» ফণীর তাণ্ডব শেষ,নিহত ৫

প্রকাশিত: ০৪. মে. ২০১৯ | শনিবার

দুর্বল হয়েই বাংলাদেশে ঢুকেছিল অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী । তবু বিভিন্ন জেলায় গাছ ভেঙে ও ঘরচাপা পড়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন।

নোয়াখালীতে ২ শিশু, ভোলায় ১ নারী, লক্ষ্মীপুরে ১ বৃদ্ধ আর পটুয়াখালীতে নিহত হয়েছেন ১ তরুণ।

এসব জেলায় সহস্রাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

নোয়াখালীতে ঝড়ে নিহত হয়েছে দুই শিশু। এছাড়া পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে চার শতাধিক ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।

সুবর্ণচর উপজেলা নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, ভোরের দিকে ঘরচাপা পড়ে চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে মো. ইসমাইল (২) নিহত হয়।

একই সময় চরজব্বর ইউনিয়নে অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এছাড়া চরওয়াপদা ও চরজব্বর ইউনিয়নে ঝড়ে গাছপালা ও শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, সকাল ৯টার দিকে গাছের ঢাল পড়ে কাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবু হানিফের মেয়ে নাজমুন নাহার (১২) নিহত হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হামিদুর রহমান বলেন, ঝড়ে চার শতাধিক ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আড়াই শ ঘর।

ভোলায় ঘরচাপা পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। আর শুধু সদর উপজেলায় দুই শতাধিক বাড়িঘর বিধস্ত হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেন জানান, শনিবার সকালে দক্ষিণ দিঘলদি এলাকায় ঝড়ে ঘর ভেঙে পড়লে রানী বেগম (৪৫) নামে এই নারী চাপা পড়ে নিহত হন।

রানী দক্ষিণ দিঘলদি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সামসুল হকের স্ত্রী।

বঙ্গোপসাগরের দ্বীপজেলা ভোলায় শুক্রবার রাত থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে মাটি নরম হওয়ায় ঝড়ো হাওয়ায় এসব ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে।

ইউএনও কামাল বলেন, দনিয়া, কাতিয়া, ইলশা, দক্ষিণ দিঘলদিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া বিস্তীর্ণ এলাকায় ফসল, রাস্তা-ঘাট ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দক্ষিণ দিঘলদি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইফতারুল আলম স্বপন জানান, শুধু তার ইউনিয়নেই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলার ইউএনও নূরুল আমিন বলেন, তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে সকালে লালমোহনের কচুয়াখালী চর থেকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে একটি ট্রলার ডুবে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কচুয়াখালী চর থেকে জেলে নাছির উদ্দিন বলেন, “শনিবার সকালে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মাইনুদ্দিনে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে চার-পাঁচজন আহত হন। তবে কেউ নিখোঁজ হয়নি।”

ভোলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচির উপ-পরিচালক সাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, ভোলায় বাতাসের গতিবেগ ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। এখনও ৭ নম্বর সংকেত বহাল রয়েছে। কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক বলেন, তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাননি।

লক্ষ্মীপুরে নিহত হয়েছেন এক বৃদ্ধ। আহত হয়েছে ১০ জন। বিধ্বস্ত হয়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি।

রামগতি উপজেলা র্নিবাহী র্কমর্কতা (ইউএনও) রফিকুল হক বলেন, ঘরচাপায় চরআলগী ইউনিয়নের নেয়ামতপুর এলাকায় বেয়াইবাড়ি বেড়াতে এসে আনোয়ারা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

ঝড়ে রায়পুর ও রামগতিসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। মেঘনার পানির উচ্চতা চার-পাঁচ ফুট বেড়ে যাওয়ায় জেলার রামগতি, কমলনগর, সদর ও রায়পুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

পটুয়াখালীতে এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মনসাতলী এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আহত হন মোটরসাইকেল আরোহী হাবিবুর রহমান মুসুল্লি (২৫) নামে এই তরুণ।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর রহমান বলেন, গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আহত হলে হাবিবকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

হাবিব কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ওরকা পল্লীর বাসিন্দা হারুন মুসুল্লির।

এ দুর্ঘটনায় আরও দুই জন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

কুয়াকাটা পৌরমেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, হাবিব মোটরসাইকেলে করে যাত্রী বহন করেন। যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাতাসের তীব্রতায় একটি রেইনট্রির ডাল ভেঙে পড়লে তারা আহত হন।

চাঁদপুরে দেড় শতাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, শিলারচর, খাসকান্দি, মান্দের বাজার গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বহু গাছ-পালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় পাঁচজন আহত হলেও তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার রাঢ়ী জানান, তার ইউনিয়নে চার-পাঁচজন ঘর ভেঙে আহত হয়েছেন।

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী বেগম জানান, হাইমচর ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের চরউম্মেদসহ কয়েকটি চরাঞ্চলে প্রায় ৪০টি বসতঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৩ বার

Share Button

Calendar

August 2019
S M T W T F S
« Jul    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031