শিরোনামঃ-


» প্রচুর মেয়ে বন্ধু আমার

প্রকাশিত: ২৯. মে. ২০১৯ | বুধবার

চঞ্চল শাহরিয়ার

প্রচুর মেয়ে বন্ধু আমার। প্রচুর মেয়ে বন্ধুর কারণে মাঝে মাঝে হিমশিম খেতে হয়। কাকে রেখে কাকে নিয়ে ব্যস্ত হই। কাকে দিই মধুর সময়। কেউ তাই অভিমান করে চলে যায়। কেউ রাগ করে দিনের পর দিন মোবাইল ফোন বন্ধ রাখে। কেউ ফেসবুক একাউন্ট ব্লক করে দেয়ার হুমকি দেয়।

আমি অসহায়। মাঝে মাঝে তাই রেস্ট নিই। রেস্ট নিতে দূরে কোথাও বেড়াতে যাই। ফেসবুক বন্ধ রাখি। মোবাইল ফোন বন্ধ রাখি। কারো সাথেই যোগাযোগ করি না। শুধু জোছনা দেখি। শুধু নদীর ঢেউয়ের সাথে তুমুল সখ্যতা।

নদীর ঢেউয়ের কথা মনে হতে আজ এই মুহূর্তে মিতুর কথা মনে পড়ছে। মিতু মানে ইশরাত মিতু। ফেসবুকে পরিচিত মিষ্টি বালিকার নাম। প্রোফাইল পিকচারে তার ছবিগুলো সব সময় অসম্পূর্ণ। মুখটা আড়াল করা। কখনো দুই হাঁটুর মাঝখানে মুখ গুজে বসে থাকা, কখনো জানালায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখার ছবি, কখনো লজ্জা পেয়ে দুই হাতে মুখ ঢাকা, কখনো পুকুরের জলে পা ভেজানো মুখ লুকানো মেয়ে। মোটকথা, মিতুর মুখের সরাসরি কোন ছবি তার প্রোফাইল পিকচারে আমি অন্তত পাইনি। হয়তো ছেলেরা ডিস্টার্ব করে বলে এমন মুখ আড়াল করা ছবি তার। মুখ লুকানোর কারণে তার প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। একবার ভেবেছিলাম ফেক আইডি। তবু তুমুল বিশ্বাসে ম্যাসেজ পাঠাই। লিখি, কিসের এতো লজ্জা? আজ বাদে কাল হবে নাকি তোমার ফুলশয্যা? সাথে সাথে মিতুর রিপ্লাই -দারুণ তো।

এক কথা দু কথায় রাত মোহনীয় হয়ে ওঠে। আমার প্রতি বিশ্বাস জন্মানোর কারণে ওর মোবাইল নাম্বার আমাকে দেয়। আমিও। তারপর রাত জেগে কথা হয় দুজনের।
আমি বললাম, মুখ লুকানো ছবি কেন? দেখতে কি অসুন্দর?

ও বললো, হ্যা।

ঢাকা থেকে চিটাগাং কিন্তু বেশি দূরে না।

ও হা হা করে হেসে দিলো। তারপর বললো – ছেলেরা তো ডিস্টার্ব করেই, আব্বু আম্মু জানতে পারলে আমাকে আস্ত রাখতো না। তাই এমন ছবি দেয়া।

ফেসবুকে ওর বন্ধু সংখ্যা কম। ওর পোস্ট পড়ে কেউ উল্টা পাল্টা কমেন্টস করলেই মিতু তাকে ব্লক করে দেয়।

এ কথা শুনে ঢোক গিলি। মন তবু মিতু মিতু। সময়ে অসময়ে মোবাইল ফোনে ওর ম্যাসেজ। ফেসবুকে সকাল বিকেল চেঞ্জ হওয়া ওর প্রোফাইল পিকচার আমার মনে ঝড় তোলে। কখন রাত গভীর হবে? কখন ওর আবেগ মাখানো ঝলমলে কথা শুনবো? এই ভাবনায় মাতোয়ারা মন।

ঈদ এসে গেছে। মিতু কিছুই বলেনি। আমি তবু ওর জন্য নতুন মোবাইল ফোন কিনলাম। বসুন্ধরা সিটি থেকে কিনলাম দামী থ্রি পিচ। কিনলাম রিচ ব্যান্ড আর ঈদ কার্ড।

আবেগের বসে ঝটপট এইসব ঈদ উপহার কিনে ফেললাম। মিতু এসব নেবে তো? বড় ধরণের ধাক্কা খাওয়ার ভয়ে মুখে ওকে কিছু বলি না। ম্যাসেজ পাঠাই। ঈদ উপহারের কথা জানায়। ও রেগে গিয়ে বলে – এসব কিনে মোটেও ভালো কাজ করো নি। আমি এখনই তোমাকে ব্লক করে দেবো।

আমি ওর কাছে কতো অনুনয় বিনয় করলাম। বললাম, প্লীজ কথা শোন। ও কোন কথায় শুনলো না। মুহূর্তের ভেতরে ও ফেসবুকে আমাকে ব্লক করে দিলো।

রাতটা নির্ঘুম কাটলো। হাজার বার ওর মোবাইল নাম্বারে কল দিলাম। মোবাইল ফোনও বন্ধ। হয়তো অন্য সিম ভরেছে। দিন যায়। আমি মিতুর বিরহে কাতর হতে থাকি। ওর সাথে কাটানো মোবাইল ফোনে মধুর রাতগুলোর কথা মনে পড়ে। ওর পাঠানো ম্যাসেজগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়ি। বন্ধুর ল্যাপটপ থেকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাই। কোন কিছুতেই কোন কাজ হয় না। আমি রমজান মাসে নিয়মিতই রাখি রোজা। এবারও রাখছি। চারিদিকে ঈদের কেনাকাটা। কতো আনন্দ। ঈদ নিয়ে কতো পরিকল্পনা বন্ধু-বান্ধবীর। আমার মন তবু ভেতরে ভেতরে কেমন উদাস উদাস। কিছুই ভালো লাগছে না। মন শুধু মিতু মিতু।

এ জীবনে কতো বন্ধু- বান্ধবী জুটেছে আমার। কেউ কেউ হারিয়ে গেছে পরিস্থিতি আর পরিবেশের কারণে। কারো কথা হঠাৎ হঠাৎ হয়তো মনে পড়ে। তারপর ব্যস্ততা এসে সব মনে পড়া ভুলিয়ে দেয়।

ঈদের দিন। সকাল সাড়ে এগারোটা মনে হয়। বন্ধু-বান্ধবীর সাথে কোলাকুলি, হ্যান্ডসেক, গান শোনা, গল্প,আড্ডা, খাওয়া -দাওয়া চলছে। বাইরে গাড়ির হর্ণ। আমি বাইরে দরোজায় দাঁড়াতে দেখি বিএমডব্লিউ গাড়ি। গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফিরোজা রঙের দামী থ্রি -পিচ পরা এক আকাশের পরী। চোখে সানগ্লাস। মুখে মৃদু হাসি। আমি ওর কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই দামী পারফিউমের ঘ্রাণ। ও হাত বাড়িয়ে দেয়। বলে -ঈদ মোবারক। আমি ইশরাত মিতু…।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৮১ বার

Share Button