» বঙ্গভঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ও বৃটিশ কূটনীতির প্রভাবে হিন্দু- মুসলিম ভেদনীতি

প্রকাশিত: ০৫. আগস্ট. ২০১৯ | সোমবার

– মেহেরুননেছা

বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি খর্ব করার উদ্দেশ্যে বড়লাট লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনায় এক চক্রান্তের আশ্রয় নেন। এ উদ্দেশ্যে মুসলিম অধ্যুসিত পূর্ববাংলা ও উত্তরবঙ্গ এ দুটি প্রদেশকে পৃথক করার এক নীলনক্সা রচিত হয়। এই ভেদনীতি ও বৃটিশ কূটনীতির পক্ষে মুসলিমদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে নতুন প্রদেশ দু’টি গঠিত হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে যার ফাঁদে পা রেখেছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহসহ কিছু ভুস্বামী এবং শিক্ষিত মুসলিম গোষ্ঠী।
অপরদিকে রবীন্দ্রনাথ এই ভেদনীতির বিপক্ষে অবস্থান নেন সভা-সমিতি- মিছিল করার মাধ্যমে। তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন কিছু মুসলিম নেতা এবং বুদ্ধজীবী। তাঁরা হলেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মুহম্মদ ইউসুফ, মৌলবী সামসুল হূদা, লিয়াকত হোসেন, মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী প্রমূখ। রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন সভাসমাবেশে সভাপতিত্ব করে বক্তৃতা করেন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে। কবিতা,নাটক,বাউল, জারি,সারি, ভাটিয়ালি, রামপ্রসাদী এসব গান প্রচার ও মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে তাঁর জাতীয়তাবাদী প্রতিবাদের ক্ষেত্রটি স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর পল্লী জাগলে সমগ্র জাতি জাগবে। তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বাঙ্গালী জাতি ঘোষণা করে শুধু বৃটিশ উৎপাদিত কাপড়ই নয় তাদের লবণ, মনোহারি দ্রব্যসহ বৃটিশ শাসনকে তারা বর্জন করবে যদি বঙ্গভঙ্গ রদ না হয়। রবীন্দ্রনাথ নিজে মিছিলে উপস্থিত থেকে পাড়ায়- মহল্লায় ঘুরে ঘুরে উচু- নীচু- ধনী- দরিদ্র- হিন্দু- মুসলিম নির্বিশেষে সকলের হাতে রাখী পরিয়ে দেন জাতীয়তাবাদী ঐক্য সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তবুও ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর কার্যকর হলো ইংরেজ সরকারের বঙ্গভঙ্গের আদেশ। এভাবে তৎকালীন বৃটিশ সরকার উপমহাদেশে প্রলোভনের ফাঁদ পেতে কখনো হিন্দুর বিরুদ্ধে মুসলিম, মুসলিমের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করেছে আর বিষবৃক্ষ রোপণ করেছে তাদের কলোনিয়াল স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে যার করুণ উদাহরণ প্রিয়া সাহাদের মতো কেউ কেউ। এরকম কোটিখানেক উদাহরণ রয়েছে এদেশে মুসলিম গরিব পরিবারের উপর মুসলিম প্রভাবশালীদের অত্যাচার খুন- ভূমিদখল- মামলা-হয়রানি- ধর্ষণ-উচ্ছেদ এসবের চিত্র যা দুর্বলের ওপর সবলের আধিপত্য। ওইসব নির্যাতিত মুসলিমরা না থানা-পুলিশে, না কোর্টে,না রাজনীতিবিদ কারো কাছে নালিশ করার জায়গাটাও পায় না, যেখানে প্রিয়া সাহারা তবু আওয়ামীলীগের কাছে, ট্রাম্পের কাছে নালিশ করার সুযোগ পায়।
সেই থেকে এই উপমহাদেশের ভারত- বাংলাদেশে পুড়ছে বৃটিশ কর্তৃক প্রজ্জলিত বর্ণবৈষম্যের আগুনে যা আজো নেভানো গেল না, ভেদনীতির অন্ধকার ঘোচানো গেল না এই দু’ দেশের শিক্ষা-দীক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান- বিজ্ঞানের আলো দিয়ে ,যদিও এই দু’ দেশের দুই সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাথা।
আসুন না, হিন্দু- মুসলিম ভেদনীতি পরিত্যাগ করে ঠাকুরের পদযাত্রায় সামিল হই, আবার দাঁড়াই অসাম্প্রদায়িক একই ছাতার ছায়াতলে তলে, নতুন ভাবনায় দেশটাকে এগিয়ে নিই নতুন করে!

প্রিয় বন্ধুরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনাগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের সহজাত এক অভিব্যক্তি থেকে লেখাটি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৪৬ বার

Share Button

Calendar

February 2020
S M T W T F S
« Jan    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829