» পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৬. জুন. ২০২০ | শনিবার

সৌমিত্র দেব

পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় । পদবী দেখেই বোঝা যায় কুলীন ব্রাম্মণ পরিবারের সন্তান । কিন্তু যারা তাঁর সঙ্গে একবার অন্তত পরিচিত হয়েছেন, তারা জানেন, তাঁর মধ্যে না আছে কৌলীন্যের অহমিকা, না আছে সাম্প্রদায়িক ভেদ বুদ্ধি ।তিনি একজন উদার, সংস্কৃতিবান ও মনুষ্যত্ব বোধ সম্পন্ন মানুষ ।


তিনি ছাত্র রাজনীতি করেছেন, মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন । মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বেশীর ভাগ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি । আব্দুল গাফফার চৌধুরীর নাটকে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে রূপ দান করে প্রশংসিত হয়েছেন বিশ্বব্যাপী । ফরিদপুরের কৃতি সন্তান পীযুষ ষাটের দশকের শেষদিকে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তখন বাঙালি জাতীয়তাবাদের জোয়ারে উত্তাল সারাদেশ । একই সঙ্গে ছাত্রদের মধ্যে পড়েছে সমাজতান্ত্রিক চেতনার প্রভাব । তিনি ছাত্রলীগ করতেন, পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট সংস্কৃতি সংসদের সঙ্গে । সে কারণে রাজনীতিতে ছিল তাঁর স্বচ্ছ ও নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি ।


এ ছাড়া টেলিভিশনে পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক অবদান আছে । তিনি সত্তরের দশকে ছিলেন বিটিভির জনপ্রিয় অভিনেতা । সেই সময়ের ধারাবাহিক নাটক সকাল সন্ধ্যার শাহেদ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি এ দেশের ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন । পরবর্তীকালে বিটিভির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । তারও পরে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন কবি, নাট্যকার, আবৃত্তিকার ও সংগঠক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে এমএ করেছেন। এ দেশে তাঁর মতো উচ্চশিক্ষিত ও সরকারি উচ্চ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অভিনেতা খুব কম আছেন ।


বছর তিনেক আগে তিনি সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন ।ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার জাগরণের মাধ্যমে বিভাজন দূর করার প্রত্যয় নিয়ে ২০১৮ সালের ৭ জুলাই আত্মপ্রকাশ করে নতুন এই সংগঠন সম্প্রীতি বাংলাদেশ । বর্তমানে ১২ জন উপদেষ্টা ও ৭৬ জন নির্বাহী সদস্যের এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় । যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে আছেন আরমা দত্ত এমপি , মেজর জেনারেল অব. মোহাম্মদ আলি শিকদার, মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, মেজর জেনারেল অব. জন গোমেজ, ডা. উত্তম বড়ুয়া এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. মামুন-আল মাহতাব (স্বপ্নীল)। কমিটির সদস্যদের নাম ও পদবি দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব । একই সঙ্গে সেখানে প্রতিনিধিত্ব আছে দেশের প্রধান চারটি ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ।


সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে সম্প্রীতি সংলাপের আয়োজন করেছেন পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় । দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সংলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমি তাঁর সহযাত্রী হয়েছি । প্রতিটি অনুষ্ঠানে দেখেছি সম্প্রীতির শক্তি । আমার মনে হয়েছে অল্প কিছু দুষ্কৃতিকারী ছাড়া দেশের বেশীর ভাগ মানুষ সম্প্রীতি চায় । বিশেষ করে আলেম ওলেমাদের মধ্যেও বিপুল সাড়া পড়তে দেখেছি ।সবাই সম্প্রীতি সংলাপে যেতে চান । সম্প্রীতির কথা বলতে চান।


ব্যক্তিগতভাবে পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেছি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি খুব শ্রদ্ধাশীল।তিনি বলেছেন ,টুপি দাঁড়ি ওয়ালা লোক মানেই রাজাকার নন । মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন মাওলানা সাহেব তাঁর জীবন বাঁচিয়েছেন ।তাই তিনি প্রতিটি সংলাপ অনুষ্ঠানে আলেম ও ধর্মগুরুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চান ।
পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কখনো দেখিনি কোন সাম্প্রদায়িক সংগঠনে যুক্ত হতে । হিন্দু মহাজোট, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জাতীয় কোথাও তাকে কাজ করতে দেখি নি ।তবু একটা শ্রেণীকে প্রায়ই দেখি পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মাঠ গরম করতে । কুৎসিত ভাষায় তাকে আক্রমণ করা হয় । সম্প্রীতির এই অগ্রপথিককেই ওরা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ে আঘাত করে । বিষয়টা তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না । ওদের পরিচয়টাও খোলাসা হয়ে যায় । আমরা এখন বুঝি , পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাঁরা যেমন সম্প্রীতির বিপক্ষে তেমনি বাংলাদেশেরও বিপক্ষে । প্রায় ৫০ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধে পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে যারা পরাজিত হয়েছিল তারাই এখনও বিভিন্ন নামে এ ধরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৩০ বার

Share Button

Calendar

September 2020
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930