» পাবলিক লাইব্রেরির অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক

প্রকাশিত: ০৩. আগস্ট. ২০১৯ | শনিবার

আবুল কালাম আজাদ

মৌলভীবাজারে পাবলিক লাইব্রেরির অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন ।জেলা প্রশাসক হিসেবে পদাধিকার বলে তিনি লাইব্রেরির সভাপতি । সৈয়দ মুজতবা আলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি সৌমিত্র দেব এর সঙ্গে নিজ দপ্তরে এক সৌজন্য সাক্ষাতকারে তিনি এই তথ্য জানান । জেলা প্রশাসক বলেন, লাইব্রেরির অচলাবস্থার স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি ৬ আগস্ট মঙ্গলবার সভা ডেকেছেন । লাইব্রেরির আঙিনা পরিস্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন । আশা করছেন এই সভায় আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা সমাধান বেরিয়ে আসবে ।

দেশের প্রাচীন পাঠাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম মৌলভীবাজার গণগ্রন্থাগার (পাবলিক লাইব্রেরি)। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ষাটের দশকে চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি এখন অর্থসংকটে চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। টাকার অভাবে নতুন বই কেনা যাচ্ছে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতাও নিয়মিত পাচ্ছেন না। প্রায় দুই লাখ টাকা বিদ্যুতের বিল বাকি। বাকি থাকে পত্রিকার বিলও।

গণগ্রন্থাগার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৬ সালে মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। জেলা পরিষদ আঙিনায় গোল পুকুরের পশ্চিম দিকে টিনের চারচালা বাংলোর মতো ঘরে এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতি বুধবার ও জাতীয় ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত গ্রন্থাগারটি সাধারণ পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

তবে প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগে গ্রন্থাগারটি দুই দফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথমবার ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়। এ সময় হারিয়ে যায় অনেক দুর্লভ বই। আর ১৯৮৪ সালে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় আট ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেলে এর ছয় হাজার বই নষ্ট হয়ে যায়।

২০১০ সালে টিনের ঘরের জায়গায় গ্রন্থাগারের জন্য ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন উঠলেও বাড়ছে না পাঠকের চাহিদামতো নতুন বই। বর্তমানে গ্রন্থাগারটিতে ১৬ ধরনের ১০ হাজার ৩১৭টি বই আছে। প্রতিবছর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে ৫০ থেকে ৬০টি বই কেনা যায়। অর্থসংকটে এর বাইরে নিজেদের পছন্দ ও পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বই কেনা সম্ভব হচ্ছে না। লাইব্রেরির সাধারণ সদস্য ২২, আজীবন সদস্য ৩২৫ ও ছাত্র সদস্য ৮১। এখানে দৈনিক পত্রিকা রাখা হয় ছয়টি। গ্রন্থাগারটি পরিচালনার জন্য একজন গ্রন্থাগারিক, একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক, একজন পিয়ন ও একজন ঝাড়ুদার আছেন। এই চারজনের মাসিক বেতন-ভাতা আসে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু এই বেতন-ভাতা তাঁরা নিয়মিত পান না। সদস্যদের টাকা ও বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া অনুদান দিয়ে এই গ্রন্থাগারের খরচ চালানো হয়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৯২ বার

Share Button

Calendar

February 2020
S M T W T F S
« Jan    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829