» পোশাক রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ, আশাবাদী উদ্যোক্তারা

প্রকাশিত: ১৭. আগস্ট. ২০২০ | সোমবার

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ । করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে একটু ধাক্কা খেয়েছেন, ভিয়েতনামের পেছনে পড়ে গেছেন , তবু খুব বেশি চিন্তিত নন ব্যবসায়ীরা ।

তাদের আশা, আগামী ডিসেম্বরে বড় দিন ঘিরে প্রাণ ফিরতে শুরু করবে বিশ্বের পোশাক বাজারে, আর তখনই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাণিজ্য যুদ্ধ, এবং করোনাভাইরাস মহামারীকে কেন্দ্র করে অনেক কোম্পানি চীন ছাড়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের অনেক ব্যবসায়ী।

পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের অনেকে এখনও মনে করছেন, আমেরিকার বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানিতে ভাগ বসানোর একটি ভালো সুযোগ তাদের সামনে আসতে পারে।

তারা বলছেন, মহামারী কোভিড-১৯ গোটা বিশ্ব অর্থনীতিকেই তছনছ করে দিয়েছে। তার প্রভাব রপ্তানি বাণিজ্যেও পড়েছে।

মানুষের আয়-উপার্জন কমে যাওয়ায় পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। ‘খুবই প্রয়োজন (বেসিক আইটেম)’ ছাড়া অন্য কোনো পোশাক কিনছে না কেউ। বড় বড় ফ্যাশন হাউজগুলো এখনও খোলেনি। অনলাইনে কিছু কেনাকাটা হচ্ছে।

এ অবস্থায় চলতি অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও পোশাক রপ্তানিতে মন্দাভাব থাকবে। তবে ডিসেম্বরের বড়দিনকে ঘিরে রপ্তানি ফের ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদী তারা।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২০’ অনুযায়ী, পোশাক রপ্তানিতে একক দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন।

পরিমাণের বিচারে অনেক পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানটি এতদিন ছিল বাংলাদেশের। দেশের মোট রপ্তানির ৮৫ শতাংশের মতো আসে তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। আর ভিয়েতনাম ৩ হাজার কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বলে তথ্য দিয়েছে দেশটির পরিসংখ্যান দপ্তর।

পুরো অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের (২০১৮-১৯) চেয়ে ১৮ দশমিক ১২ শতাংশ কমেছে।

এর মধ্যে মহামারী শুরুর পর ২০২০ সালের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) বাংলাদেশ ৯৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৫০ কোটি ৯১ ডলারের পোশাক।

আর এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভিয়েতনাম।

পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এভিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, আমরা এখন আমাদের মোট ক্যাপাসিটির ৬০-৭০ শতাংশ উৎপাদন করছি। অর্ডার আসছে, তবে কম। বেসিক আইটেমের (অতি প্রয়োজনীয়) পোশাক রপ্তানি হচ্ছে।

বড় বড় ফ্যাশন হাউজগুলো এখনও খোলেনি। অনলাইনে কিছু বেচাকেনা হচ্ছে। বায়ারদের কাছ থেকে আমরা যতটুকু আভাস পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে ডিসেম্বরে বড় দিনকে ঘিরে বিশ্ববাজারে পোশাক কেনাবেচা বাড়বে। আমাদের রপ্তানিও ঘুরে দাঁড়াবে।
পারভেজ বলেন, করোনাভাইরাস মহামারী কারণে সব দেশের রপ্তানিই কমেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন।

চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে চীনের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪৯ শতাংশ। বাংলাদেশের কমেছে ১৮ শতাংশ। বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে যে ভিয়েতনাম দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে, তাদেরও এই ছয় মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি পারভেজ বলেন, প্রতি বছর রপ্তানি বেড়েছে বলেই ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছিল। মহামারীর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে কমে ৩২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

আমাদের এখন প্রধান কাজ হচ্ছে টিকে থাকা। এই মাহামারী ওভারকাম করে, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকা। তাহলে আমরা কোভিড-১৯ মহামারীর কিছু সুফলও হয়ত পেতে পারি। এই সুযোগটিই আমাদের কাজে লাগাতে হবে। সেজন্য সরকার-বেসরকারিভাবে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করে দিতে হবে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে পারভেজ বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। করোনাভাইরাস মহামারীকে কেন্দ্র করে সেই দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে।

