» পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় আমার প্রিয় একজন মানুষ

প্রকাশিত: ২৩. সেপ্টেম্বর. ২০২০ | বুধবার

সৌমিত্র দেব

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় আমার প্রিয় একজন মানুষ । আজ তাঁর জন্মদিন । রেডটাইমস পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাই ।

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে  আমি প্রথম দেখি আমার বালক বয়সে টেলিভিশনের পর্দায় । বিটিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘সকাল সন্ধ্যা “র শাহেদ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সাড়া জাগিয়েছিলেন । আমি জানতাম তিনি একজন অভিনেতা । থিয়েটার আন্দোলন করেন । কয়েকটা সিনামাতেও অভিনয় করেছেন । পরবর্তীকালে জীবিকার প্রয়োজনে রাজধানী ঢাকা শহরে এলে তাঁর আরো অনেক গুণের সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ ঘটে ।

১৯৯৩ সালে আমি ঢাকায় প্রথমবারের মতো কালজয়ী লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মদিন পালনের উদ্যোগ নেই । মুজতবা আলীর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমাণ্ডার এবং সাবেক এম পি মাহবুবুর রব সাদী বীর প্রতীক ছিলেন আমার চাচা । তাঁর ধানমণ্ডির বাসায় বসে অনুষ্ঠানে কাকে কাকে অতিথি করবো সেই তালিকা করছিলাম । হঠাত সাদী চাচা বললেন , আলোচক হিসেবে পীযূষকে রাখতে পারো । আমি বললাম , কোন পীযূষ ? চাচা ধমক দিয়ে বললেন , কবি ও অভিনেতা পীযূষকে তুমি চেনো না? আমি এবার অবাক ।বললাম অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিনি । কিন্তু কবি পীযূষ কে ? চাচা বুঝিয়ে বললেন অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ই কবি পীযূষ । তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গেও জড়িত । ব্যস, এরপরে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় কখন যে আমার অগ্রজ হয়ে গেছেন সে খবর আমি নিজেও জানি না । এখন আমি তাঁর আরো অনেক গুণের কথা অবলীলায় বলতে পারি । ্কারণ তিনি হয়ে উঠেছেন আমার আপঞ্জন।


পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় জন্ম নিয়েছেন ২৩সেপ্টেম্বর১৯৫০ সালে ,ফরিদপুরে । তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু: হয় এস.এম.মডেলস্কুল,গোপালগঞ্জে । পরবর্তীকালে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।সেই সময়ে ছাত্র রাজনীতি করার কারণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সরাসরি সাহচর্যে কাজ করার সুযোগ লাভ করেন । স্বাধীনতার আগে ষাটের দশকের শেষ ভাগে অগ্নিগর্ভ সময়ে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । তিনি যেমন  ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । এক ই সঙ্গে আবার কাজ করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট সংস্কৃতি সংসদের সঙ্গেও । তাই বাম রাজনীতিকেও দেখেছেন কাছ থেকে । কিন্তু পরবর্তী কালে আর সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন নি। মিডিয়া ও কালচারাল এক্টিভিটিসকেই  বেছে নিয়েছেন কর্মক্ষেত্র হিসেবে ।

ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে  তিনি স্নাতকোত্তর করেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ।
মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি  । স্বাধীনতার পর তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য হয়েছিলেন । ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশী বিদেশী চক্রান্তে যখন বাংলা সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছিল তখন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়রাই এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিলেন । গড়ে তুলেছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট , গ্রাম থিয়েটার প্রভৃতি সংগঠন । সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন ষ্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি । এছাড়া ছিলেন
বাংলাদেশ গ্রুপথিয়েটার ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনিস্টিটিউট বাংলাদেশ শাখার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ।
তিনি বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।শুরুতে উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও পরবর্তীতে নির্বাহী সভাপতি।
বর্তমানে একুশে টেলিভিশনের সি ই ও পীযুষ বিটিভির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন । তারও পরে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা-১৬টি।(মৌলিক সাহিত্য,গল্প,উপন্যাস,নাটক,কবিতা ও ছড়া)
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কলাম/নিবন্ধ প্রকাশিত: ১৯৮৬ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত চলমান।(মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে বাংলাদেশের প্রথম সারির প্রতিটি গণমাধ্যমে নিয়মিত কলাম লেখা)
তিনি সম্পাদনা করেছেন দৈনিক লাল সবুজ পত্রিকা। (প্রকাশকাল১৯৯০-৯১সাল)

তিনি ,উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ং বিশ্বছাত্র-যুবসম্মেলনে যোগ দেন ।(সম্মেলনে ১৭৫টি দেশের ২৫লক্ষ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।)
মিশরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন । ২০১৪ সালে কলকাতায় ভারত সরকারের আমন্ত্রণে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর নেতৃত্বে অংশ নিয়েছিলেন পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় ।

১৯৮৫ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে গড়েওঠা বাংলাদেশ যুবঐক্যের তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং যুব সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা।বাংলাদেশের সকল যুবসংগঠন নিয়ে যুব সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল।

প্রখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি ’ নাটক নির্মাণ ও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ।
নাটকটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের চিহ্নিত ও মুখোশ উন্মোচন করা হয়। তিনি প্রথম বঙ্গবন্ধুর চরিত্রিকে ফুটিয়ে তোলেন ।
নাটকটি লন্ডন ও নিউইয়র্কে একাধিকবার মঞ্চায়িত করা হয়।
২ ০০৪ ও ২০০৫ সালে লন্ডন, নিউইয়র্ক ও ঢাকায় একাধিক বার তাঁর জীবন নাশের চেষ্টা করা হয়।

ব্যক্তি জীবনে একজন আধুনিক , উদার ও অসাম্প্রদায়িক মনের অধিকারী পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ।   সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য  গঠন করেছেন সম্প্রীতি বাংলাদেশ। তিনি এর আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছেন ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮৭ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031