» পাক ভারতের নাপাক যুদ্ধ

প্রকাশিত: ০২. মার্চ. ২০১৯ | শনিবার

মুনিম সিদ্দিকী

বিগত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের সর্বক্ষেত্রে যে নাজুক অবস্থা বিরাজমান, তাতে করে সে দেশ ধ্বংসের দিকে ধাবমান হচ্ছিলো।

এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পাকিস্তানি জনতা আর নেপথ্যের কিংমেকারগণ দ্বি-দলীয় শাসনের বৃত্ত থেকে বের হয়ে নতুন মুখ হিসাবে ইমরান খানকে ক্ষমতাসীন করে।

ক্ষমতার হাল ধরার পর পাকিস্তানের অন্তস্বার শূন্য প্রায় দেউলিয়া অর্থনৈতিক অবস্থার বাস্তবতা অনুধাবন করার পর, ইমরান খানের সামনে একটি মাত্র লক্ষ্য অর্জনের বিষয় নির্ধারিত হয়, দেশকে অর্থনৈতিক মহাবিপর্যয় থেকে উদ্ধার করা।

সেই লক্ষ্যে ইমরান পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন, ইমরান খান বুঝতে পারেন তার পূর্বসূরী সরকার প্রধানগণ উপমহাদেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের বরকন্দাজ হিসাবে ভূমিকা রাখার কারণে, বিশাল অংকের মার্কিন অর্থনৈতিক সাহায্যে তার দেশ পরিচালিত হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো যারা মার্কিনীদের মিত্র ছিলো, তারাও পাকিস্তানকে উদার হস্তে সাহায্য করেছিল।

সে মার্কিনীদের কাছে এখন আর পাকিস্তানীদের এক কানাকড়ি মূল্য নেই, কারণ বর্তমানে উপমহাদেশে তাদের চির বৈরী প্রতিবেশী ভারত এখন উপমহাদেশে মার্কিনীদের বিশ্বস্ত বরকন্দাজে পরিণত হয়েছে, পাকিস্তানের বাজারের চেয়ে অনেকগুণ বড় বিশাল বাজার ভারতে থাকার জন্য ইহুদি খৃষ্টান পুজিবাদী কিংমেকারগণ পাকিস্তানের চেয়ে ভারতকে বাণিজ্যিক মৈত্রী দেশ হিসাবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

কাজেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী পাকিস্তানকে ব্যবহৃত কনডমের মতো ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করেছে। এই বাস্তবতায় মার্কিনিরা আর আগের মত পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সাহায্য করবেনা, বরং ভারতকে খুশি রাখতে পাকিস্তানকে নানাবিধ চাপে ফেলতে থাকবে।

এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে ইমরান খান বিকল্প পথে তার দেশের অর্থনৈতিক দুরাবস্থা কাটিয়ে দেশকে সম্বৃদ্ধির পথে পরিচালিত করতেই সারা বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রগুলোর কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন, যাকে বিরুধীরা ভিক্ষা করা বলে উপহাস করছেন।

তুরস্ক আর সৌদিদের অর্থনৈতিক সাহায্যে আশ্বাসে যখন পাকিস্তানের অর্থনীতি মোড় পরিবর্তনের লক্ষণ পরিলক্ষিত হলো, ঠিক সেসময় ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশের গাড়ি বহরের উপর কাশ্মীরী স্বাধীনতাকামীরা আত্মঘাতী আক্রমণ চালিয়ে বসে।

পাগল আর শিশু যারা রাজনীতি বুঝেনা, তারও বুঝতে পারছে যে পাকিস্তানের এই নাজুক অবস্থার মধ্যে পাকিস্তানিরা আত্মহত্যার মতো এ আকাম করতে যাবেনা। কারণ এমনিতে তাদের দেশ ধ্বংসের তলানিতে দাড়িয়ে আছে তার উপর মরার উপর খাড়া ঘা দিতে এমন কাজ পাকিস্তান করতে পারেনা।

অন্যদিকে ভারতের জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি, বিজেপি ভারতের মুসলিম বান্ধব সরকার নয়, বিজেপির আমলেই ভারতের মুসলিমদের নাগরিক অধিকার মারাত্মক ভাবে লংঘিত হচ্ছে, কাজেই পাকিস্তান এমন কাজ করবে না যাতে ভারতের নাগরিকগণ মোদীর পক্ষে ভোট দানে অনুপ্রাণিত হয়।

এইসব অন্তঘাতি ঘটনা থেকে যারা ফায়দা উঠায় তারাই এইসব ঘটনার নেপথ্যে নায়ক হয়ে থাকে। কাজে একদিন সত্য প্রকাশ পাবে এই ঘটনার পিছনে কারা ছিলো ।এই ঘটনা ইমরানের সমস্ত পরিকল্পনা আর প্রচেষ্টায় পানি ফেলে দিলো, ইমরান খানের পাকিস্তান আশংকায় পড়ে যায়, মোদী তার নির্বাচনে জিতে আসার জন্য পাকিস্তানে কোন না কোন আক্রমণ পরিচালনা করবেই করবে ।