“এই অবস্থায় আমেরিকা যদি চীন থেকে পোশাক না কেনে অথবা কমিয়ে দেয়, তাহলে সেই বাজার বাংলাদেশের দখল করার একটা সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। আর যদি সেটা হয়, তাহলে আমেরিকার বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানিতে ভাগ বসানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হবে বাংলাদেশের।”

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়ানোর পর থেকেই একটু একটু করে চীনের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমছিল। গত ডিসেম্বরে উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর সেটি ব্যাপকভাবে কমে যায়।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২ হাজার ৪৮৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে চীন, যা আগের বছরের চেয়ে ৯ শতাংশ কম। আর মহামারী শুরুর পর গত জানুয়ারিতে রপ্তানি কমে যায় ৩৬ শতাংশ।

চীন চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮৯ কোটি ডলার পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ শতাংশ কম।

অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ভিয়েতনাম ৪১৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই সময়ে তাদের রপ্তানি ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমলেও চীনের চেয়ে তা ২৯ কোটি ডলার বেশি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থানের মুকুটটি এখন ভিয়েতনামের।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনকে টপকে ভিয়েতনাম এক নম্বর স্থান দখল করলেও বাংলাদেশ আগের মতোই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে সুখবর হচ্ছে, সেখানে চীন ও ভিয়েতনামের রপ্তানি কমলেও বাংলাদেশের কিছুটা বেড়েছে।

করোনাভাইরাসের বিস্তারের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সচল ঢাকার মিরপুরের একটি পোশাক কারখানা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিকরোনাভাইরাসের বিস্তারের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সচল ঢাকার মিরপুরের একটি পোশাক কারখানা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিজানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২০৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি।
নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ভিয়েতনাম মূলত ‘চারটি কারণে’ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রথমত, মহামারীর কারণে পুরো এপ্রিল মাস বাংলাদেশে কারখানা বন্ধ ছিল। পরের দুই মাস (মে-জুন) সীমিত আকারে কারখানা খোলা ছিল। এই তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) অন্তত ৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হওয়ার কথা, সেখানে রপ্তানি হয়েছে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের। এখানেই বাংলাদেশ সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার পিছিয়ে গেছে।

অন্যদিকে ভিয়েতনাম কোভিড-১৯ মহামারী অনেকটাই সামলে রেখেছে। এপ্রিল-জুন সময়ে তারা আগের চেয়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে। এর মধ্য দিয়েই ভিয়েতনাম টপকে গেছে বাংলাদেশকে।

হাতেমের মতে, দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, ভিয়েতনামের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী চীনা বা হংকংয়ের। সে কারণে যোগাযোগের দিক দিয়ে তারা সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। ৩-৪ দিনের মধ্যে কাঁচামাল চীন থেকে নিয়ে গিয়ে পোশাক উৎপাদন করে দ্রুত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। ফলে বিদেশি ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাছ থেকে বেশি পোশাক কিনছে।

তৃতীয় কারণ হল, তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ তা করতে পারেনি। এর সুবিধা বেশ ভালোভাবেই পাচ্ছে ভিয়েতনাম।

উদাহরণ দিয়ে হাতেম বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করতে গেলে ১৫ শতাংশ ডিউটি (শুল্ক) দিতে হয়। সেখানে ভিয়েতনামের দিতে হয় সাড়ে ৫ শতাংশ। এক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ি।”

তার মতে, ভিয়েতনামের এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় এবং চতুর্থ কারণটি হল শ্রমিকদের দক্ষতা।

“ভিয়েতনামের শ্রমিকদের দক্ষতা আমাদের শ্রমিকের চেয়ে অনেক বেশি। সে কারণে তাদের উৎপাদন খরচ কম হয়। তাদের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল কম। আমরা যেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিল সাড়ে ৮ টাকা দিই, সেখানে তারা দেয় আড়াই টাকা।

“তাছাড়া তারা যেমন কোয়ালিটি বিদ্যুৎ পায়, আমরা কিন্তু এখনও তেমন কোয়ালিটি বিদ্যুৎ পাই না। কোয়ালিটি বিদ্যুৎ মানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। ভোল্টেজ সব সময় একই থাকবে, ওঠা-নামা করবে না, কখনও বিদ্যুৎ যাবে না।”

