» বঙ্গবন্ধু ও আমাদের কবিতা নিয়ে এক সুন্দর সন্ধ্যা

প্রকাশিত: ১১. আগস্ট. ২০১৯ | রবিবার


জোহরা রুবী

গোধূলির আলোয় ছুটে যাচ্ছি, উদ্দেশ্য কবিতা ক্যাফে। সূর্যের শেষ আলোটায় মাখামাখি সব দেয়াল গুলো, প্রাসাদ গুলো, অট্টালিকাগুলো। উঁচু উঁচু দালানগুলো ঘেঁষে ম্লান আলো গুলোর অবস্থান। মোলায়েম ম্লান আলোয় ছুটে যাচ্ছি, সামান্য পথ কিন্তু ফুরবার জো নেই। গরু এবং গাড়ীর জ্যাম লেগেছে। আসন্ন কোরবানির ঈদ,ব্যস্ততম ঢাকাশহর, যানজটের শহর অতি পরিচিত বলে অপেক্ষায় কার্পণ্য করলাম না। শ্রাবণ সন্ধ্যার মিশে যাওয়া আলোটির হাত ধরে আমি পৌঁছে গেলাম কাঁটাবনের কবিতা ক্যাফেতে। ডোরটা খুলতেই প্রিয় মানুষটির মুখ আমাকে চমকে দিয়েছিল,দু’হাতে জড়িয়ে সিক্ত করেছিল ভালবাসায়, জড়িয়ে নিয়েছিল মমতার চাদরে।কাকলী চৌধুরী, চমৎকার লেখনী শক্তি। অভিনব শব্দ চয়নে যার জুড়ি মেলা ভার। শব্দ ভান্ডারে যিনি সমৃদ্ধ। এক কথায় সচেতন ও সাহসী কবি। পাশ ফিরতেই সৌমিত্র, পরিচয়ে পেলাম পলাকে,চট করে চোখে পড়ার মত একটি মেয়ে, আচরণ আরও বেশী নজর কাড়ে,মিষ্টি মেয়েটির গৃহ বন্ধু সৌমিত্র। একগাদা দায়িত্বের বোঝা বহন করে সুখে বসবাস করার মন্ত্রটা ভালই রপ্ত করেছে। অকপটে, সাবলীলভাবে গুছিয়ে বলল আমার দেয়া নাম লাবণ্য।

“যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই”

একটি চরম উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ। উজাড় করা ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। কতটা চুলচেরা অনুভবে নিজেকে গড়িয়ে নিয়ছিলেন বলার অপেক্ষা রাখেনা। ষোল কোটি মানুষের হৃদয়টা যেন পড়ে নিয়েছিলেন একনজর। সারাক্ষণই মনে হয় আমার মৌলিক গান। মনে হয় এরকম আমারও চিন্তা ছিল আমি এভাবেই ভেবেছিলাম। একটি দরদমাখা কন্ঠে গানটি শুনতে পেয়ে অধিক তৃপ্ত হয়েছিলাম। কোকিল কন্ঠী গায়িকা মিষ্টি মেয়ে সানাম সুমির গলায়।

International Poetry association আয়োজিত Bangabondhu & our Poetry অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন সৌমিত্র দেব।অসাধারণ এক আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শুরু করেছিলেন, জাগো বাহে কোন্ঠে সবাই — ধ্বনিত হওয়ার সাথে সাথেই যে যার আসনটি দখলে নিয়েছিলেন। ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত আওয়াজটি যেন সৈয়দ শামসুল হকের উপস্থিতি মনে করিয়ে দিল। সবার নিমগ্ন অনুভূতি জমা পড়ল শ্রদ্ধার কাতারে। একটি অভিনব ও অনবদ্য সূচনা হয়েছিল আয়োজনটির।মায়াময় শ্রাবণ সন্ধ্যাটি ছিল অন্য দিনের চেয়ে আলাদা। একটু বিশ্রামের নিয়তে থেমে ছিল শ্রাবণধারা, পরিষ্কার আকাশে ছিল নীল মেঘের চলাচল। অবিরাম ছুটে চলা মেঘের পরশে আমরাও যেন উজ্জীবিত ও উৎসাহিত হয়ে উঠেছিলাম। উপভোগ করেছি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে। একের পর এক গুণী কবিদের আবৃত্তি ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা, ভাবনা ও স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটে চলছিল মনোরম উপস্থাপনা। এই অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আনোয়ার চৌধুরী। সৃজনশীল, সাহিত্যানুরাগী মানুষদের মাঝে নিজেকে ধন্য মনে করছিলেন, সরল স্বীকারোক্তি, সত্যি মুগ্ধ করেছিল। ভালবাসাময় পরিবেশটি যেন তাঁর মূল্যবান বয়ানের স্পর্শে সতেজ হয়ে উঠেছিল।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশপ্রেম, শিল্প সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবার আহ্বান জানিয়েছেন। কবিতার প্রশংসা করেছেন, আবৃত্তির প্রশংসা করেছেন,কবিদের উৎসাহিত করেছেন, যা আমার মতে উদারতার বহিঃপ্রকাশ।
কবিতা পরিবেশন করেন ইউসুফ রেজা , মীর আকরাম , নাহিদা আশরাফি , মাহবুবা ফারুক, সোহাগ সিদ্দিকী, জ্যাক ডেনভার, কাকলী চৌধুরী জোহরা রুবী , প্রমুখ ।

অপূর্ব এক বক্তব্য উপহার দিয়েছিলেন কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সেলিম সাঈদ। এই অনুষ্ঠানের একটি যোগ্য বাণী তিনি আমাদের উপহার দিয়েছিলেন। তার অনুভবে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে কবিতা, গান ও সংস্কৃতি চর্চা হয় পৃথিবীর আর কোন নেতাকে নিয়ে হয়নি এটা তার বিশ্বাস, সত্যি আমারাও তার সাথে একমত।বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটিও ছন্দময়, কাব্যময়। তাঁর অমৃত বাণীর পরশে এখনও আমরা শিহরিত হয়ে উঠি,চারটি যুগ অতিবাহিত হলেও তাঁর অনবদ্য বয়ান বাঙালীকে সচেতন ও বিদ্রোহী করে তোলে। তাই বিধাতার কাছে এই মিনতি করি, পনেরোই আগষ্টের শোক যেন আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি।

সৌমিত্র তনয় সৌভাগ্য।
সহনশীলতার দুর্দান্ত দৃষ্টান্ত।
নীরবে নিঃশব্দে একটি প্রজাপতি যেন সারা আয়োজনটি জুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছিল।একটু পর পর মায়ের হাজিরা নিত।মায়ের উপস্থিতি যেন প্রজাপতিটিকে আরও সজীব ও প্রানবন্ত করে তুলত । ভবিষ্যৎ মানে আগামীর সৌভাগ্যকে এক নজর দেখতে পেলাম।বাবা মায়ের ভাল গুনগুলো নিয়ে বড় হবে,এই কামনা রইলো।

ভিডিও ও ছবি ধারণে যিনি ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করেছেন তাকে আসলে নেপথ্যের নায়িকা বললেই চলে,একটানা দাঁড়িয়ে একের পর এক ছবি তুলছিলেন আর ভিডিও করছিলেন। পলাকে এক সমুদ্র ভালবাসা। সঞ্চালক মাশরুরা লাকীকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর উপস্থাপনার জন্য। এই এসোসিয়েশন এর উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।

জোহরা রুবী ঃ কবি ও শিক্ষক

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩৭ বার

Share Button

Calendar

August 2019
S M T W T F S
« Jul    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031