক্ষ শহীদের

প্রকাশিত: ২৯. ডিসেম্বর. ২০১৮ | শনিবার


হাসানআল আব্দুল্লাহ

আমার বাবাকে যখন ওরা অন্যান্যদের সাথে, যে কাফেলায় বেশ কিছু নারীও ছিলেন, সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করেছিলো তখন আমার বয়স তিন। প্রায় সকলেই ওই অপরেশনে মারা গেলেও, মধুমতির জলে অকস্মাৎ ঝাঁপ দিয়ে মাত্র দুই একজন প্রাণে বেঁচে যান। আমার বাবা অবশ্য আহত অবস্থায় স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে মারা যান। আমার মায়ের বয়স তখন ১৮ থেকে ২২ (ধারণা করি যেহেতু তাঁর জন্ম তারিখ লেখাজোকা ছিলো না)। গ্রামে আমাদের তিন ভাই বোনকে লেখাপড়া করাতে বহু কষ্ট করেছেন। কষ্ট করেছি আমরাও। কিন্তু সরকারী কোনো সহযোগিতা কোনো দিন চাইনি, এবং পাইওনি। তবে, বাবার জীবনের বিনিময়ে, তিরিশ লক্ষ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে সেটাই তো আমাদের জন্যে পরম পাওয়া। বাবা তো আমাদের জন্যে রেখে গিয়েছেন মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেয়ার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। কিন্তু আমরা সর্বদাই চেয়েছি রাজাকারদের বিচার। রাষ্ট্রের কাছে তো আমাদের এই একটিই চাওয়া ছিলো। দেরীতে হলেও রাষ্ট্র সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। জাতির জনকের সন্তান আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আওয়ামীলীগ সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাগ্রতার সাথে এমনকি জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন ছয় শীর্ষ রাজাকারকে। দেশকে তুলে দিয়েছেন উন্নয়নের মহাসড়কে। হ্যাঁ, স্বীকার করছি এখনো দেশের নানা পর্যায়ে দুর্নীতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐকান্তিক ভাবে চাইছেন একটি দুর্নীতি মুক্ত সমাজ। মাশরাফির মতো ক্লিন ইমেজের নতুনদের মনোনয়ন দিয়ে তিনি তাঁর সেই অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষত হয়েছেন। রাজাকারমুক্ত দেশ গড়ার জন্যে, উন্নয়নের মহাসড়কে আরো শক্তিশালী হওয়ার জন্যে, দুর্নীতির মূলোৎপাটনের জন্যে আমি শেখ হাসিনার নৌকায় আবারও ভোট দেবো। কারণ শেখ হাসিনার নৌকাতো তিরিশ লক্ষ শহীদের নৌকা। “তিরিশ তারিখ সারা দিন” আপনারাও “নৌকায় ভোট দিন।”

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৯৭ বার

Share Button