তবে পারভেজের মত মোহাম্মদ হাতেমও সামনের দিনগুলো নিয়ে আশাবাদী হতে চান।

তিনি বলেন, সরকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় শ্রমিকদের চার মাসের (এপ্রিল-জুলাই) বেতনের ব্যবস্থা করায় পোশাক কারখানার মালিকদের ‘খুবই সুবিধা’ হয়েছে।

“আবার পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। সে কারণেই জুলাই মাসে ৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। এই রপ্তানি গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ২ শতাংশ কম হলেও আগের তিন মাসের (এপ্রিল, মে ও জুন) চেয়ে বেশ ভালো ছিল।”

করোনাভাইরাসের বিস্তারের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সচল ঢাকার মিরপুরের একটি পোশাক কারখানা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিকরোনাভাইরাসের বিস্তারের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সচল ঢাকার মিরপুরের একটি পোশাক কারখানা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিতবে অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের রপ্তানি জুলাই মাসের মত ভালো হবে না- এমন আভাস দিয়ে হাতেম বলেন, “এমনও হতে পারে, এই দুই মাসে পোশাক রপ্তানি জুলাই মাসের অর্ধেকেও নেমে আসতে পারে। কারণ জুলাই মাসে যে রপ্তানি আয় দেশে এসেছে তা মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে যে সব অর্ডার স্থগিত করেছিল বায়াররা, সেগুলোই পুনরায় অর্ডার দেওয়ায় রপ্তানি হয়েছে।
“সার্বিকভাবে বলতে হয়, আমাদের পোশাক রপ্তানির অবস্থা ভালো না। এখন খুবই কম অর্ডার আসছে। যে অর্ডারগুলো আসছে, সেগুলোর প্রাইস (দাম) কম। অনেক ক্ষেত্রে লস দিয়েও আমরা অর্ডার নিচ্ছি।”

তিনি বলেন, মহামারীর কারণে মানুষের আয়-উপার্জন কমে যাওয়ায় পোশাকের চাহিদা কমে গেছে, বিশ্ব বাজার ছোট হয়ে গেছে। কিন্তু সরবরাহের সক্ষমতা আগের মতই আছে।

“অর্থনীতিতে যে কোনো পণ্যের চাহিদা কমে গেলে, সরবরাহ বেশি হলে দাম কমে যায়। বিশ্ব পোশাক মার্কেটেও তাই হয়েছে। তবে এই অবস্থা থাকবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবার পোশাকের চাহিদা বাড়বে; দামও বাড়বে। আমার মনে হয়, ডিসেম্বরের বড় দিনকে ঘিরেই ভালো হতে শুরু করবে।”

এই পোশাক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা যদি সাতটা-আটটা মাস, খুব বেশি হলে একটা বছর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে পারি তাহলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে ফের দ্বিতীয় স্থান পুনরুদ্ধার করতে পারব।”

কোভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কা বাংলাদেশে লাগতে শুরু করে গত মার্চ মাস থেকে, এপ্রিলে পোশাক রপ্তানি কমে মাত্র ৩৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছিল, যা ছিল গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ কম।

বিধিনিষেধ শিথিল করে মে মাসে কলকারখানা চালু করা হয়। ওই মাসে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি কমেছিল ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে প্রবৃদ্ধি কমেছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সার্বিক পণ্য রপ্তানি দশমিক ৬ শতাংশ বাড়লেও পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, “একটি বিষয় কিন্তু আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, কোভিড-১৯ এর প্রভাব শুরু হওয়ার আগে থেকেই কিন্তু আমাদের রপ্তানি আয়ে খারাপ পরিস্থিতি ছিল। প্রতি মাসেই প্রবৃদ্ধি কমছিল।

“মহামারী না এলেও কিন্তু গত অর্থবছরে আমাদের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় ৮-৯ শতাংশ কম হত। কোভিড-১৯ এর ধাক্কায় সেটা ১৮ শতাংশ হয়েছে।”

এখন বিশ্ব পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আহসান মনসুর বলেন, “আমরা অতীতেও দেখেছি, এক-একটি বড় ঘটনা আমাদের পোশাক শিল্পের জন্য সুফল বয়ে এনেছে। সবাই আশঙ্কা করেছিল, ২০০৪ সালে কোটা সুবিধা উঠে যাওয়ার পর বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

কিন্তু সেই কোটা উঠে যাওয়াই আরএমজি’র জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছিল। ওই সময়ের ৬-৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি ৩৪ বিলিয়ন ডলারও ছাড়িয়েছিল।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৪ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031