সাকা চৌধুরী বলেছিলেন, যখন ধর্ষণ প্রতিহত করা যাবেনা তখন ধর্ষণ উপভোগ করাই উত্তম। অন্তত মানসিক দহন থেকে তো কিছুটা মুক্তি পাওয়া যাবে।

পাকিস্তান ভেবে নিয়েছে ভারত আগের মতো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে তাদের জনগণের মনে পরিতৃপ্তি এনে দেবার চেষ্টা করবে।

কিন্তু ভারত যে সকল আন্তর্জাতিক আইন কানুন তোয়াক্কা না করে আমেরিকানদের অনুকরণে পাকিস্তানের ৮০ কিলোমিটার ভিতরে এসে বিমান হামলা চালিয়ে বসে পাকিস্তানের ইজ্জত ছিড়াফাড়া করে ফেলবে তা পাকিস্তানের চিন্তাভাবনায় ছিলোনা।

ইমরানখান যখন মিডিয়ার কাছে বলছিলেন যে তারা সময় হলে এর প্রতিশোধ নিবেন, তা আমার কাছে অক্ষমের আর্তনাদ বলেই মনে হয়েছে, কারণ কয়েকদিন আগেই ইমরানখান হুংকার দিয়ে জানিয়েছিলেন, তার দেশ আক্রান্ত হলে বিনা ভাবনা চিন্তায় তারা ভারতকে পালটা আক্রমণ করবেন। প্রয়োজন হলে আণবিক বোমারও ব্যবহার করবেন। ভারতের বিমান হামলার পরবর্তীতে যখন কোন পালটা আক্রমণ করিলেন না তখনই বুঝা গেল যে তিনি শুধু প্রচারণা যুদ্ধ চালিয়ে ছিলেন।

আমি পাকিস্তানকে যত নির্বোধ ভেবে নিয়েছিলাম, বাস্তবে পাকিস্তান যে নির্বোধ নয় তা প্রমাণিত হয়েছে।

অভিজ্ঞ বাঘ শিকারী বাঘকে বন্দুকের রেঞ্জের মধ্যে নিয়ে আসতে যেভাবে ছাগল বকরীকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করে, পাকিস্তানও ভারতের বায়ুযানকে পাকিস্তানের গানারের রেঞ্জের ভেতর নিয়ে আসতে সে টোপ ব্যবহার করে।

ভারত রাতের অন্ধকারে বিমান হামলা চালায়, পাকিস্তান তা না করে প্রকাশ্যে দিনেরবেলা তার যুদ্ধবিমানকে ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আকাশে পাঠিয়ে কয়েক জায়গায় বোমা ফেলতে থাকে। পাকিস্তানী আকাশ যোদ্ধাদের এই হিম্মত দেখে ভারতের বায়ুসেনাদের ইজ্জতের ধুতিতে মারাত্মক টান পড়ে, কভি নেহি কভি নেহি, হুংকার দিয়ে ভারতের বায়ুসেনা তাদের যুদ্ধ বিমান নিয়ে পাকিস্তানি আকাশ যোদ্ধাদের তাড়া করে পাকিস্তানের সীমানায় চলে আসে। আগের পরিকল্পনা আর প্রস্তুতি নিয়ে পাকিস্তানের বিমান বিধ্বংসী গানাররা ভারতের বায়ুসেনার যুদ্ধ বিমানের অপেক্ষায় ছিলো, টার্গেট আসা মাত্র তা নির্ভুল ভাবে এস্তেমাল করে ফেলে। যার ফলে ভারতের দুটি যুদ্ধ বিমান ভুপাতিত হয়, রাজ্যের সাথে রাজকুমারী হস্তগত হবার মত বিমানের পাইলটও পাকিস্তানীদের হাতে চলে আসে।

নিমিষেই ভারতীয়দের মধ্যে যারা প্রতিশোধের উন্মাদনা রোগে আক্রান্ত ছিলেন, তাদের মন আর চেহারার পাংশু রোগীতে রূপান্তর হয়ে যায়।

তাদের বীরত্বের ধুতি খোলে যায় যায় অবস্থা। আর ইমরানখান পরিস্থিতিকে তার দেশের অনুকূলে নিয়ে আসতে সক্ষম হোন।

কথায় কথায় যে পাকিস্তানীদের আমরা মোটা বুদ্ধির মানুষ বলে পরিহাস করে আসছি, এই ঘটনায় প্রমাণিত হলো তারা মোটা বুদ্ধিওয়ালা হলেও সব সময় মোটা বুদ্ধি দ্বারা পরিচালিত না হয়ে কখনো কখনো সুক্ষ্ম বুদ্ধিও ব্যবহার করতে পারে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৯ বার

Share Button

Calendar

May 2019
S M T W T F S
« Apr    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031