শিরোনামঃ-


» বঙ্গবন্ধুভক্ত একজন ডঃ মুরাদ হাসান

প্রকাশিত: ১৫. আগস্ট. ২০২০ | শনিবার

সালেহ মওসুফ
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের প্রাণের স্পন্দন । যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে তারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসবে এটাই তো স্বাভাবিক । আমার কাছে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসা মানে তার আদর্শকে ধারণ করা, মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে লালন করা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো আমাদের দেশে কিছু কিছু মানুষ এই মহান নেতাকে নিয়ে অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি করেন। কিছু মানুষ সুবিধা পাওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু নামটি বিক্রি করেন কিন্তু আসলে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন না। এমন লোকের সংখ্যা আওয়ামী লীগের মধ্যেও কম নয়। খন্দকার মুস্তাকের মতো ঘাতকেরা আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। প্রয়াত রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন আওয়ামীলীগ একটি অনুভূতির নাম আমি বলবো আমার কাছে বঙ্গবন্ধু একটি বিশাল অনুভূতির নাম।


বঙ্গবন্ধু এমনই একজন মহান নেতা যাকে নিয়ে সমালোচনা তো দূরে থাক লেখার যোগ্যতাও আমার আছে বলে আমি মনে করি না। আজ শুধু বঙ্গবন্ধুর জন্য নিবেদিত প্রাণ একজন সৈনিকের কথা লিখবো।
আমার সৌভাগ্য আমি সেরকম কিছু মানুষের সাথে মিশেছি, কথা বলেছি, কিছু সুন্দর মুহূর্ত একসঙ্গে কাটিয়েছি যারা বঙ্গবন্ধুকে অনেক ভালোবাসেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মনেপ্রাণে ধারণ করেন।
আমার লিখাটি নিছক কাউকে খুশী করার জন্য নয়, বরং বঙ্গবন্ধু অনুভূতির কিছু লোককে জীবিত থাকা অবস্থায় মূল্যায়ন করে সঠিক মানুষের কাছে নেতৃত্ব প্রদানের একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র ।
আজকের এই লিখায় আমি যাকে নিয়ে লিখবো তিনি হলেন বর্তমান সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডঃ মুরাদ হাসান। মুরাদ হাসান জামালপুর ৪ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ। তিনি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার এক অভিজাত পরিবারের সন্তান । আমি তার সেই বাড়িতেও গিয়েছি। তার পিতা আইনজ্ঞ মতিউর রহমান তালুকদার ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয় নেতা।
মুরাদ হাসানের সাথে আমার পরিচয় ঘটে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হুমায়ূন আহমেদের হিমুখ্যাত অভিনেতা আরেক বঙ্গবন্ধু প্রেমী ফজলুল তুহিনের মাধ্যমে । ডঃ মুরাদ হাসানের সাথে বিভিন্ন আলাপচারিতায় আমি তাকে জানতে চেষ্টা করি। মেধাবী এই মানুষটি প্রতিটি ক্ষেত্রে তার যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। পেশায় একজন ক্যানসার চিকিৎসক( oncologist) মুরাদ হাসান সুন্দর গান করতে পারেন। আপনারা অনেকেই টেলিভিশনে তার কন্ঠে ” যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই ” গানটি শুনেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ডঃ মুরাদ হাসানের কথা আমি আবেগ তাড়িত হয়ে শুনেছি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উনি মায়ের মতো ভালোবাসেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি ডঃ মুরাদ হাসানের গভীর আস্থা ।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করে। একটি ঘটনার কথা আজ খুব মনে পড়ছে। আমার কাব্যগ্রন্থ “শব্দে শব্দে ভালোবাসা” বইটিতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলাম। তখন ডঃ মুরাদ হাসান তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিবেন। দিনটি ছিলো তার দায়িত্ব গ্রহণের অভিষেক অনুষ্ঠানের দিন। অনেকগুলো গণমাধ্যম উপস্থিত ছিলো। বন্ধু তুহিনের সাথে আমিও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাই। আমি একটি কোণায় চুপচাপ বসে ছিলাম। এই দৃশ্যটি গুণী এই মানুষটির চোখ এড়িয়ে যায় নি। আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনেই আমার কাব্যগ্রন্থ থেকে “বঙ্গবন্ধু” কবিতাটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললেন এবং আমাকে আবেগাপ্লুত হয়ে বুকে জড়ালেন। এই হলেন ডঃ মুরাদ হাসান। বঙ্গবন্ধুর প্রতি এই মানুষটির আনুগত্য অপরিসীম ।তার হৃদয়ে এই মহান নেতার প্রতি যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আমি দেখেছি তার কোন তুলনা হয়না।
জামালপুর তথা গোটা বাংলাদেশের কৃতি সন্তান বঙ্গবন্ধু আদর্শের উজ্বল সৈনিক ডঃ মুরাদ হাসানের যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলে আমি আশাবাদী । মুরাদ হাসানেরা বেঁচে থাকলে বেঁচে থাকবেন বঙ্গবন্ধু, বেচে থাকবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ।।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৭৬ বার

Share Button