» প্রসঙ্গ নারীর ক্ষমতায়ন

প্রকাশিত: ১০. সেপ্টেম্বর. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

মীরা মেহেরুন

নারী মায়ের জাত একথা সত্যি, “মা” মানেই এক সম্মানীয় সামাজিক অবস্থান যা ধর্মীয় বিধান দ্বারাও স্বীকৃত। কিন্তু “মা” মানে এই নয় যে সে একজন দেবী- তাদের খাওয়া- পরা, চাওয়া-পাওয়া, ইচ্ছে-অনিচ্ছে, পারিবারিক-সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার অধিকার নেই।

এবং এখানেই নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নটি উঠে এসেছে বারবার।

‘নারীর ক্ষমতায়নে’র বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের সমাজে র ৯০ শতাংশ মানুষের কোনো ধারণা নেই । নারী ক্ষমতায়িত হচ্ছে বা যারা ক্ষমতার বাইরে থেকে কাজ করছেন তাদের অধিকাংশেরই ধারণা ক্ষমতায়ন মানে উর্ধতনের যে কোনো ধরণের সন্তষ্টিঅর্জন । এই ধারণা যদি সঠিক হতো তাহলে প্রত্যেক গৃহবধূ তার পরিবারে নির্যাতিত-অবহেলিত- উপেক্ষিত-বঞ্চিত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে ক্ষমতায়িত হতো।

বিষয়টি আসলে সেখানে নয়, ক্ষমতায়িত হতে হলে মেধা এবং কর্মদক্ষতা দিয়ে প্রমাণ করতে হয় , শরীর- সৌন্দর্য ভিত্তিক ক্ষমতা স্থায়ী হয় না তার ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে।

সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোর দিকে চোখ রাখলে ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে যা চাকরিজীবী নারী- পুরুষ সকলেরই কম বেশি জানা। এসব ক্ষেত্রগুলোতে মেধাবী, অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী এবং অ-মেধাবী লোকজনও ঢুকে পড়ে রাজনৈতিক তোষামোদী বা বিভিন্ন অপকলাকৌশলে।

অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী বা অ-মেধাবীদের ( যারা রাজনৈতিক বা ক্ষমতার আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে অর্জনটি লুফে নেয়)সঙ্গে সর্বপ্রথম কনফ্লিক্টটা শুরু হয়ে যায় মেধাবী দের সঙ্গে। এবং সেক্ষেত্রে তারা কিভাবে যেন একজোট হয়ে যায় । এমনকি কর্তৃপক্ষও তাদের পক্ষ নেয় অলিখিত কারণে।

এবং যারা এসব অফিসিয়াল পাপিয়াদের অপকর্মে একমত না হয় তাদের কপালে নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন-দুর্যোগ আর হয়রানি এবং তারা ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের চারপাশ ঘিরে বসে বোঝাতে সমর্থ্য হয় যে অন্যরা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বিপরীত স্রোতের মানুষ!!

পাপিয়ারা তাদের কর্মপ্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ করে দ্বিতীয় প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করে এভাবে–এসব পঁচা মগজ ভ্যানিটি ব্যাগে ঢুকিয়ে তারা তিনতারা পাঁচতারা হোটেল গুলোতে ঘুরে ঘুরে আরো ক্ষমতায়িত হয়।

আবারও বলছি, নারী মায়ের জাত, সম্মানের দাবীদার।
এবার বলুন সম্মান-ক্ষমতা অর্জনের সঠিক প্রক্রিয়া আসলে কি!!!!!

সরকারি অফিসে আমার দেখা ভুরি ভুরি ঘটনা আছে যার একটি কেসস্টাডির কথা উল্লেখ করবো–

একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন-ব্যক্তিত্বসম্পন্ন- মোহমুক্ত একজন কর্মকর্তা যার নাম বললে পাঠক বন্ধুরা সকলেই চিনতে পারবেন যিনি বিভিন্ন সরকারের আমলে বিভিন্ন লোভনীয় অফার পেয়েও তা গ্ৰহণ করেননি তাঁর মতাদর্শ ও মোহমুক্ত জীবনাচারণে আত্মনিষ্টতার কারণে। পরবর্তীতে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক হয়েছিলেন । তাঁর আরো অনেক পরিচয় আছে । তাঁর একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছি। আমার একটি রিসার্চের কাজে তাঁর সাক্ষাৎকার নিতে গেলে তিনি তার সেই নোংরা ক্ষমতাধর পাপিয়াদের কথা বললেন। তাঁর স্ত্রীও একজন সরকারি কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় সরকারি কোয়ার্টারে অবস্থান করতেন । পরবর্তীতে তাঁর বেতন এবং থেকে পেনশন থেকে তার বাড়ি ভাড়া কেটে নিয়ে তাঁর পেনশন আটকে দেয়। তিনি হয়তো সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্ৰস্থ হয়েছেন কিন্তু ভাস্বর হয়ে আছেন একজন খ্যাতিমান তারকা হিসেবে, হারিয়ে গেছে কিন্তু পুরুষ পাপিয়া-নারী পাপিয়ারা।

কর্মক্ষেত্রে নারী পাপিয়ারা ভয়াবহ হয়ে ওঠে অপরাপর নারী সহকর্মীর প্রতি। আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন- নির্মোহ নারীদের কেউ কেউ এসব পাপিয়াগংদের অত্যাচার মেনে নেয় রুটি-রুজির কারণে , আবার কেউ কেউ আত্মসম্মানকে প্রধান মনে করে ইস্তাফা দিয়ে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার বোধকে লালন করে বেঁচে থাকে।

নারীর ক্ষমতায়নের ইস্যুটির ওপর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনেক বেশি গুরুত্বারোপ করে আসছেন।

তাঁর ইচ্ছের সম্মানে সর্বপ্রথম আসুন আমরা “ক্ষমতায়নে”র সঠিক সংজ্ঞাটি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিই।

দ্বিতীয়ত, তোষামোদ কারী , সুযোগসন্ধানী, লোভী, মনস্ত্বাত্বিক বিকারগ্ৰস্ত, অসৎ, খন্ডিত চরিত্রের অফিস প্রধানদের ভূমিকা সম্পর্কে জবাবদিহিদার আওতায় আনা হোক।

অহংকার হয়ে উঠুক নারীর অলঙ্কার। দৃঢ়তা, মেধা-জ্ঞানচর্চা, নীতিবোধ, কর্মদক্ষতা নিয়ে নারী এগিয়ে যাক আলোর পথে । নারী হয়ে উঠুক আলোর মশালচী এক আলোর পথযাত্রী।

এসব চর্চার অর্জনের মাধ্যমেই কেবল নারীর সঠিক ক্ষমতায়ন সম্ভব। আমরা চাই নারী-পুরুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই দেশটা অনেক দূর এগিয়ে যাক। কারণ এ দেশের অর্জনের ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে উঠে এসেছে এমনই এক প্রত্যাশা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩৬ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031