» পলিথিনে সয়লাব শ্রীমঙ্গল, প্রতিকারে নেই দৃশ্যমান পদক্ষেপ

প্রকাশিত: ২৯. জানুয়ারি. ২০২০ | বুধবার

 
পংকজ কুমার নাগ শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : প্রকৃতির কোলে শান্ত পরিবেশের শ্রীমঙ্গল আজ পলিথিনের শহর । এই শহরের আনাচেকানাচে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে পলিথিন । মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে হোটেল, কাচা-বাজার, মাছের বাজার, ফলের দোকান, ভুসিমালের দোকান, লাইব্রেরী, ফার্মেসি, হার্ডওয়্যার, কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান, কসমেটিকসের দোকানসহ শহরের প্রায় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনা বাঁধায় ব্যবহৃত হচ্ছে পলিথিন । 

ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক বিগত দিনে পলিথিন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হলেও, থামানো যাচ্ছেনা পলিথিন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য । জরিমানা হওয়ার পরও পলিথিন ব্যবসায় অধিক লাভের কারনে টিকে যাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা । অনেকেই ভিন্ন ব্যবসার আড়ালে নীরবে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ পলিথিনের ব্যবসা । গোপন স্থানে গোডাউন রেখে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ পলিথিন । 
তাছাড়া জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পলিথিন ব্যবহারে শ্রীমঙ্গলের সাধারণ জনগন ও ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করতে কোন প্রকার আদেশ, উপদেশ, মাইকিং, সভা-সেমিনারের আয়োজন করতেও দেখা যায়না সচরাচর । ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরাও বিনা বাঁধায় নিত্ত প্রয়োজনীয় দ্রবাদী বিক্রয়ে ব্যবহার করছেন পলিথিন । 

এদিকে ব্যবহারের অযোগ্য পলিথিন ড্রেনে পড়ে শহরের ড্রেনেজ সিস্টেমকে ব্যহত করছে । ফলে শহরের পানি নিষ্কাশন বাধার সম্মুখীন হচ্ছে । তাছাড়া রাস্তাঘাটে, রেললাইনের পাশে, ডাস্টবিনে প্রচুর পলিথিনের স্তুপ জমে যাচ্ছে । 
পলিথিন একটি রাসায়নিক যৌগ যা শতশত বছর মাটির নিচে থাকলেও পঁচেনা । এটি মাটির উর্বরতা শক্তি কমিয়ে ফেলে । মাটির নিচে থাকা পলিথিনের কারনে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কাজেও ঝুকির মধ্যে পড়ছে ।

বিশ্বের প্রথম দেশ বাংলাদেশ যারা পলিথিনের কুফল বিবেচনায় এর ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, এই নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্যেও দেশে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছেনা । 
তবে এর মধ্যেও আশার আলো নতুন ঘোষিত সিটি কর্পোরেশন ময়মনসিংহ । সেখানে পলিথিন ব্যবহারে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর অবস্থানের কারনে শতভাগ না হলেও প্রায় আশিভাগ শহর এখন পলিথিন মুক্ত । জনসাধারণকে পলিথিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে সেখানে লাগানো হয়েছে বড়বড় সাইনবোর্ড । চলছে পলিথিন ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারী সাধারণ ব্যবসায়ীদের উপর মুহুর্মুহু অভিযান । কাচা বাজারে এক কেজি সবজি কিনলে ব্যবসায়ী সে সবজি দিচ্ছেন টিস্যু কাপড়ের ব্যাগে । 

সবুজ শ্যামলিমার ছায়াতলে অবস্থিত ছোট্ট শহর চায়ের রাজ্য শ্রীমঙ্গলকে পলিথিন মুক্ত করতে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা । তাঁরা বলছেন জনসচেতনতার জন্য প্রয়োজন মাইকিং, সভা, সেমিনার ও আইনের কঠোর প্রয়োগ । প্রয়োজন অবাধ্য ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা । প্রয়োজন পলিথিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য কাগজের ঠোঙা, টিস্যু কাপড়ের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ, পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা । তাদের প্রনোদনার ব্যবস্থা করা, তাদের পুরস্কৃত করা ও সর্বপরি ছোট্ট সুন্দর শ্রীমঙ্গলকে পলিথিন মুক্ত ঘোষনা করা । 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪০২ বার

Share Button