» প্রযুক্তি নির্ভর পণ্য তৈরী হতে সেবা

প্রকাশিত: ০৭. জুন. ২০১৯ | শুক্রবার

সমস্ত বিশ্ব এখন হাতের মোঠয় । স্বাধীন বাংলাদেশে পন্য তৈরী হতে ভূক্তার হাতে পৌঁছানো এখন ডিজিটাল ভাবে হচ্ছে । বছর ২/৩ আগেও পণ্যের বিজ্ঞাপন যখন বিলবোর্ড, মুদ্রন সংবাদ মাধ্যমের বিজ্ঞাপনে স্থান করেছে, তা ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে বিজ্ঞাপনের রুপরেখা পরিবর্তন হয়েছে। 

একটি পণ্য যখন তৈরী হয়, ভূক্তার কাছে সরাসরি পৌঁছানোর জন্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল ফোনে এসএমএস, ইলেকট্রোনিক্স মিডিয়া ২৪ ঘন্টা কাজ করছে। মানুষ ক’বছর অগে শপিং এর জন্য সময় বের করতো । বর্তমানে আমাদের দেশেও উন্নত বিশ্বের মত, বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন শপ। বাহারি পোশাক আর নানান বৈচিত্র নিয়ে ফেসবুকের কল্যাণে অনলাইন শপগুলো থেকে, ঘরে বসেই ক্রয়-বিক্রয় করা যায় সব সময় পোশাকসহ নানাধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস, দেশে এবং বিদেশ থেকে । আসছে নগদ টাকার বহনের পরিবর্তনও। মোবাইলে অর্ডার করে পণ্যের পরিমান, দাম সবই মোইল ব্যাংকিং বা বিকাশ, রকেট, এমকেশ ইত্যাদি মাধ্যমে প্রযুক্তি নির্ভর সবই।

মানুষের জীবনে এই বিবর্তনের ধারা আমাদের বাংলাদেশেও প্রচলন ভালো ভাবেই চলছে । বেড়েছে অনলাইন ভিত্তিক ব্যাবসা। কর্মসংস্থান হচ্ছে বহু মানুষের। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  ডিজিটাল বাংলাদেশে এখনো সেসব অনলাইন শপের উপর কোন প্রকার লোন ব্যাংক কর্তৃক  প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়নি ! নাম অপ্রকাশের শর্তে বাংলাদেশ উইমেন্স এন্টারপ্ল্যানার এর একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে ব্যাংকের আবেদনকৃত লোনের জরিপ থেকে জানান,  অনলাইন শপে দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ মালিকানা মহিলাদের।

দেশের বিভাগ, জেলা শহরে এসব অনলাইন শপ পরিচালনা করতে ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স রিটার্ন ইত্যাদিসহ সবই করতে হয়। নতুন আইন অনুযায়ী সাইনবোর্ড, ব্যানারের সময় এবং সাইজের উপর নির্দিষ্ঠ পরিমান চার্জ সরকারি ব্যাংকগুলোতে জমা দিতে হয়। সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন নিতে হয়। সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী তিন বছরের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্সের রিটার্ন কপি, ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্র, বায়োমেট্রিক সম্পন্ন নিজ নামের মোবাইল নাস্বার, প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী ঠিকানা (প্রমাণসহ), অস্থায়ী হলে ভাড়াটিয়া নামার চুক্তিপত্র (নিম্নতম ৫ বছরের),  প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক একাউন্ট স্টেটম্যান্ট (কমপক্ষে ১ বছরের), মজুদ পণ্যের টাকার পরিমান ইত্যাদি হাতে থাকলে তবেই একজন নারী উদ্যোক্তা লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তারপর ১ বছরের ব্যাংকিং স্টেসম্যান্ট এবং মজুদ পণ্যের উপর ঋণ নির্ধারিত হবে ! যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ নারীদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা প্রদানে সচেষ্ট, সমঅধিকার নিয়ে নারী জাগরণ চলছে, সেক্ষেত্রে এমন প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কতটা নারী উদ্যোক্তা বান্ধব হবে ?  এ সব নারী উদ্যোক্তা ৩ বছর ব্যবসা চালাতে পারলে হবে । কিন্তু প্রাথমিক সহায়তা যদি সরকারি পৃষ্টপোষকতায় না হয় তবে  অদূর ভবিষ্যতে দেশে ফ্যাশন ডিজাইনার গড়ে ওঠা কী সম্ভব ? তাতে কি পোশাক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ? পেশাক শিল্প কী বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে ভূমিকা রাখবেনা ?

আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রযুক্তি নির্ভরতা নিয়ন্ত্রণ করছে বেশীর ভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠান গুলো । বিক্রয় ডটকম প্রথম বাংলাদেশে যে সাড়া জাগিয়েছে তা সত্যি অকল্পনিয়। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও বিক্রয় ক্ষমতার অদৃশ্য মান নিয়ন্ত্রণ করছে চমতকার ভাবে। তবে এই মাধ্যমটিও বিদেশের। আমাদের দেশের স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও গড়ে ওঠেনি পরিকল্পিত প্রযুক্তির ব্যবহার! তাই বিদেশি প্রতিষ্ঠান শুধু পণ্য ক্রয় বা বিক্রয়ে নয় বরং প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসার ধারা প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বাংলাদেশে নিজস্ব প্রযুক্তিগত সেটেলাইট এর মাধ্যমে দেশ সমৃদ্ধ হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৬ বার

Share Button

Calendar

September 2019
S M T W T F S
« Aug    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930